বাংলাদেশের ‘টিম মহাকাশ’ নাসার স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা – BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, রাত ৯:৩০, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ



 

বাংলাদেশের ‘টিম মহাকাশ’ নাসার স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা

newsup
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৩, ২০২১
বাংলাদেশের ‘টিম মহাকাশ’ নাসার স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

নাসা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গ্লোবাল ফাইনালিস্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশের ‘টিম মহাকাশ’। এর আগে জোনাল রাউন্ড পার হয়ে তারা গ্লোবাল রাউন্ডে অংশগ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেরএই দলটি ‘বেস্ট মিশন কনসেপ্ট’ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়। এতে করে তারা গ্লোবাল ফাইনালিস্ট হিসেবে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে। নাসার মহাকাশ গবেষকরা এবার তাদের প্রজেক্ট বিচার বিশ্লেষণ এবং যাচাই বাছাই করবেন।

 

Manual5 Ad Code

TM Winner

 

Manual3 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (নাসা) আয়োজিত ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ’ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা যা প্রতিবছরই আয়োজিত হয়। মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী প্রতিযোগিরা সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এ সম্মানজনক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকে। বিশ্বের নানা প্রান্তের মেধাবী প্রকৌশলীরা এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের অনুসন্ধানলব্ধ পরীক্ষার আলোকে উদ্ভাবনসমূহ তুলে ধরেন।

Manual5 Ad Code

এ বছরে এই চ্যালেঞ্জের মূল বিষয় ছিল ‘ভার্চুয়াল প্ল্যানেটরি এক্সপ্লোরেশন ভার্সন ২.০’। এর জন্য অংশগ্রহণকারীদের জিওলজি টুলের ইন্টার‍্যাকটিভ থ্রিডি মডেল তৈরি করতে হয়েছে। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভিনগ্রহে গমনকারী মহাকাশচারীদের জন্য সুবিধাজনক প্রযুক্তি তৈরি করা, যেন অন্য গ্রহের উপরিভাগে তাদের চলাচল এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো সহজ হয়।

Manual1 Ad Code

টিম মহাকাশের উদ্ভাবিত টুলটির নাম ‘অ্যাডভান্সড রিগোলিথ স্যাম্পলার সিস্টেম (এআরএসএস)। মূলত মহাকাশচারীরা যখন  ভিনগ্রহের পৃষ্ঠে অবতরণ করেন, তখন তাদের সেখানকার ধূলিকণার জন্য বেশ বেগ পোহাতে হয়। কেননা কম গ্র্যাভিটিতে ধূলিকণাগুলো সহজেই সেখানকার বায়ুমন্ডলে ভাসতে থাকে। চাঁদে পরিচালিত বিগত মিশনগুলোতে মহাকাশচারীরা এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছেন।  টিম মহাকাশ এ সমস্যার সমাধানের জন্যই মূলত কাজ করেছে। তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাসমান ধূলিকণাগুলোকে আটকে ফেলা সম্ভব। শুধু তাই নয়, মহাজাগতিক রেডিয়েশনের হাত থেকে মহাকাশচারীদের স্পেসস্যুটকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে এই প্রযুক্তি।

বিজয়ী দলের সদস্যরা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং  বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি এর শিক্ষার্থী। দলে রয়েছেন বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির বার্নিতা বসাক ত্রিশা ও মো. মোমেনুল হক এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমিত চন্দ, সামির ইমতিয়াজ, শিশির কেয়ারী ও আলভি রওনক।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  সুমিত চন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বিশেষভাবে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে আমাদের দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদারকি করবেন বলে জানিয়েছেন।’

বেসিস এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহযোগিতায় আয়োজিত হয় নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার এবারের আসর। এ বছরের প্রতিযোগিতায় ১৬২টি দেশ থেকে ২৮ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দেন। ২৮টি চ্যালেঞ্জ এবং ২ হাজার ৮০০ এর বেশি প্রকল্প এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আট শতাধিক প্রকল্প জমা পড়েছিল। সেরা ২৭টি প্রকল্প নাসার জন্য বাংলাদেশ থেকে মনোনীত করা হয়।

এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের একটি টিম এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ধাপে বিজয়ী দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code