

সম্পাদকীয় : মধ্য জুলাই থেকে আগস্টের প্রথম কয়েকদিন পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেগুলোকে গণহত্যা হিসাবে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে এবং তা নথিভুক্ত হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্তও। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার উপপরিচালক আতাউর রহমানকে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হবে এবং বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন ও সংবিধানের ৪৯ ধারা প্রযোজ্য হবে না। এর মানে ট্রাইব্যুনালের আইন মতে সংবাদপত্রের তথ্য ও কারও মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা আসামিদের বিচার করা যাবে।
গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে সদ্য পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে। এই প্রথম দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হলো। মামলার আবেদনে সংগঠন হিসাবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে। আন্দোলনে নিহত নবম শ্রেণির ছাত্র আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা বুলবুল কবিরের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আবেদনটি করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম। উল্লেখ্য, এ নিয়ে গত ৪ দিনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা করা হয়েছে। মামলায় অপরাধের ধরন হিসাবে বলা হয়েছে, ১ থেকে ৯ নম্বর আসামির নির্দেশে ও পরিকল্পনায় দেশি ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, যা গণহত্যার শামিল এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ। ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে কমপক্ষে ৪৩৯ জন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে দেশে, এর বিচার হওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে মামলার যথাযথ বিচার সম্পন্ন করা হবে এবং আসামিরা দোষী প্রমাণিত হলে তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশে অন্য কোনো অশুভ শক্তি একই পথে হাঁটতে ভীতবোধ করবে না। তাছাড়া এই গণহত্যা জাতির জন্য কলঙ্কও বটে। এ কলঙ্ক মুছে ফেলতে হবে সব অন্যায়ের বিচারের মাধ্যমে।