

সম্পাদকীয়: মানুষ হিসাবে ভালো ও মন্দকে মেনে নিয়েই আমাদের জীবনযাপন করতে হয়। সমাজে অস্থিরতা আসে, আবার চলেও যায়। কিন্তু ইদানীং কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, যা দেখে চিন্তিত না হয়ে পারা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, আত্মসম্মানবোধ নিয়ে সমাজে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। একশ্রেণির ক্ষমতাধর মানুষের আচরণ সমাজকে অস্থির করে তুলছে। ক্ষমতা এমনই এক সম্মোহনী শক্তি, যা অনেককেই অন্ধ করে দেয়। ক্ষমতা যখন একচ্ছত্র হয় এবং কোনো একক গোষ্ঠী যদি কুক্ষিগত করে রাখে, তাহলে তো কথাই নেই। তখন এর অপপ্রয়োগের আশঙ্কাই থাকে বেশি। এমনই অপপ্রয়োগের একটি শিষ্টাচারবর্জিত ঘটনা ঘটেছে গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে। দেশের প্রবীণ প্রকৌশলী ম ইনামুল হক ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মীর হাতে প্রকাশ্য দিবালোকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও হামলার শিকার হয়েছেন। নিজ দলের পক্ষে প্রচারপত্র বিতরণ করতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জানা যায়, সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় সহ্য করতে না পেরে ক্ষমতাসীন দলের ওই কর্মীটি প্রকাশ্যে সবার সামনে প্রবীণ ইনামুল হকের গালে কষে এক থাপ্পড় মারেন। ইনামুল হক নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থায় মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সমাজের পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এসব নিয়ে বেশি কথা বলাও নিরাপদ নয়। সরকারের সমালোচনার জন্য এ ধরনের হামলার ঘটনা দেশে এখন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে। দেখা গেছে, যারা মানুষের মতপ্রকাশে বাধা দেয়, তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইনের আওতার বাইরে থেকে যান; অর্থাৎ তারা একধরনের দায়মুক্তির সুযোগ ভোগ করেন। আর যারা মতপ্রকাশ করেন, তারা এ ধরনের হামলার শিকার হন। শুধু তাই নয় অনেক ক্ষেত্রে তারা উলটা মামলার শিকারও হয়ে থাকেন।
আমরা ইতোমধ্যেই জেনে গেছি, ম ইনামুল হককে যিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করেছেন, তিনি আর কেউ নন; মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের কৃষক লীগের সভাপতি বানি আমিন। বানি আমিন ইনামুল হককে লাঞ্ছিত করার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে যোগ দিতে এসে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ম ইনামুল হককে সরকারবিরোধী লিফলেট বিলি করতে দেখে বানি আমিন ক্ষুব্ধ হন। ইনামুল হককে লিফলেট বিলি বন্ধ করে সেখান থেকে সরে যেতে বলার পরও তিনি স্থান ত্যাগ না করে লিফলেট বিলি করতে থাকলে বানি আমিন ইনামুল হককে শায়েস্তা করার জন্য তার গায়ে হাত তোলেন। এমন একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর পরও বানি আমিনের বিরুদ্ধে তার দল শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বলে শুনিনি। অন্তত আমি যখন এ লেখা লিখছি, তখন পর্যন্ত তো নয়ই। বানি আমিন বহাল তবিয়তেই তার দলীয় পদে অবস্থান করছেন।