তার রক্তে উর্বর হওয়া বাংলাদেশের মাটিতেই ফলছে অর্থনৈতিক মুক্তির ফসল

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ মাত্র পঞ্চাশ বছরেই বাংলাদেশ উন্নয়নের মেঠোপথ থেকে মহাসড়কে উঠে যেতে সম্ভব হয়েছে। নানা ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করেই বাংলাদেশ সম্মুখ পানে হাঁটছে। একটা সময় ছিল যখন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বলতেন বাংলাদেশ উন্নয়নের ‘টেস্ট কেইস’। অর্থাৎ বাংলাদেশ যদি এমন প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে উন্নতি করতে পারে তাহলে পৃথিবীর যে কোনো দেশই উন্নতি করতে পারবে। এক সময়ের তাচ্ছিল্যে ভরা অনুন্নয়নের প্রতীক বাংলাদেশ নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে আজ উন্নয়নের ‘পোস্টার চাইল্ড’ তথা রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এ যেন এক অপার বিস্ময়। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ করতে গেলেই বাংলাদেশের আরেক নাম বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা বলতে হবেই। কেননা সব অর্থেই যে তিনিই বাংলাদেশ। সে কারণেই তো কবিরা লেখেন তার নাম ‘স্বতোৎসারিত’। প্রকৃতিও তার নামে আজকাল কবিতা লেখে। কবি মহাদেব সাহার কাছে যেমন তিনি ‘নতুন এক কবিতার’ নাম তেমনি শামসুর রাহমানের কাছে তিনি ‘ধন্য পুরুষ’। বাবলু জোয়ারদারের চোখে তিনি ‘দিঘল পুরুষ’। কবি শামসুর রাহমানের বিশ্বাস, ‘এই নামের ওপর কখনো ধুলো জমতে দেয় না হাওয়া’। ‘যার নামের ওপর পাখা মেলে দেয় জ্যোৎস্নীর সারস’। আমাদের মহাবিজয়ের সেই মহানায়কের নাম প্রতিদিন তাই উচ্চারিত হতে দেখি প্রকৃতির মুখে। কবি মহাদেব সাহার ভাষায়:

আমি আমার সব কবিত্ব শক্তি উজাড় করে

যে-কবিতা লিখেছি তার নাম শেখ মুজিব, এ মুহূর্তে আর কোনো নতুন কবিতা লিখতে পারব না আমি

Manual3 Ad Code

কিন্তু এই যে প্রতিদিন বাংলার প্রকৃতিতে ফুটছে নতুন ফুল শাপলা-পদ্ম-গোলাপ-সেই গোলাপের বুকজুড়ে

ফুটে আছে মুজিবের মুখ

এ দেশের প্রতিটি পাখির গানে মুজিবের প্রিয় নাম শুনি, মনে হয় এরা সকলেই আমার চেয়ে আরও বড় কবি।

শেখ মুজিবের নামে প্রতিদিন লেখে তারা নতুন কবিতা

মুজিব গোলাপ হয়ে ফোটে, লালপদ্ম হয়ে ফোটে

হৃদয়ে হৃদয়ে;

আমার না-লেখা প্রতিটি নতুন কবিতাজুড়ে

Manual8 Ad Code

গাঁথা আছে তার নাম, তার মুখচ্ছবি

লিখি বা না-লিখি শেখ মুজিব বাংলাভাষায় প্রতিটি নতুন কবিতা।

Manual8 Ad Code

(মহাদেব সাহা, ‘শেখ মুজিব আমার নতুন কবিতা’)।

বঙ্গবন্ধু তার হৃদয়কাড়া আন্তরিক উচ্চারণ এবং কর্মের গুণেই এমন করে নান্দনিক এক কিংবদন্তিতে রূপান্তরিত হতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তাই তো তিনি এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আমাদের সব লেখায় এবং আয়োজনে তাই তো তিনিই মধ্যমণি।

স্মরণীয় যে ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরপরই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ‘শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধির’ বাংলাদেশ নির্মাণের কাজে। আর তার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে তিনি শেষ রক্তবিন্দু ঢেলে দিয়ে গেছেন। তার এ আত্মত্যাগ তাই কিছুতেই ভুলার সুযোগ নেই। একেবারেই শূন্য হাতেই তিনি শুরু করেছিলেন সোনার বাংলা গড়তে। বাংলাদেশের পরিশ্রমী সংগ্রামী মানুষ ছিলেন তার স্বপ্নের সারথী। তাই সব চ্যালেঞ্জ পায়ে দলে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে অহঙ্কারি আরেক বাংলাদেশ। রাস্তাঘাট, রেললাইন, বন্দর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক- কিছুই ছিল না আমাদের। প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজটি বঙ্গবন্ধুকে শুরু করতে হয়েছিল একেবারে শুরু থেকেই। একটি প্রাদেশিক সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকারে পরিণত করার বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ তো ছিলই। তদুপরি সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা, কোটি খানিক শরণার্থীর পুনর্বাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসন পুনর্নির্মাণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। বহুমাত্রিক প্রতিকূলতা পায়ে দলে কী করে এগিয়ে যাওয়া যায় সম্ভাবনার দিকে তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে গেছেন বঙ্গবন্ধু তার স্বল্পকালীন শাসনামলে। দ্রুততম সময়ে প্রণয়ন করেছিলেন জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অধিকারভিত্তিক এক অসাধারণ সংবিধান। সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও হাতে নেন প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানোর মতো কাজগুলো বঙ্গবন্ধুকে করতে হয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। মাত্র চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই বহু বিশেষজ্ঞের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বঙ্গবন্ধু তার বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছিলেন। এত অল্প সময়ে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশের এমন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা ইতিহাসে খুবই বিরল। অল্প সময়েই তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিত্তিই শুধু দিয়েছিলেন তাই নয়, বরং দ্রুত গতির এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নের আগামীর পথনকশাও জনগণের সামনে হাজির করতে সক্ষম হয়েছিলেন। নিজে সর্বক্ষণ স্বপ্ন দেখেছেন এবং তা ছড়িয়ে দিয়েছেন সবার মাঝে। লড়াকু এক মন উপহার দিয়েছিলেন পরিবর্তনকামী সংগ্রামী জনগণকে। সেই ‘ফাইটিং স্পিরিট’ই আমাদের আজই টেনে নিয়ে যাচ্ছে সোনার বাংলার অভিমুখে। মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত এ মহানায়ক অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সত্যিকার অর্থেই অসাধ্য সাধন করেছিলেন তার অর্থনৈতিক মুক্তি সংগ্রামে। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকরা তার এ জয়যাত্রা আচমকা আঘাত করে থামিয়ে দেয় পঁচাত্তরের কালরাত্তিরে। অনেক ঘাত প্রতিঘাত শেষে বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে ফের এগিয়ে চলেছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের আদলের বাংলাদেশ। কেননা তার পবিত্র রক্তে যে উর্বর ও সবুজ হয়েছে আমাদের মাটি।

১৯৭৫-এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ৭ গুণেরও বেশি বেড়েছে। বিগত ১০-১২ বছরে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নাটকীয় গতি এসেছে। ১৯৭৫ থেকে এখন পর্যন্ত মাথাপিছু আয়ে যে বৃদ্ধি হয়েছে তার ৭৩ শতাংশই ঘটেছে গত বারো বছরে। একই কথা প্রযোজ্য প্রবৃদ্ধির হারের ক্ষেত্রেও। পুরো এশিয়ায় আমাদের নমিনাল মাথা পিছু আয় গত এক যুগ ধরে সবার ওপরে বিরাজ করছে। নিঃসন্দেহে এর পেছনে কাজ করেছে সুবিবেচনাপ্রসূত নীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা। কৃষিতে আধুনিকায়ন এবং উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। স্বাধীনতার পর পর আমরা বছরে গড়ে প্রায় ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করতাম। কৃষি জমির পরিমাণ খানিকটা কমলেও আমাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্যের পরিমাণ এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন মেট্রিক টনেরও বেশিতে। খাদ্য উৎপাদন সূচকের বিচারে আমরা পেছনে ফেলতে পেরেছি ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশকেও। বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন সূচকের মান ২০১৬ সালের হিসাব অনুসারে ১৪৫.৩ যা ভারত ও চীন থেকে বেশি। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ছে মানুষের আয় রোজগার বাড়ার কারণে। একই সঙ্গে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকেও বাংলাদেশের অসামান্য উন্নতি ঘটিয়েছে। ব্যাংকিং সেবা আধুনিক ও সহজ হওয়ায় শহর ও বিদেশ থেকে দ্রুত অর্থের প্রবাহ গ্রামে-গঞ্জে দ্রুত প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হতে পেরেছে। মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে দ্রুত অর্থ লেনদেন হচ্ছে। কৃষি ও এসএমই ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। এমএফআইগুলোও গ্রামে আনুষ্ঠানিক ঋণের প্রবাহ বাড়াতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করছে। ব্যাংকের শাখা ও লেনদেন গ্রামে বিপুলভাবে বেড়েছে। আর মোবাইল ব্যাংকিং-এর কল্যাণে সারা দেশের আনাচে কানাচে টাকার লেনদেন বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবনমানের ওপর। গ্রামীণ আয়ের বড় অংশটিই (৬০%+) আসছে অ-কৃষি খাত থেকে। দেশের গ্রামাঞ্চল একদিকে বর্ধিষ্ণু শিল্প ও সেবা খাতের কাঁচামাল ও মূল্য সংযোজিত পণ্য/সেবা সরবরাহ করছে, অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে মানুষের আয় বৃদ্ধির ফলে নতুন ভোক্তা হিসাবে তারা অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধিতেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মোট কথা গোটা অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে একটি বড় মাত্রার স্বনির্ভরতার ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে কৃষি ও শিল্পের যুগপৎ বিকাশের ফলে। স্বদেশি অর্থনীতির এ বিকাশের পটভূমি শুরুতেই বঙ্গবন্ধু করে দিয়ে গেছেন। তাই আমাদের জিডিপির আকার বৃদ্ধি দ্রুত হয়েছে। বাহাত্তরের আট বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এখন পঞ্চাশ গুণের বেশি বেড়ে ৪০০ বিলিয়ন ডলার পার হয়ে গিয়েছে। তবে তার চেয়েও বেগবান রয়েছে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধির ধারা। তাই বিনিয়োগ জিডিপির অনুপাত ক্রমশ বেড়েছে। নীতি-নির্ধারকরা বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যক্তি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের গতি বাড়ানোর জন্য আমাদের নিয়মনীতি আরও স্মার্ট ও সহজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সরকার এদিকটায় এখন নজর দিচ্ছে। এসব ইতিবাচক উদ্যোগের কিছু সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে। বিশেষত গত এক দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আগের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে এ গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনই যথেষ্ট নয়। দক্ষতার সঙ্গে এ বিদ্যুৎ উদ্যোক্তার কাছে পৌঁছাতে হবে। সেখানে কিছুটা ঘাটতি তো রয়েছেই। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদে সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও বেশি নীতি প্রণোদনার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জন্য ‘রিনিউয়েবল’ জ্বালানির দিকেই আমাদের আরও বেশি করে ঝুঁকতে হবে।

Manual2 Ad Code

১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ৩৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। অর্থাৎ এ সময়ে ১০০ গুণেরও বেশি রপ্তানি আয় বেড়েছে। যদিও কোভিড ১৯-এর প্রভাবে উন্নত দেশে আমাদের প্রধান রপ্তানী পণ্যের চাহিদা সংকোচিত হয়েছে। তবে হালে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির হার যথেষ্ট আশা-জাগানিয়া বলেই মনে হচ্ছে। বস্ত্র খাতের আধুনিকায়ন ও ক্রেতাদের চাহিদামতো পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রেখে প্রতিযোগীদের চেয়ে কম দামে আমাদের পণ্য রপ্তানি করার সাফল্য অসামান্য। প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভরসার জায়গা হিসাবে কাজ করেছে শুরু থেকেই। এক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া প্রণোদনাও বেশ কাজ করেছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সুফল সামাজিক পিরামিডের একেবারে পাটাতনে থাকা সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাফল্য। সরকারি বেসরকারি এবং এমএফআইগুলো মিলেই এ সাফল্য নিশ্চিত করেছে। নীতি সমন্বয়ের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। নীতিনির্ধারকরা এদিকটিতে মনোনিবেশ করেছেন বলেই অতি-ধনীদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির ফলে আয় বৈষম্য কিছুটা বাড়লেও ভোগ বৈষম্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। আর এর ফলে দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে কোভিড হামলায় সাময়িকভাবে হলেও দারিদ্র্য ও কর্মহীনতা বেশ খানিকটা বেড়েছে। অর্থনৈতিক বৈষম্যও বেড়েছে। আশা করা যায় অর্থনীতির পুনরুদ্ধার পক্রিয়া জোরদার করা গেলে এসব সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে আরও গতি আসবে। তবে এ জন্য শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সে জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় যেমন দ্রুত দক্ষতানির্ভর কার্যক্রমসহ ব্যক্তি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে চতুর্থ বিপ্লব উপযোগী জনসম্পদ তৈরির উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করতে হবে। তা ছাড়া আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি আধুনিক ও বহুমুখী কৃষি, প্রবাসী আয়, পোশাকশিল্পসহ রপ্তানি শিল্পের দিকে আরও বেশি নীতি মনোযোগ অব্যহত রাখতে হবে। করোনাকালে দেওয়া প্রণোদনার সুযোগ আরও কিছুদিন বহাল রাখতে হতে পারে। সবুজ জ্বালানি, অন্যান্য অবকাঠামো এবং অর্থায়নের প্রতি আমাদের নীতি মনোযোগ আরও বাড়াতে হবে।

স্বাধীনতার পর পর প্রায় শূন্য রিজার্ভ নিয়ে যাত্রা শুরু করে আজকের বাংলাদেশে তা ৪৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বহুবিধ চ্যালেঞ্জ ও বৈরী প্রকৃতি মোকাবিলা করে হলেও বাংলাদেশ স্বাধীনতার পাঁচ দশকে নিঃসন্দেহে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। এক সময় যে দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলা হতো সেই দেশ আজ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের উদাহরণ সৃষ্টি করে নিজেকে বিশ্বের সামনে অনন্য উচ্চতায় হাজির করতে সক্ষম হয়েছে। চ্যালেঞ্জ শুরুতে ছিল, এখনো আছে। দুর্নীতি ও অনাচার আগেও ছিল, এখনো আছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে চলার চেষ্টা করে চলেছে বর্তমান সরকার সাহসের সঙ্গেই। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও চাঙ্গা করে সবাই মিলেই আমাদের আরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সব অংশীজনকে একাট্টা করে আমাদের সম্মুখ পানে জোর কদমে হাঁটতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর জোরদার নজর দিয়ে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করতেই হবে। তাহলেই বাংলাদেশ নিশ্চয় একদিন সোনার বাংলায় পরিণত হবে। এ আশা বুকে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে তাই সম্মুখ পানে। সবাইকে সুবর্ণজয়ন্তীর শুভেচ্ছা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code