অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি মিললে বিজয়ের স্বাধ পাবে বাঙ্গালি জাতি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual5 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: যে বিজয়ের জন্য সাত কোটি বাঙালিকে বেছে নিতে হয়েছিল সংগ্রামের পথ, যে লাল সবুজ পতাকা অর্জিত হয়েছে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, যে মানচিত্রের জন্য সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে দুই লাখ মা-বোনকে, সেই বিজয়ের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব তরুণদের। একটি স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় হাতে হাত রেখে এগিয়ে যেতে হবে তরুণদেরই। বিজয়ের এত বছর পর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে কী ভাবছে তারা। আমাদের সবচেয়ে প্রিয় ও ভালোবাসার দিবসটি হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেছি। প্রতিবছর এই দিনটি ঘুরে ঘুরে আমাদের মাঝে হাজির হয়। আমরা নতুন প্রজন্মের তরুণরা বিজয় দেখিনি; কিন্তু আমরা শুনেছি জেনেছি সেই বিজয়ের আত্মকথা। আমাদের সবাইকে বিজয় দিবসের অর্জনকে ধারণ করে নতুনদের কাছে বিজয় দিবসের কথা তুলে ধরতে হবে।

Manual2 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নির্যাতন-নিষ্পেষিত হওয়ার কথা জানাতে হবে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর যে কামানের গোলাবর্ষণ শুরু হয়ে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অসংখ্য প্রাণের আত্মদান, অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, তা জানলে শিউরে উঠবে তরুণপ্রাণ। দেশের প্রতি জাগবে তাদের ভালোবাসা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরাই প্রথম জাতি, যারা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের তেমন প্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনী ছিল না। আমাদের নিরস্ত্র মানুষরা সংগঠিত হয়ে যুদ্ধ করেছে।

Manual5 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আগে আমাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছেনি বলেই আমাদের পূর্বসূরিদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা আমাদের নাড়া দিত না। তবে এখন আমরা এ ব্যাপারে অনেক সচেতন। শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই নয়, আমাদের নবীন প্রজন্মের অনেকেই জানে না, আমাদের বাংলা সংস্কৃতি, সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবেই তারা বড় হচ্ছে বিজাতীয় সংস্কৃতিতে; এই দেশে জন্মে এই দেশের আলো-বাতাস গায়ে মেখে। তারা জানে না, ষড়ঋতু মানে কী বা কয়টি ঋতু আছে আমাদের, তারা জানে না বাংলা বারো মাসের নাম; তবু তারা বিশ্বাস করে, তারা বাঙালি, তারা বাংলাদেশি। বিজয়ের সাতচল্লিশ বছর পর আমাদের তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চিন্তাভাবনার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।

দেশকে জানার, দেশকে ভালোবাসার, দেশের জন্য কোনো কিছু করার আগ্রহ আমাদের কতটুকু, তার ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন শুধু দেশকে ভালোবাসতেন বলে। এখনকার তরুণ প্রজন্মের আমরা আমাদের স্বাধীনতা সেদিনই পাব, যেদিন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে থাকা কালো হাতগুলোকে উপযুক্ত শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে পারব। এরই মধ্যে তা কিছু অংশে সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু জাতি অপেক্ষারত শেষটুকু দেখার জন্য। আমাদের স্বপ্ন থাকবে একটি সুখী ও শান্তিপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের; বিজয় দিবসের প্রাক্কালে এই হোক তারুণ্যের স্বপ্নগাথা।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code