জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি ভোক্তা অধিকার সংস্থা সিসিএস’র

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

Manual6 Ad Code

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিরাজমান থাকা, নতুন দরিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কেরোসিন ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ভোক্তাসাধারণের ওপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করবে। এজন্য দাম বৃদ্ধি নয়, যথা সম্ভব কমিয়ে এনে পরিবহন ভাড়া, পণ্য ও সেবামূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)। বৃহস্পতিবার (০৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সিসিএস এর নির্বাহ পরিচালক পলাশ মাহমুদ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিডের মধ্যে দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ। মোট দরিদ্রের সংখ্যা ৪২ শতাংশ বা প্রায় ৭ কোটি। বেকার হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। এর মধ্যে দফায় দফায় নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে। বহু পণ্যের মূল্য এখনো ঊর্ধ্বগতিতে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অত্যন্ত অমানবিক সিদ্ধান্ত।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে শুধুমাত্র এই পণ্যটির মূল্য ওঠা-নামা করে না, এর সঙ্গে পরিবহন ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য এবং সেবার মূল্যও বেড়ে যায়। ফলে সরকার একটি পণ্যের মূল্য বাড়ালেও ভোক্তাকে বহু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ভার সইতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা ভোক্তা সাধারণের নাভিশ্বাস সৃষ্টি করবে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় পণ্য রপ্তানি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পরবে।

Manual4 Ad Code

দাম বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি কমানোর যে কারণ দেখানো হয়েছে তা একেবারেই অযৌক্তিক। গত প্রায় ৮ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম ছিল। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি মাত্র ৪০ ডলারেও নেমে এসেছিল। কিন্তু তখন দেশে তেলের দাম কমানো হয়নি। প্রতিবেশী অনেক দেশেই জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছিল। কিন্তু দেশের বাজারে না কমিয়ে সরকার বিপুল অর্থ লাভ করেছে। ফলে দেশীয় তেলের বাজার আন্তর্জাতি বাজারের সঙ্গে তুলনা করা অযৌক্তিক।

এছাড়া, এখন আর দেশে পেট্টল ও অকটেন আমদানি করার প্রয়োজন হয় না। দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট দেশেই পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ করে পেট্টল ও অকটেন তৈরি হয়। এই পেট্টল ও অকটেন বিক্রি করেও লাভ করছে সরকার। ফলে কেরোসিন ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি না করে বরং মূল্য কমানোর দাবি জানাচ্ছে সিসিএস।

অন্যদিকে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানির যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাও অনুসরণ করা হয়নি। জনগণের কোনো মতামত না নিয়ে এভাবে একতরফা মূল্য বৃদ্ধি হটকারী সিদ্ধান্ত। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে কেরোসিন ও ডিজেলের দাম যথা সম্ভব কমানোর দাবি জানান সিসিএস নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ।

Manual8 Ad Code

উল্লেখ্য, দেশের বাজারে গতকাল (বুধবার) ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা (২৩ শতাংশ) বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। মূল্য বৃদ্ধির ফলে বুধবার রাত থেকেই ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৬৫ টাকার পরিবর্তে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code