চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি যুদ্ধের দিকে আগাচ্ছে? জাতিসংঘকে উদ্যোগ নিতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual7 Ad Code

সম্পাদকীয়: তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনকে সতর্ক করার কয়েক সপ্তাহ পর, বেইজিং কঠোরতম প্রত্যাখ্যান করে বলেছে তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতার ‘যেকোনো প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে চূর্ণ করবে’।
রবিবার চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেংহে মূলত দ্বীপের স্বাধীনতাকে সমর্থন করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘তাইওয়ানের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করছে’ এবং চীনের বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ’ করছে।
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া এশিয়ার নিরাপত্তা সম্মেলন সাংগ্রি-লা ডায়লগে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাকেপরিষ্কার করতে দিন: কেউ যদি চীন থেকে তাইওয়ানকে আলাদা করার সাহস করে, আমরা যুদ্ধ করতে দ্বিধা করব না। আমরা যে কোনও মূল্যে লড়াই করব এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করবো। এটাই চীনের জন্য একমাত্র উপায়।’
চীনা কর্তৃপক্ষের এই মন্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন তাইওয়ানের কাছাকাছি যুদ্ধবিমান উড়িয়ে বেইজিং ‘বিপদ নিয়ে খেলছে’। আক্রমণ চালানো হলে দ্বীপটিকে সামরিকভাবে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
তাইওয়ান নিজেকে সার্বভৌম রাষ্ট্র দাবি করে। তবে দীর্ঘদিন থেকেই এটি নিজেদের বলে দাবি করে আসছে চীন। কিন্তু তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে তার সবচেয়ে বড় মিত্র মনে করে এবং ওয়াশিংটনের একটি আইন রয়েছে যার মাধ্যমে দ্বীপটির আত্মরক্ষায় সহায়তা করা যাবে।
চীন যখন ক্রমবর্ধমানভাবে তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে তখন এসব পাল্টপাল্টি কথার লড়াই শুরু হয়েছে। গত মাসেই বছরের সবচেয়ে বড় বহর উড়িয়েছে চীন। এছাড়া তাইওয়ানের জলসীমার মধ্য দিয়ে নৌ জাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আক্রমন চালিয়ে চীনের সফল হওয়ার সামরিক সক্ষমতা আছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং তাইওয়ান তার আকাশ ও সমুদ্র প্রতিরক্ষাকে যথেষ্ট জোরদার করছে। কিন্তু অনেকেই একমত যে বেইজিং স্বীকার করে এই ধরনের পদক্ষেপ খুব ব্যয়বহুল এবং বিপর্যয়কর হবে – শুধুমাত্র চীনের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও।
ইনস্টিটিউট অব সাউথইস্ট এশিয়ান স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো উইলিয়াম চোং বলেন, ‘অনেক বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য আছে, কিন্তু তাইওয়ানে আক্রমণ চালাতে চাইলে চীনাদের খুব সাবধানে সেই ব্যবধানটা মাথায় রাখতে হবে বিশেষ করে ইউক্রেন সংকটের কাছাকাছি। চীনের অর্থনীতি রাশিয়ার তুলনায় বিশ্ব অর্থনীতির সাথে অনেক বেশি আন্তঃসংযুক্ত। চীনের ধারাবাহিক অবস্থান হচ্ছে তারা তাইওয়ানের সঙ্গে ‘শান্তিপূর্ণ পুনঃএকত্রীকরণ’ চায়। আর সেটাই রবিবার চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চীনা অবস্থান হচ্ছে কেবলমাত্র উস্কানির মুখোমুখি হলেই তারা পদক্ষেপ নেবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code