জাপানের স্কুল শিক্ষার্থীদের গবেষণা এবং আমাদের লজ্জা!

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code
নাদিম মাহমুদ,পিএইচডি গবেষক, জাপান
গত বছর জাপানে বায়োফিজিক্যাল সোসাইটির একটি কনফারেন্সে গিয়েছিলাম। সোসাইটির সভাপতি ছিল, আমার অধ্যাপক। কনফারেন্সের শেষ দিন, যখন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন পোস্টার প্রেজেন্টেশনের পুরস্কারের তালিকায় দেখলাম স্কুলের শিক্ষার্থীদের নাম। বিষয়টি দেখার পর সত্যি আমি অবাক হয়ে গিয়েছি, এই স্কুলে পড়া অবস্থায় তারা কিভাবে গবেষণা করে? কিভাবে পোস্টার তৈরি করে?
আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, আমাদের দেশে স্নাতকোত্তর পাস দেয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করুন, দেখবেন পোস্টার বলতে দেয়ালে সাঁটানো বিজ্ঞাপনের পোস্টারকে বুঝায়।
সায়েন্টিফিক পোস্টার কি, কিভাবে তৈরি করতে হয়, এই বিষয়ের জ্ঞান যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা অনার্স করেও যখন পাই না, ঠিক তখন স্কুলের ছেলে-মেয়েদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি করার এমন চিত্র দেখলে চোখ যে কপালে উঠবে এটাই স্বাভাবিক।
আমার অনেক পরিচিতজন আমাকে বলে, জাপানে স্কুলগুলোতে যেসব ল্যাবরেটরি সুবিধা পাওয়া যায়, সেইগুলো নাকি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পাওয়া যায় না। বিষয়টি হাস্যকর কিনা, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে, তবে জাপানি স্কুলের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার সাথে আমরা যারা উচ্চশিক্ষা নিতে বিদেশে আসি, তাদের যে জানার ফাঁরাক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এই যে সায়েন্টিফিক আর্টিকেলটি দেখছেন, এটি একটি পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত টোকিও কেইকা হাইস্কুলের এক ছাত্রের গবেষণা। যে গবেষণাটি করেছে, সেটিও আধুনিক গবেষণায় অন্যতম হট টপিক। Monto KURODA নামের যে ছাত্রটি গবেষণাপত্রটি কয়েক মাস আগে প্রকাশ করেছে, সেই গবেষণাপত্রটি পড়লেও বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠছে, কিভাবে স্কুলে পড়া এক ছাত্র সায়েন্টিফিক আর্টিকেলে লিখতে পারে? কিভাবে এই কঠিন গবেষণাটি করতে পারে?
এইসব যখন দেখি, নিজের মধ্যে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করে। গবেষণাপত্র কি, তা চার বছরের অনার্স আমরা জানি না, সায়েন্টিফিক আর্টিকেলের কাঠামো কি তা, অনেক শিক্ষকই জানেন না, সেখানে জাপানে স্কুলের ছেলে-মেয়েদের যেভাবে গড়ে তোলা হয়, যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কুলের ছেলে মেয়েদের উৎসাহ দেয়ার জন্য বড়দের আয়োজনে সমান অধিকার দেয়, সেখানে আমাদের তুলনা করা বড়ই বেমানান।
আমরা এখনো শিক্ষা বলতে, অক্ষরজ্ঞানকে বুঝি, স্কুলের পাঠ মানে পরীক্ষায় জিপিএ পাওয়াকে বুঝি, ১০০ তে ৯৪ পেলেও আমাদের অভিভাবকরা মনে করে, ইস আর ৬ নাম্বার যে কেন পেল না, সেখানে তাদের ছেলে-মেয়েদের গবেষণার প্রতি আ্গ্রহ তৈরি করার চিন্তা কোথায় থেকে আসবে? জিপিএ ৫ বলে স্বপ্ন দেখানো বাবা-মা কিংবা শিক্ষকরা কিভাবে জানবে গবেষণার গুরুত্ব? যেখানে রাষ্ট্রই গবেষণাকে গুরুত্ব দেয় না, সেখানে আমাদের সাথে জাপানের স্কুলের তুলনা করা অন্তত শোভা পায় না…
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code