চলতি আমন মৌসুমের শেষ সময় এখন । মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ধান। আর ক’দিন বাদে ধান কাঁটার মহা উৎসবে মেতে উঠবেন কৃষক পরিবার। বাড়ির উঠান গুলো কৃষাণ/কৃষাণিদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যে বিনা- ১৭ আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করছে। চলছে ধান কাঁটার ব্যাপক প্রস্তুতি। কৃষকের চোখে মুখে এখন শুধু স্বপ্ন আর স্বপ্ন।
Manual6 Ad Code
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটে আগাম বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে কৃষকরা। এ জাতের ধান রোপণের ১১০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায় এবং উত্তোলনের পর রবি ফসল হিসেবে সরিষা, আলু বেগুন, মূলাসহ বিভিন্ন শাক সবজির আবাদ করা সম্ভব।
Manual3 Ad Code
জুলাইয়ের শেষের দিকে চারা রোপন করে অক্টোবরের শেষে ধান ঘরে তোলা যায়।
কম সময়ে চাষ করা যায় বলে খরচও হয় অনেক কম। তাই বিনা উদ্ভাবিত স্বল্প সময়ের জাত বিনা-১৭ ধান এরই মধ্যে এ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সোমবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায় এ জাতের ফলন একরে প্রায় ৬০-৭০ মণ। যা আমনে চাষ হওয়া গতানুগতিক জাতের চেয়ে একরে ১০-১৫ মণ বেশী।
কথা হয় উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষক আলহাজ্ব ফজলুল হক মন্ডলের (৬৫) সাথে তিনি জানান , এ মৌসুমে দেড় একর জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করেছি, আশাকরছি ৯০-১০০ মণ ধান উৎপন্ন হবে। আর দু’একদিনের মধ্যে ঐ জমির ধান কেটে এবং আগাম আলু চাষ করব।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ বছর ১১হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অর্জিত হবে ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ হয়েছে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সম্পা আকতার বলেন, বিনা-১৭ জাতের ধানসহ বেশ কয়েকটি ধানের জাত রয়েছে। যেগুলো গতানুগতিক ধান চাষের একমাস আগে তোলা যায়। ফলে ঐ জমিতে তেল জাতীয় ফসল সরিষা, সূর্য্যমূখী সহ আগাম রবি শষ্য চাষ করা যায়। তাই এ জাতীয় ধান চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।