

নিউজ ডেস্কঃ সম্প্রতি টোকিওর সিবুইয়া স্টেশনে ট্রেনের মধ্যে ছুরি হামলা চালানো জাপানি যুবক কিয়োতা হাতুরি (২৪) মঙ্গলবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, তার বহু মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল।
এ কারণেই তিনি হ্যালোইনের রাতকে বেছে নিয়েছেন। কারণ এদিন বহু মানুষ পার্টিতে অংশ নেওয়ার জন্য ট্রেনে ভ্রমণ করে থাকেন।
জুনে তিনি ফুকুউকা প্রদেশ থেকে টোকিও আসেন। বেকার অবস্থায় মানসিক অবসাদের কারণে নানা ধরনের চিন্তা তার মাথায় আসে। এক পর্যায়ে অনেক মানুষকে একসঙ্গে হত্যা করার ভুত চিন্তা আসে তার মনে।
হ্যালোইন উপলক্ষ্যে রোববার বহু মানুষ টোকিও থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকা শিনজুকু যাচ্ছিলেন। সেখানে হ্যালোইন পার্টির আয়োজন হয়েছিল।
হামলাকারী সেই সুযোগটিই ব্যবহার করে। ভিড় ট্রেনে উঠে প্রথমে তিনি কামরার ভেতর আগুন লাগিয়ে দেয়। তার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালান।
সব মিলিয়ে ঘটনায় ১৭ যাত্রী আহত হয়েছেন। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা হাসপাতালে ভর্তি। পালানোর চেষ্টা করলেও টোকিও পুলিশ গ্রেফতার করেছে ওই হামলাকারীকে।
জোকারের পোশাকে ট্রেনে উঠেছিলেন ওই ২৪ বছরের জাপানি যুবক। হ্যালোইন উপলক্ষ্যে অনেকেই নানারকম সাজেন। ফলে প্রথমে কারও সন্দেহ হয়নি তাকে।
ব্যাটমান কমিকসের একটি চরিত্রের আদলে সেজেছিল সে। সবুজ জামা, নীল প্যান্ট ও বেগুনি কোট। মুখে রঙ মাখা ছিল। সিবুইয়া স্টেশনে ট্রেন ছাড়ার পর তিনি কামরায় কেরোসিন ছড়িয়ে সেখানে আগুন লাগিয়ে দেন।
আচমকা এমন ঘটনায় যাত্রীরা বিচলিত হয়ে পড়েন। চলন্ত ট্রেনে অনেকেই পাশের কামরায় পালানোর চেষ্টা করেন। অনেকে জানালা খোলার চেষ্টা করেন। গোটা কামরায় ধোঁয়া হয়ে যায়। সেই সুযোগে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় ওই ব্যক্তি।
আদালতে প্রশাসনকে কিয়োতা হাতুরি বলেছেন, বহুসংখ্যক সাধারণ মানুষকে হত্যা করে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়াই তার উদ্দেশ্য ছিল। তিনি তার মৃত্যুদণ্ডে চান।
জাপানে অপরাধপ্রবণতা কম। বড় অপরাধের সংখ্যাও কম। সাধারণ মানুষ বন্দুক কিনতে পারে না। কিন্তু এর আগেও সেখানে ছুরি নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অলিম্পিক চলাকালীন এক ব্যক্তি একইভাবে ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। আহত হয়েছিলেন ১০ জন।