BengaliEnglishFrenchSpanish
‘সমস্যা সম্ভবত আপনারই, মালালার নয়’ - BANGLANEWSUS.COM
  • ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ


 

‘সমস্যা সম্ভবত আপনারই, মালালার নয়’

newsup
প্রকাশিত নভেম্বর ১২, ২০২১
‘সমস্যা সম্ভবত আপনারই, মালালার নয়’

নিউজ ডেস্কঃ 

এতদিন প্রশ্ন ছিল—কবে বিয়ে করবেন মালালা ইউসুফজাই।  নোবেল শান্তি পদক জয়ী পাকিস্তানের এই নারী অধিকারকর্মী বিয়ে করছেন না কেন, এই প্রশ্ন ছিল তার শুভাকাঙক্ষীদের মুখে মুখে। এবার বিয়ে করার পর মালালাকে শুনতে হচ্ছে-বিয়েটা তিনি কেন করলেন?

 

 

৯ নভেম্বর বিয়ে নিয়ে টুইট করার  পর সমালোচকরা মালালার পেছনে লেগেছে। তাকে নিয়ে রীতিমতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হচ্ছে।

এই ট্রলের খোরাক মালালার আগের একটি মন্তব্য নিয়ে। গত জুনে ভগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তরুণী বলেছিলেন, ‘মানুষ কেন বিয়ে করে’।  বিয়ের পর তার ওই মন্তব্য নিয়ে টুইটারে ঝড় চলছে।

তবে মালালাকে যে সমালোচনাই শুনতে হচ্ছে তা নয়।  তার পাশেও দাঁড়িয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে একজন পাকিস্তানের খ্যাতিমান লেখক ও কলামিস্ট বিনা শাহ। তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘মালালা বিয়ে করতে চায় না, লোকে বিচলিত। মালালা এখন বিয়ে করেছে- তাতেও লোকে বিচলিত। সমস্যা সম্ভবত আপনারই, মালালার নয়।’
ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ভগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালালা বলেছিলেন, ‘আমি এখনো বুঝতে পারছি না যে মানুষকে বিয়ে করতে হবে কেন। যদি আপনি একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী করতে চান, তার জন্য কেন বিয়ের দলিলে সই করতে হবে, কেন এটা শুধুই একটা অংশীদারিত্ব হতে পারবে না?’

ওই সাক্ষাতকারে মালালার আরেকটি উক্তি ছিল এরকম— বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়া পর্যন্ত আমি ভাবতাম কখনও বিয়ে করব না। কিন্তু তখন আমি বুঝিনি যে মানুষ চিরকাল একরকম থাকে না, তার পরিবর্তন হয়।
যারা মালালার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের একজন ট্রুথ ফর এসএসআর নামে টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সবারই মত পরিবর্তন করার স্বাধীনতা আছে। আমাদের উচিত তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করা।’

সাদিয়া বশির নামে পাকিস্তান থেকে একজন টুইট করেছেন, ‘মালালার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি। আমিও বিয়ের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম – কিন্তু তার কিছুকাল পরই আমি বিয়ে করি।’

এদিকে মালাকে নিয়ে ট্রল করা লিভিং ডেড নামে একটি টুইটার একাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, আমি ঠিক স্মরণ করতে পারছি, একজন কিছুদিন আগেও বিয়ে বিয়ের সমালোচনা করেছে, পার্টনারশিপকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।  আহ! কত বড় কপটতা।

এ মন্তব্যের পর তিনি বিয়ের পর মালালা ৭ নভেম্বর যে টুইট করেছেন সেটিও জুড়ে দিয়েছেন। যেখানে মালালা লিখেছেন, আজকের দিনটি আমার জীবনে খুবই মূল্যবান। আমি আর আসের অংশীদার হিসেবে হিসেবে গাঁটছড়া বেঁধেছি।  বার্মিংহামে আমাদের বাসায় ঘরোয়া আয়োজনে আমরা বিয়ে করেছি।  আমাদের জন্য দোয়া করবেন।  আমরা সামনের দিনগুলোতে একসঙ্গে পথ চলব।

পাকিস্তান থেকে শাখান নামে একজন উর্দূতে টুইট করেছেন। যার অর্থ দাঁড়ায়— ‘মালালা এক সময় দাড়ি ও বিয়ে দুটোরই বিরোধী ছিলেন, আর এখন তিনি দাড়িওয়ালা একজনকে বিয়ে করেছেন, আমাদের বোকা বানিয়েছেন।’
কুরাত কুয়াসার নামে একজন টুইট করেছেন— ‘আপনি যদি পার্টনারশিপ করেই থাকতে পারতেন তাহলে বিয়ে করার ইচ্ছে হলো কেন?’

মিস্টারসি-স্মোকার নামে একজন টুইট করেছেন, মালালা, আপনি বিয়ে করলেন কেন? এটা ছাড়াও তো আপনি পরিবার গড়তে পারতেন। এই মেয়ে কয়েক মাসে আগেই বিয়ের নিন্দা করছিল। কত বড় ভণ্ডামি!’

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার মেয়ে মালালা ইউসুফজাইয়ের জন্ম ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই। নারী শিক্ষার বিরোধী তালেবান জঙ্গিদের এলাকায় বসে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পক্ষে বিবিসি ব্লগে লেখালেখি করে তিনি যখন পশ্চিমা বিশ্বের নজর কাড়েন, তখন তার বয়স মাত্র ১১ বছর।

নারী শিক্ষার পক্ষে কথা বলায় তাকে পড়তে হয় প্রাণনাশের হুমকির মুখে। ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর সোয়াত উপত্যকার মিনগোরাত এলাকায় ১৪ বছর বয়সি মালালা ও তার দুই বান্ধবীকে স্কুলের সামনেই গুলি করে তালেবান। পাকিস্তানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করে বুলেট সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও পরে যুক্তরাজ্যের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে, মালালার স্বপ্ন সফল করতে ২০১২ সালের ১০ নভেম্বরকে ‘মালালা দিবস’ ঘোষণা করে জাতিসংঘ।

তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানে ফিরতে না পারলেও মালালা যুক্তরাজ্যে থেকে তার লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, জর্ডান, সিরিয়া ও কেনিয়ার মেয়েদের শিক্ষার সহায়তায় গঠন করেন মালালা ফান্ড।
২০১৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিয়ে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘চরমপন্থিরা বই আর কলমকে ভয় পায়। তারা নারীদের ভয় পায়। তালেবানরা ভেবেছিল বুলেট দিয়ে আমাদের স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।’

পরের বছর ভারতের শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান মালালা, যিনি এখন যুক্তরাজ্যেই থাকছেন, লেখাপড়া শেষ করেছেন অক্সফোর্ড থেকে।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।