ধীরে ধীরে শৈত্যপ্রবাহ কমে আবার বাড়বে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে দেশ। কিছু জায়গায় সকাল থেকে রোদের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা বেশি। উত্তরে হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। শীতের বস্ত্রের অভাবে দরিদ্র মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এখনো বহু এলাকায় শীতের গরম কাপড় বিতরণ হচ্ছে না।

Manual2 Ad Code

পুরো ডিসেম্বর জুড়েই তাপমাত্রা কমতে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আসতে পারে আরো শৈত্যপ্রবাহ। ধীরে ধীরে শৈত্যপ্রবাহ কমে আবারও বাড়বে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার থেকে উত্তরাঞ্চলের চার জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যালোচনা অনুযায়ী বর্তমানে দেশের পঞ্চগড়, যশোর, কুড়িগ্রাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং দিন শেষে তা প্রশমিত হতে পারে। তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আর টেকনাফে সর্বোচ্চ ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সকালের দিকে কোথাও কোথাও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সকালের দিকে দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৮, যা সোমবার ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৭। এছাড়া এখনো আরো তিন জেলা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আছে, গতকাল ছিল ৮ জেলায়। পঞ্চগড় ছাড়াও যশোরে ৯ দশমিক ৬ এবং চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানায়, হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। ঘনকুয়াশার পাশাপাশি মৃদু শৈত্যপ্রবাহে অসহায় ছিন্নমূল দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ কাঁবু হয়ে পড়েছে। গরম কাপড়ের অভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। গত কয়েক দিন থেকে এখানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। শীতের ভয়াবহতা চিন্তা করে শীতার্তরা শঙ্কায় পড়েছেন। শীতের দাপট শুরু হলে শীতার্তরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়বেন। শীতে সামর্থ্যবানরা গরম কাপড় সংগ্রহ করলেও অসহায় গরিব মানুষরা শীত নিবারণের জন্য ছুটছেন হাটবাজারের পুরাতন কাপড়ের দোকানে। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছেন না তারা। ফলে তাদের আশ্রয় নিতে হচ্ছে খড়কুটোয়। সরেজমিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তীব্র শীতের মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষকে কাজ করতে হচ্ছে। কৃষক শ্রমিকরা মাঠে কাজ করছেন। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলোর বাড়ির সামনে খড়কুটোয় আগুন ধরানো হয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সি নারী-পুরুষ একত্রে মিলে আগুন পোহাচ্ছেন।

Manual6 Ad Code

এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সিরা ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীত ও শীতজনিত নানা রোগে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে কোনো বেড খালি নেই। বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ বেড়েছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মো. মনোয়ারুল ইসলাম এবং মেডিক্যাল অফিসার (হৃদেরাগ বিশেষজ্ঞ) ডা. এস এম মাহবুব উল আলম জানান, শীতকালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টের রোগী বেড়ে যায়। আমাদের এখানেও আন্তঃ বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জীতেন্দ্র নাথ জানান, মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়। আজ সকাল ৬টায় ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সকাল ৯টায় তাপমাত্রা কমে এখানে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। এখানে বাতাসের গতিবেগ ছিল ৩ থেকে ৫ নটিকেল মাইল আর আদ্রতা ছিল ৭০ শতাংশ। আর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার এখানে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code