

সম্পাদকীয়: দেশের সবচেয়ে বড় এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিদের দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে তলবও করা হচ্ছে। দুদকের দিক থেকে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো ভয়ংকর। এগুলো হলো– শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এফডিআর করার নামে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট, স্ত্রী, স্বজনদের চাকরি দেওয়ার নামে অনৈতিকভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি ক্রয় ও অবৈধভাবে বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবহার এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের আড়ালে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ।
একটা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যারা জড়িত তারা যদি নিজেরাই এমন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকেন তাহলে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কী নৈতিকতার পাঠ নেবে? এমন প্রশ্ন উঠছে মানেই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খারাপ শিক্ষা পাচ্ছে, শিক্ষকমণ্ডলী ভালো নয় এমন উপসংহারে আসা যাবে না।
সামগ্রিকভাবেই বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতির পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে কথা উঠছে সমান্তরালে।
দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৮। এই বিপুল সংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকার পরও আরও ১১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন জমা রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। চলছে অনুমোদন পেতে দৌড়ঝাঁপ। বলা হচ্ছে, আবেদন জমা দেওয়া ব্যক্তি ও গ্রুপের মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি অনুমোদন পাওয়ার আশায় এমন তদবিরে নেমেছেন যে তারা সফলও হয়ে যেতে পারেন। পাবলিক তথা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কদর্য শিক্ষক আর ছাত্র রাজনীতিতে যখন অনিয়ম, দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে, তখন কোনও কোনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠনের মান, তাদের শিক্ষার্থীদের নানান ক্ষেত্রে সাফল্য সমাজে গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত। করোনাকালে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যতটা পেরেছে, তার চেয়ে বেশি প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এসব কারণে উচ্চশিক্ষা স্তরে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। কিন্তু বলতেই হবে সবার চিত্রটা এমন নয়।