শীতে মাছের খামারের যত্ন নেবেন যেভাবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

কৃষি ডেস্কঃ 

 

শীত এলে মাছ চাষিরা খামারের মাছ নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন। ঠান্ডায় মাছ খাদ্য গ্রহণ অনেকটা কমিয়ে দেয়। এর প্রভাবে অতিরিক্ত খাদ্য পচে গিয়ে পুকুরে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার ফলে পানিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় এবং সর্বোপরি মাছের মৃত্যু ঘটে।

Manual1 Ad Code

আবদ্ধ পুকুরের ঠান্ডা পানিতে মাছ তাদের চলাচল কমিয়ে দেয়। যার ফলে মাছের মেটাবলিজম কমে যায় এবং ক্ষুধা কমে যায়। অন্যদিকে পানি ঠান্ডা থাকায় বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। দিন ছোট হওয়ায় রোদ অল্প সময় পুকুরের পানিতে পড়ে। ফলে পুকুরের পানির তাপমাত্রা কমে যায়।

 

সাধারণত তাপমাত্রা ২৮-৩২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হলে মাছের মেটাবলিজম বা পরিপাক ভালো হয়। এর কম হলে পরিপাক ক্রিয়া কমে যাওয়ায় বৃদ্ধির হার কমে যায়।

অন্যদিকে সূর্যের আলো কম পাওয়ায় প্রাকৃতিক অক্সিজেন উৎপাদন কমে যায়। ফলে মাছের শ্বাসকার্য চালাতে কষ্ট হয়। মাছ খাবি খেতে শুরু করে। তাই অক্সিজেনের অভাবে মাছের মৃত্যু ঘটে।

তাছাড়া পুকুরের পানিতে অবস্থিত ফাইটোপ্লাঙ্কটন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় পানিতে দ্রবীভূত কার্বনডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলেও মাছের শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়।

প্রাকৃতিক খাদ্যকণা যেমন ফাইটোপ্লাংটন বা উদ্ভিদকণা ও জুপ্লাংটন বা প্রাণিকণা কমে যাওয়ায় মাছের খাবার স্বল্পতা দেখা দেয়। ফলে দৈহিক বৃদ্ধি হ্রাস পায়।

শীতকালে পানির পিএইচ স্বাভাবিক থাকে না। মাছের বৃদ্ধির জন্য স্বাভাবিক পিএইচের মান ৬-৮ এর মধ্যে থাকা উচিত। যদি ৬ এর থেকে কম হয়, তাহলে পানি বেশি অম্লীয় হয়ে যাবে এবং মাছ খাবার খেতে অনীহা দেখাবে। আবার ৮ এর থেকে বেশি হয়ে গেলে পানি ক্ষারীয় হবে এবং অতিরিক্ত ক্ষারত্বের ফলে মাছ মারা যেতে পারে।

 

শীত মৌসুমে মাছে বিভিন্ন ধরনের পরজীবীজনিত, ফাঙ্গালজনিত এবং ব্যাকটেরিয়ালজনিত রোগ দেখা যায়।

এসময় সঠিকভাবে মাছের পরিচর্যা না করলে মাছের উঁকুন রোগ, অপুষ্টিজনিত রোগ (চোখ অন্ধ হওয়া, হাড় বাঁকা), ক্ষতরোগ, লেজ ও পাখনা পচা রোগ, ফুলকা পচা রোগ এবং উদর ফোলা রোগে আক্রান্ত হয়ে মাছ মরে যেতে পারে।

 

Manual1 Ad Code

শীতকালে মাছের খামারের পরিচর্যা

পুকুরের পাড়ের উঁচু গাছপালা যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে। যাতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পড়ে। কৃত্রিম উপায়ে পানিতে অক্সিজেনের বৃদ্ধি ঘটাতে হবে।

জাল টেনে, সাঁতার দিয়ে এবং বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পানিতে অক্সিজেনের বৃদ্ধি ঘটাতে হবে আর বড় পুকুর বা ঘের হলে কৃত্রিম অক্সিজেন ট্যাবলেট যেমন-এসআই অক্সিট্যাব ৪ থেকে ৫ কেজি প্রতি একরে সন্ধ্যায় প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Manual6 Ad Code

প্রতি ১০-১৫ দিন অন্তর পুকুরে জাল টানলে স্বাস্থ্য, মাছের সংখ্যা ও ওজন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে। এছাড়া জাল টানার ফলে পুকুরের তলদেশের বিভিন্ন ক্ষতিকারক গ্যাস বের হয়ে যাবে।

ক্ষতিকর গ্যাস অ্যামোনিয়ার প্রভাবে মাছ মারা গেলে প্রয়োজনে এসআই এমোফ্রি-এল অথবা এসআই এমোফ্রি-পি প্রতি শতাংশে ৫ মিলিলিটারের সাথে ২০ মিলিলিটার করে চিটাগুর প্রয়োগ করতে হবে।

অতিরিক্ত শ্যাওলা, ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা, আগাছাসহ সব ক্ষতিকর জলজ উদ্ভিদ পরিষ্কার করতে হবে।

পুকুরের পানির পিএইচ ৬-৮ এর মধ্যে রাখতে শীতের শুরুতে ১৫ থেকে ২০ দিন বা একমাস অন্তর অন্তর পুকুরে প্রতি একরে ৬-৭ কেজি এসআই বায়োজিও প্লাস প্রয়োগ করতে হবে।

পিএইচের মান অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে প্রতি একরে ২ লিটার ভিনেগার বা এসিডিন নামের এসিডিফায়ার প্রয়োগ করতে হবে। পিএইচ একেবারে কমে গেলে এসআই রয়েল জিও প্রতি একরে ১৫-২০ কেজি প্রয়োগ করতে হবে।

পুকুরে উদ্ভিদকণা বৃদ্ধির জন্য অজৈব সার বিশেষ করে ইউরিয়া (বিঘা প্রতি মাসে ৪-৫ কেজি) ও ট্রিপল সুপার ফসফেট (বিঘা প্রতি মাসে ৫-৬ কেজি) ৩ দিন ভিজিয়ে রেখে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও এসআই ফাইটোগ্রো প্রতি একরে ৩-৪ লিটার কড়া রোদের সময় প্রয়োগ করা যেতে পারে।

শীতের সময় মাছের সুষম বৃদ্ধি বজায় রাখতে মূল খাবারের মাছের হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতি কেজি খাদ্যের সাথে উৎকৃষ্টমানের উৎসেচক বা এনজাইম সমৃদ্ধ গ্রোথ প্রমোটর যেমন-এসআই গ্রোফিস প্রয়োগ করা উচিত। এতে মাছের খাবারের চাহিদা বাড়বে। তার সাথে অবশ্যই ভালোমানের ইমিউনোমডুলেটর জেলি যেমন-এসআই রয়েল জেল প্রতিকেজি খাদ্যের সাথে ১০ মিলিলিটার করে মিশিয়ে ১৫-২০ দিন টানা খাওয়াতে হবে।

Manual3 Ad Code

শীতে সাধারণত পুকুরের পানি কমে যায়। তাই প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করতে হবে। মাছের ঘনত্ব স্বাভাবিক বা কম রাখতে হবে।

পুকুরের পানি বেশি দূষিত হলে পানি পরিবর্তন করতে হবে। প্রয়োজনে পানি দূষণ রোধে ভালো মানের দানাদার সয়েল পোবায়োটিক যেমন-এসআই প্রোক্লিন ৬-৮ গ্রাম করে সরাসরি পানিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।

প্রয়োজনে ভালো মানের জীবাণুনাশক (এসআই ক্লোর-টি) ১টি করে ট্যাবলেট প্রতি শতাংশে এবং কপার সালফেট পেন্টাহাইড্রেট-১০% (এসআই ফাইটোক্লিন) ৩০ মিলিলিটার করে প্রতি শতাংশে প্রয়োগ করতে হবে।

শীতের পুরো সময়ে পানির গুণগত মান ধরে রাখতে ১৫ দিন পরপর প্রতি একর পানিতে একটি উৎকৃষ্ট মানের ওয়াটার প্রোবায়োটিক যেমন-এসআই রয়েল প্রো ৫০০ গ্রামের সাথে ২ কেজি লাল চিনি পরিষ্কার পানির সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code