আষাঢ়ের কিশোরদের আনন্দ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলা ক্যালেন্ডারে আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস নিয়ে বর্ষাকাল। ঋতুচক্রের পরিক্রমায় আবার ফিরে এসেছে বর্ষা। গ্রীষ্মের খরতাপের ধূসর নাগরিক জীবন আর প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন জাগায় বর্ষা। আজ থেকে শুরু হলো প্রকৃতির নবযৌবনের উচ্ছ্বাস। নবধারা জলে স্নান করে শীতল হওয়ার আহ্বান এখন প্রকৃতিতে।

আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে এই ঋতু চলবে শ্রাবণের শেষ দিন পর্যন্ত। গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্ণতাকে ধুয়ে ফেলে গাঢ় সবুজের সমারোহে প্রকৃতি সাজে পূর্ণতায়। রিমঝিম বৃষ্টি, কখনো বা মুষলধারে ভারী বর্ষণও হবে। বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র। বর্ষা ঋতু কাব্যময়, প্রেমময়।

Manual3 Ad Code

তীব্র গরমে নগরবাসীর জীবনে আনন্দের বার্তা হয়ে এলো বর্ষা। তপ্ত ধরণীর বুকে বৃষ্টির পানি ঢেলে এই ঋতু প্রকৃতির রূপও বদলে দেয়। এই ঋতুতে নদ-নদীতে যেমন নতুন করে প্রাণ আসে, তেমনি গাছে ফোটে কদম, বকুল নানা রকমের ফুল। কদমকে তো আষাঢ়ের প্রতীকই ভাবা হয়।

Manual6 Ad Code

বৃষ্টি মানেই রাশি রাশি সুখস্মৃতির খুলে যাওয়া জানালা। হঠাৎ বৃষ্টিতে বইখাতা প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে, মানকচুর পাতায় মাথা ঢেকে কাদার সড়ক পেরিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা, মফস্সলের শিশু-কিশোরদের জীবনে আজও আনন্দের উপলক্ষ। পার্থক্য একটাই- আজ ততটা ভেজা মাটির সড়ক দেখা যায় না। ভরা পুকুরের জলে ডুব দিয়ে বৃষ্টির গান, কিংবা টিনের ঘরে বসে বৃষ্টির একটানা খেয়াল-ঠুমরি শোনা, শেষ বিকেলে বৃষ্টিধোয়া আকাশে হংস-মিথুনের উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা-এসব অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তারপরও বর্ষা এমন সব আনন্দ-স্মৃতিরই এক সজল পাঠাগার।

শহরে বর্ষাকালের কদর অন্য রূপে। মায়েরা সন্তানদের বৃষ্টিতে ভিজতে দেন না একেবারেই, কারণ, সর্দি-জ্বর-ইনফ্লুয়েঞ্জার ভয়। এর মধ্যেই কোনো কিশোরী-তরুণীর দল খোলা হাওয়া গায়ে লাগিয়ে দ্বিচক্রযানে বৃষ্টি-ভ্রমণে বেরিয়ে পরেন।

Manual1 Ad Code

বর্ষাতে কিশোরদের আনন্দ বেড়ে যায়। তার বৃষ্টিতে সারাক্ষণ ভিজতে ভালবাসে। আনন্দ করে। হইহুল্লোর করে। বাবা এবং মায়ের কোন বারণ শুনে না তারা। গ্রামের বাবা এবং মায়েরা তাদের কিছু বলে না। আষাড় যেন তাদের কাছে এক স্বর্গীয় ঋতু।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code