সুন্দরবন দস্যুমুক্ত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ তিন বছর হল সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছে। দস্যুমুক্ত হওয়ায় সুষ্ঠু ও শান্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে বনে। কিন্তু এই দস্যুমুক্ত সুন্দরবন ধরে রাখাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কারণ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কেউ কেউ পূর্বের গডফাদারদের ইন্ধনে দস্যুদের মধ্যে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তাদেরকে সেই পূর্বের পথে ফিরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তবে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন তিন বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তারা যেন ভিন্ন কোন চিন্তা না করেন।

Manual3 Ad Code

যদি করেন তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে পারবেন না। প্রয়োজনে আমরা আরো কঠোর হব। পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করেছি। সুন্দরবনে সুষ্ঠু ও শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যদি আত্মসমর্পণকারীদের কেউ আবার পূর্বের পেশায় ফিরে যান তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতম হতে বাধ্য হব। যারা পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে রয়েছেন তাদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। র‌্যাব ডিজি অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দস্যুদের পুনর্বাসনে যত ধরনের সহযোগিতা করা দরকার তার সবই করা হবে।

Manual6 Ad Code

২০১৫ সাল থেকে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে দু:সাহসিক অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন র‌্যাবের সদস্যরা। তখন র‌্যাবের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। তিন বছর ধরে পরিচালিত অভিযানে শতাধিক দস্যু প্রাণ হারান আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। আত্মসমর্পণ করেন ৩২৪ জন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ১০২ জনকে দেওয়া হয় ঘর, ৯০ জনকে মালামালসহ মুদি দোকান, দেওয়া হয় ১২টি জালসহ মাছ ধরার নৌকা, ইঞ্জিন চালিত নৌকা দেওয়া হয়েছে ৮টি আর গবাদিপশু দেওয়া হয় ২২৮ টি।

Manual7 Ad Code

দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনকে ঘিরে ৩২টি দস্যুগ্রুপ গড়ে উঠেছিলো। এসব গ্রুপের শত শত সদস্য দাপিয়ে বেড়াত বনের ছোট, বড় সকল খালে। বনকে ঘিরে যারা জীবিকা নির্বাহ করত তারা ছিলো দস্যুদের কাছে অসহায়। দস্যুদের চাঁদা না দিলে কেউ বনে প্রবেশ করতে পারত না। এমনকি অপহরণের ঘটনা ছিলো নিয়মিত বিষয়। মুক্তিপণ হিসেবে দস্যুরা লাখ লাখ টাকা দাবি করত। টাকা পেলেই মুক্তি পেত অপহৃত ব্যক্তি। সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। শান্তির সুবাতাস বইছে সুন্দরবনে। অপহরণ ও হত্যার ঘটনা এখন আর নেই। জেলে বা মৌয়ালদের কষ্টার্জিত আয়ে কাউকে ভাগ দিতে হচ্ছে না। নির্ভয়ে পর্যটকরা সুন্দরবনে যাচ্ছেন।

Manual7 Ad Code

কিন্তু শান্তির এই সুবাতাস ধরে রাখাই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ। আইনশ্ঙ্খৃলা বাহিনীর আশংকা আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা কারো প্রলোভনে পড়ে আবার যেন পুরনো পেশায় ফিরে না যায়। সেরকম কিছু অপচেষ্টার খবর তাদের হাতে রয়েছে। তবে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা বলছেন, পুরনো দস্যু পেশায় ফিরে গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের কেউ কেউ বলছেন, আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে অনেক ভালো আছি। পুরনো পেশায় ফিরে যাওয়ার কোন ইচ্ছাই নাই। কারণ পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে আছি। নতুন করে কোন ঝামেলায় জড়াতে চাই না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code