পিঠেপুলির আয়োজন ও শীতবস্ত্র বিতরণ

banglanewsus.com
প্রকাশিত January 11, 2022
পিঠেপুলির আয়োজন ও শীতবস্ত্র বিতরণ

নাজনীন বেগম:

ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যিক সম্ভারে বাংলাদেশ এক অনন্য বদ্বীপ। বিভিন্ন ঋতু যখন তার আগমনী বার্তা জানান দেয় তখন শুধু প্রকৃতিই নয় এদেশের মানুষও মেতে ওঠে নানা রকম আয়োজনে। সুজলা, সুফলা, শস্যশ্যামলা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ কৃষিতেও আছে এক অবারিত সম্ভার। ভূমিনির্ভর, কৃষিভিত্তিক এই দেশটি তার চিরায়ত বৈষয়িক ঐশ্বর্যে বিভিন্ন মাত্রায় সবাইকে মাতিয়ে তোলে। এ দেশের উর্বর মাটিতে যেন সোনা ফলে। নতুন ধানের সোঁদা গন্ধে গ্রামবাংলার অবারিত ফসলী মাঠ যেমন কানায় কানায় ভরে ওঠে তেমনি অতি সাধারণ মানুষও হয়ে ওঠে স্বয়ম্ভর এবং আত্মনির্ভরশীল। গত ১৩ বছরের অব্যাহত কর্মপরিকল্পনায় বর্তমান সরকার কৃষিতে যে বিপ্লব সাধন করেছে তাও যেন এক দুরন্ত যাত্রাপথ। আর শীতের মৌসুমে যেমন চলে নবান্নের উৎসব পাশাপাশি শাক- সবজির অভাবনীয় সম্ভারও চোখে পড়ার মতো। তাই শীতে এসব হাতের নাগালে পেতে খুব একটা অসুবিধা হয় না। গ্রাম-গঞ্জে উৎপাদন করা এই শীতকালীন পণ্যসামগ্রী শহর, নগর ও বন্দরে আসতে খুব বেশি সময়ও লাগে না। পচনশীল এই সবজি সময়মতো দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছাতে না পারলে খোদ উৎপাদক কৃষকরাই পড়েন চরম বিপাকে। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী উদ্যোগে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফলতা প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায়। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ যেমন উৎপাদিত কৃষিপণ্য অতি সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন, পাশাপাশি কৃষকও তাদের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।

নবান্নের মহোৎসবে পিঠেপুলির আয়োজনে যে আনন্দ তা আমাদের কৃষি সম্পদের এক অবারিত দান। পিঠেপুলির সম্ভার আবহমান বাংলায় এক চিরায়ত সাংস্কৃতিক আড়ম্বর। শীতকালে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে চলে এর বাহারি আয়োজন। এই উৎসব পল্লীবালার অবারিত শ্যামল প্রান্তর অতিক্রম করে যান্ত্রিক শহরেও যথার্থ আবেদন রেখে আসছে। উল্লেখ্য, প্রয়োজনীয় উপকরণের বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় পিঠেপুলি যেন আজকাল বিলাসদ্রব্য হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে মানস সংস্কৃতি আর গ্রামীণ পিঠেপুলির এক অকৃত্রিম সংযোজন। এই আয়োজনে একদিকে চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা এবং মালকোয়া রয়েছে, অন্যদিকে ভেসে আসছে গ্রামবাংলার মেঠো সুরের অনবদ্য ঝঙ্কার। মনে হচ্ছে, সেই আবহমান বাংলার অকৃত্রিম বৈভব যেন নগরের যান্ত্রিকতাকে ম্লান করে এখানেও তুলছে গ্রামবাংলার সমৃদ্ধ শৈল্পিক আভা। শুধু তাই নয়, ঢাকা শহরে শুরু হয়েছে পাহাড়ী মেলাও। পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতীয় সংস্কৃতির যে অনবদ্য ব্যঞ্জনা সেটা দেখতেও এখন পাহাড়ী এলাকায় যেতে হচ্ছে না। ঢাকায়ই শুরু হয়েছে তার উৎসব আর আয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু যে গ্রামকে শহরের পর্যায়ে উন্নীত করেছেন, তা কিন্তু নয়। বরং গ্রামের ঐতিহ্য সম্ভারকেও টেনে এনেছেন কর্মচাঞ্চল্যের শহর, নগর ও বন্দরে। তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ও নতুন বাংলাদেশের আমার শহর, আমার গ্রাম যেন মিলেমিশে এক অভাবনীয়, নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্কে বাধা পড়ছে। নতুন বছরের এমনসব সম্ভাবনাময় চিত্র আমাদের আরও উৎসাহিত করবে সারাবাংলাদেশ মিলেমিশে এক হয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিজের অবস্থান জোরদার করছে। নতুন বছরের নব সম্ভাবনায় আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শুরুতেই আর এক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন তার বহুল সংক্রমণকে আবারও সামনে নিয়ে আসছে।

এখন শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে বিভিন্ন নাট্যোৎসব, গান, কবিতাসহ অনুষ্ঠানমালার প্রাসঙ্গিক কর্মযোগ। ২০২২ সালের সাংস্কৃতিক দ্যোতনার নতুন যাত্রাপথ তো বটেই। তবে ওমিক্রন যেভাবে চোখ রাঙাচ্ছে তাতে কখন, কোথায় অবরুদ্ধতার জাল বিস্তৃত হবে সেটা অবশ্যই সময়ের বিবেচনায়। সম্ভাবনা আর আতঙ্ক দিয়ে শুরু হলো নতুন একটি বছরের শুভযাত্রা। শীতকালে গ্রামগঞ্জের অসংখ্য মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক কষ্টে থাকেন। শহরের বিভিন্ন বস্তি এলাকায়ও হতদরিদ্র মানুষ শীতে মানবেতর জীবনযাপন করে। বর্তমানে এসব শীতার্ত মানুষের জন্য সমাজের দরদী, সহানুভূতিশীল এবং বিত্তবানরা যেভাবে শীতের বস্ত্র, কম্বল বিতরণ করছেন তাও মানবতার এক অনন্য নজির। শুধু যে মানবিকতার নিদর্শন তাও কিন্তু নয় বরং অনেকের সক্ষমতার ব্যাপারটিও বিবেচনায় রাখা উচিত। মানুষের নিজের প্রয়োজন মেটানোর পরই দয়া দাক্ষিণ্যের বিষয়টি সামনে আসে। এখন জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, উন্নয়নের বিভিন্ন সূচক তার লক্ষ্যমাত্রাকে স্পর্শ করে যাচ্ছে। ফলে মানুষের প্রতিদিনের জীবন সচ্ছল ও স্বাচ্ছন্দ্যে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটাও বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী অর্জন মানুষকে একটি উন্নত এবং মানসম্পন্ন জীবন উপহার দেয়ার জন্য।

বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন কর্মকা- এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন বছরে তা অন্য মাত্রায় এগিয়ে নেবে, আশা করাই যায়। বিশেষ করে নিজ অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু আলোর মুখ দেখার সন্নিকটে। বঙ্গবন্ধু টানেলও ক্রমশ তার প্রস্তুতি পর্ব সম্পন্ন করছে। তা ছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিভাগ, জেলা-উপজেলার সঙ্গে যে সংযোগ সড়ক, সেতু, উড়াল সেতু এবং কালভার্ট নির্মাণাধীন অবস্থায় এগিয়ে চলছে পুরোদমে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবধারিত অভিযাত্রায় দেশ ও জাতি পৌঁছে যাচ্ছে এক আলোকিত জগতে যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার মহাআড়ম্বর। দৃষ্টিনন্দন এবং অভাবনীয় এই কর্মদ্যোতনায় বাংলাদেশের অর্জন বিশ্বসভায় রোল মডেল। এমন অনন্য অগ্রযাত্রাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়াই বর্তমান সরকারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা যা জাতিসংঘের ইউএনডিপি কর্তৃক সারাবিশ্বের জন্য তুলে ধরা হয়েছে। টানা তৃতীয় মেয়াদের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে, প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত হলেও নানামাত্রিক দুর্ভোগও তাঁকে সামলাতে হয়েছে বরাবরই। স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী শক্তি সব সময় ওৎঁ পেতে থাকে সমূহ বিপর্যয়কে উস্কে দেয়ার জন্য। সমাজের অভ্যন্তরে জিইয়ে থাকা এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক, সাবধানতায় দেশকে বাঁচাতে হবে। উন্নয়নের মহাসড়ক পাড়ি দিচ্ছে বাংলাদেশ। তেমন যুগান্তকারী অর্জনে অপশক্তির উন্মত্ত আস্ফালন জোরালোভাবে প্রতিরোধ করা চাই। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় তথ্য প্রযুক্তির দেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন সরকারপ্রধান। এমন উন্নয়ন অভিযাত্রায় চেতনা ধ্বংসকারী অপসংস্কার কোনভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া যাবে না। নতুন প্রজন্মের উপযোগী বাসযোগ্য একটি জগত তৈরি করে দেয়াই অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। যেখানে প্রজন্ম ঐতিহ্যকে ধারণ করবে, মুক্তিযুদ্ধের সমৃদ্ধ চেতনায় হবে বা এবং বিশ্বজনীনতার অপার সম্ভাবনায় তথ্যপ্রযুক্তির আঙিনায়ও নিজেদের অংশীদারিত্ব প্রমাণ করবে। অভাবনীয় প্রাণশক্তিতে ভরপুর উদীয়মান তরুণরাই সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তৈরিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। সব ধরনের কূপম-ূকতা এবং অপসংস্কার থেকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তি অর্জন করতে হবে সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পদার্পণে যেমন অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে,পাশাপাশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে দেশকে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে প্রযুক্তির বিশ্বে তাদের সম্পৃক্ত করতে প্রাসঙ্গিক সব কর্মপ্রকল্প অবারিত করা হয়েছে। তরুণ সম্প্রদায়কে দেশের ভাবী কারিগরের মর্যাদায় অভিষিক্ত করতে সরকার সব ধরনের কর্মপ্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সুযোগ-সুবিধাগুলো মানসম্মত উপায়ে প্রয়োগ করে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করাই হোক বর্তমান প্রজন্মের এগিয়ে চলা।

এই সংবাদটি 1,238 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।