

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: সোমা সাঈদ। টাঙ্গাইলের ইসলামপুর গ্রাম থেকে পথ চলতে চলতে তিনি পৌঁছেছেন নতুন এক সরণিতে- কুইন্স সিভিল কোর্টের বিচারক হয়েছেন । যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত সোমা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে শুধু প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিচারক নন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মুসলিম নারী বিচারকও।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এখন বইছে খুশির জোয়ার। কারণ, সোমা এই গ্রামেরই মেয়ে। তার মা আমেনা খাতুন, বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সাঈদ। মা আমেনা খাতুন এক সময় ডুবাইল শহীদ আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সোমা নিজেও সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন এখানে। তখন তার বয়স মাত্র ১২। এর আগে তিনি লেখাপড়া করতেন ডুবাইল সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি নিয়ে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন তিনি।
১৯৮৯ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সাঈদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তখন তিনি ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে সরকারি এ চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে নতুন ভবিষ্যৎ গড়তে তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্টে। সঙ্গে নিয়ে যান পরিবারের সবাইকে- স্ত্রী আমেনা বেগম, ছেলে আমানুল্লাহ সাঈদ ও শাকিল উদ্দিন সাঈদ, মেয়ে সাথী সাঈদ ও সোমা সাঈদকে। তার দুই ছেলেই এখন ডাক্তার যুক্তরাষ্ট্রের।
১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর প্রাইমারি লেভেলে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন সোমা। পরে উচ্চতর ডিগ্রি নেন আইন পেশায়। ২০০৩ সালে সেখানে তার মা মারা যান। দেশে এনে গ্রামের বাড়িতে কবর দেওয়া হয় তাকে। দুই বছর পর ২০০৫ সালে তার বাবাও মারা যান। সেবার বাবার কফিনের সঙ্গে দেশে এসেছিলেন সোমা। বাবা-মায়ের মৃত্যুতে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি, তবে মনোবল হারাননি। কয়েক দিন বাড়িতে থেকে ফিরে যান যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রামের বাড়িতে তিনি শেষ এসেছিলেন ২০১৬ সালে। গত পাঁচ বছর ধরে বাড়িতে না এলেও সোমা প্রায়ই ফোন করে খোঁজ নেন গ্রামের লোকজন, তার চাচা-চাচি ও চাচাতো ভাইবোনদের। গ্রামের বাড়িতে তার এক ফুফু ও তিন চাচা বসবাস করেন। তাদের ছেলেমেয়েরাও যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। চাচা এসএম মাসুদ লোদী বলেন, আমাদের ৯ ভাইবোনের মধ্যে সোমার বাবা মেজ। সোমা ও তার ভাইয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
ডুবাইল সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, সোমা পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়ার সময়ই আমরা মনে করেছিলাম, এই মেয়ে একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।
দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহম্মেদ বলেন, সোমা সাঈদের এই বিজয়ে দেলদুয়ারবাসী গর্বিত ও আনন্দিত। প্রত্যাশা করি, আগামীতেও তার সাফল্য অব্যাহত থাকবে।