

ধর্ম ডেস্কঃ
মানুষ প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে করতে নিজের অস্তিত্ব ভুলে যাচ্ছে। সে এমন এক খাঁচায় বন্দি হয়ে আছে, যেখান থেকে কেবল ধোঁয়াশাই দেখা যায়, সঠিক পথের অনুসন্ধান করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। কোথায় যাচ্ছে মানুষ? সত্যি কি সুখের অনুসন্ধান করছে সে? নাকি মরীচিকার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে তার দিগন্তের সূর্য? আত্মার আবরণে পাপের কালিমা যখন লেপ্টে যায় খুব গাঢ় হয়ে, তখন সে কি ভালোর পথে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারে? তার জীবন হয়ে ওঠে নড়বড়ে আর অসুখী। ভুল পথে কেবল সুখের মরীচিকাই দেখা যায়, প্রকৃত সুখ আর কপালে জোটে না।
জৈবিক চাহিদা কুকুরেরও থাকে। তাই বলে কুকুরের মতো যখন যেখানে খুশি সেখানে চাহিদা মেটানো কোনো মানুষের পক্ষে কি নৈতিকভাবে শুদ্ধ? বিকৃত মস্তিষ্ক কেবল নিজের ক্ষতিই নয়, আশপাশের বহু মানুষের জীবনেও এর প্রভাব মারাত্মকভাবে পড়ে। হাজার হাজার কিংবা লাখো লাখো বই জীবনে পড়া যেতে পারে, কিন্তু যে বই আপনার পুরো জীবনটাকে বদলে দিতে পারে সে বইয়ের দিকে একবারও কি খুব ভালোভাবে মনোযোগ দিয়েছেন? আল কুরআনের পৃষ্ঠাগুলো বোঝার চেষ্টা করেছেন? ওই পৃষ্ঠায় চোখ খুলে দেখেন শান্তির নিশ্বাস কীভাবে ফেলতে হয়। উত্তপ্ত আগুনের দিকে যখন এগিয়ে চলছেন, তখন আগুনের লেলিহান শিখা থেকে ওই আল কুরআন আপনাকে জান্নাতের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় দেবে।
একটু দাঁড়ান। ফিরে তাকান। অতীতের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখেন। বড় একটা নিশ্বাস বেরিয়ে আসে কি? কাউকে ঠকিয়েছেন? ব্যভিচারের গহ্বরে তলিয়ে গেছেন কিনা? কেবল ব্যর্থ মনে হয়? যাকে ঠকিয়েছেন, তার পাওনা দিয়ে দেন, নয়তো করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিন। পাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আল্লাহর কাছে চোখের পানি অঝরে ঝরাতে থাকুন। অনুতপ্ত হৃদয়ে ভালো কাজ দিয়ে কশাঘাত করুন। হিসাব কষে দেখেন তো, ধূলির ধরায় ক’দিন আছেন? ভাবছেন আমার মাঝে মৃত্যুর কোনো সিম্পটম নেই? -ভুল। আপনার জন্মই আপনার মৃত্যুর বড় সিম্পটম। পরমাত্মার ডাকে সাড়া না দিয়ে আপনি কোথায় যাচ্ছেন? কে আপনাকে ডাকছে? কে আপনাকে ওই বিশাল জান্নাতের চেয়ে আরও বড় কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিল? আছে এমন কেউ? আপনার বিবেকে পচন ধরে আছে। যার দুর্গন্ধে সুগন্ধি অনুভব করার শক্তিটুকুও আপনি হারিয়ে ফেলছেন। সুঘ্রাণ পেতে হলে দুর্গন্ধময় ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। এ বুঝটুকুও কি আপনার মাথায় ধরে না? এই যে আপনি যন্ত্রণায় ভুগছেন, এ ব্যাপারে আল্লাহ কী বলছেন, দেখুন-‘বড় শাস্তির পূর্বে আমি অবশ্যই তাদেরকে ছোট শাস্তি দিব, যাতে তারা ফিরে আসে’ (সূরা সাজদাহ : ১১)। আপনার ফিরে আসার জন্য তিনি আপনাকে মৃদু আঘাত করছেন। বোধদয় হয় আপনার? নাকি শয়তানের হাড্ডি-চামড়া খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন? কোথায় আপনার সুখের চূড়ান্ত ঠিকানা, সে জ্ঞান আপনার মাথায় কেন আসে না? আপনি কেন নিজের খেয়াল খুশির সঙ্গে বাঁশি বাজাচ্ছেন? যারা নিজের খেয়ালখুশি মতো জীবন অতিবাহিত করে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ কী বলছেন, দেখুন-তুমি কি লক্ষ করেছ তার প্রতি যে তার খেয়াল খুশিকে ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? আল্লাহ জেনে শুনেই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন আর তার কানে ও দিলে মোহর মেরে দিয়েছেন আর তার চোখের ওপর টেনে দিয়েছেন পর্দা। অতঃপর আল্লাহর পর আর কে (আছে যে) তাকে সঠিক পথ দেখাবে? এরপরও কি তোমরা শিক্ষাগ্রহণ করবে না? (আল-জাসিয়া-২৩)। জীবনটাকে ইচ্ছামতো এমন এলোমেলোভাবে গড়ে তুললেন যে, এখন গোছাতে গিয়ে হা-পিত্যেশ হয়ে যাচ্ছেন! আপনি হারিয়ে যাচ্ছেন। অসুস্থ মস্তিষ্ক আপনার জীবনকে অশুদ্ধ করে তুলছে। এতকিছুর পরও আল্লাহ আপনাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন, এভাবে-‘তবে তারা নয় যারা তাওবা করবে, ইমান আনবে, আর সৎ কাজ করবে। আল্লাহ এদের পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তিত করে দেবেন; আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু’ (আল-ফুরকান-৭০)।
লেখক : জামাল আস-সাবেত
শিক্ষক ও কলামিস্ট