ছায়াপথের বাইরে গ্রহের লক্ষণ!

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ 

Manual3 Ad Code

মহাকাশে মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের বাইরে প্রথম বারের মতো কোনো গ্রহের লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সূর্যের চারদিকে যেমন গ্রহগুলো প্রদক্ষিণ করে, সেভাবে বিভিন্ন নক্ষত্র ঘিরে ঘুরতে থাকা প্রায় ৫ হাজার গ্রহ এর আগে শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সেগুলোর সবই মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথে দেখা গেছে। এই প্রথম বারের মতো ছায়াপথের বাইরে কোনো গ্রহের লক্ষণ শনাক্ত করা হলো। খবর বিবিসির।

 

Manual2 Ad Code

 

মেসিয়ের ৫১ গ্যালাক্সিতে থাকা এই সম্ভাব্য গ্রহটিকে আবিষ্কার করেছে নাসার চান্দ্রা এক্সরে টেলিস্কোপ। মেসিয়ার ৫১ নক্ষত্রপুঞ্জকে এর প্যাঁচানো আকৃতির জন্য ওয়ার্লপুল বা ঘূর্ণি ছায়াপথ বলেও বর্ণনা করা হয়। পৃথিবী যে নক্ষত্রপুঞ্জে রয়েছে, সেই ছায়াপথ থেকে এটির দূরত্ব ২ কোটি ৮০ লাখ আলোকবর্ষ (অর্থাত্ আলো যে গতিতে ভ্রমণ করে, সেই গতিতে গেলে এই গ্রহটিতে পৌঁছতে ২ কোটি ৮০ লাখ বছর সময় লাগবে)।

 

নক্ষত্র থেকে আলো বিকিরিত হতে থাকে। কিন্তু যখন কোনো নক্ষত্রের সামনে দিয়ে গ্রহ প্রদক্ষিণ করে, তখন সেই আলোর কিছু অংশ ঢেকে যায়, সেটির এক্সরে রশ্মি বিকিরণ বাধাগ্রস্ত হয়। তখন সেটির সামনে থাকা গ্রহটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়, যা টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এর আগে হাজার হাজার গ্রহ শনাক্ত করা হয়েছে। হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ইন কেমব্রিজের ড. ডি স্টেফানো বিবিসিকে বলেন, আমরা যে পদ্ধতিতে কাজ করছি, এটাই হলো এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ছায়াপথে থাকা গ্রহ-নক্ষত্র খুঁজে বের করার কার্যকর উপায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন, তা থেকে ধারণা করছেন যে, এই সম্ভাব্য গ্রহটির আকার হবে শনি গ্রহের মতো। যে নিউট্রন স্টার বা ব্ল্যাক হোল ঘিরে এটি ঘুরছে, সেটির সঙ্গে দূরত্ব সূর্য থেকে শনির দূরত্বের প্রায় দ্বিগুণ। তবে গবেষকরা স্বীকার করছেন, এই বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে তাদের আরো তথ্য-উপাত্ত দরকার।

 

যদিও বিজ্ঞানীরা এটাও বিবেচনায় রেখেছেন যে, আলোর বিকিরণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে যে, হয়তো কোনো গ্যাস ও ধুলোর মেঘ সেটির সামনে পড়তে পারে, যা এক্স-রে রশ্মি বিকিরণে বাধা দিয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা খুবই কম বলে তারা মনে করেন। কারণ যেভাবে আলোর বিকিরণ কমে গেছে, সেটি কোনো গ্যাসের আস্তরণের কারণে হয়েছে বলে তারা মনে করেন না।

Manual4 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

গবেষকদের একজন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির জুলিয়া বার্নটসন বলেন, আমরা একটি উত্তেজনাপূর্ণ এবং সাহসী দাবি করেছি। আমরা আশা করব, অন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটা সতর্কতার সঙ্গে দেখবেন। আমরা মনে করি, আমাদের পক্ষে শক্ত যুক্তি আছে। বিজ্ঞান যেভাবে কাজ করে, আমরা সেভাবেই কাজ করেছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code