ছেলের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতেই র‌্যাব কাজ করেছে

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় এক নারীকে হত্যার পর লাশ ডিপ ফ্রিজে রাখার ঘটনা নিয়ে র‌্যাব ও পুলিশের কাছ থেকে দুরকম বক্তব্য আসার পর র‌্যাব বলছে— তদন্তে যদি কারো গাফিলতি থাকে বা তথ্যগত ও প্রক্রিয়াগত ভুল থাকে এবং এর সঙ্গে র‌্যাবের কেউ যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Manual2 Ad Code

র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস আজ (শনিবার) এ কথা বলেন।

দুপচাঁচিয়ায় উম্মে সালমা নামে ওই নারীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাব বলেছিল তার ছেলেই মাকে হত্যার পর লাশ ফ্রিজে রাখে। এ ঘটনায় ছেলেকে গ্রেপ্তারও করে র‌্যাব। তবে পুলিশের তদন্তে নতুন মোড় নেয় ঘটনা। পুলিশ জানায়, ছেলে নয়, বাড়ির ভাড়াটিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ ঘটনায় তারা তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

Manual8 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

আজ র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুনীম ফেরদৌস বলেন, ছেলের দেওয়া জবানবন্দি আমরা রেকর্ড করেছি। তাকে যখন ক্যাম্পে আনা হয় তখন তার আত্মীয়-স্বজনরা ছিলেন। ছেলের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতেই র‌্যাব কাজ করেছে।

ছেলে নিরীহ হলে তিনি তো বিচারের আগেই মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হলেন- সাংবাদিকরা এ বিষয়টি র‌্যাব কর্মকর্তার নজরে আনলে তিনি বলেন, তদন্তে ভিন্নতা হতেই পারে। ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও তদন্ত করছে। পুলিশ তদন্তে যদি র‌্যাবের সহযোগিতা নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে আমরা করব।

 

Manual8 Ad Code

তিনি বলেন, আমাদের র‌্যাবের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ আসে বা তদন্তে গাফিলতির তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

দুই সংস্থার তদন্তে ভিন্নতা কেন? আর ছেলে তো আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়নি। আদালতে অস্বীকার করায় রিমান্ডে নিতে হয়েছে। এখনো রহস্যই উদঘাটিত হলো না, কিন্তু ছেলে মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হলেন– এ বিষয়ে মুনীম ফেরদৌস বলেন, স্বীকারোক্তি অনেক ধরনের আছে। কেউ কোনো ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেওয়া মানেই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে না। আবার যিনি স্বীকারোক্তি দেবেন তিনি যেকোনো সময় তার বক্তব্য অস্বীকার, পরিবর্তন, পরিমার্জন করতে পারবেন। এটা তার আইনগত অধিকার। ১৬৪, ১৬১ আলাদা। এখানে র‌্যাবের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তবুও এ ঘটনায় তদন্তে গাফিলতি থাকলে সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়া ব্রিফিং সচেতনতামূলক কাজ। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। ব্রিফিং নিবারণমূলক কাজের অংশ। মানুষ যাতে শিক্ষা নেয় বা সচেতন হয়। এখানে পুলিশের তদন্ত ভুল, সেটা বলার সুযোগ নেই। ঘটনার অধিকতর তদন্ত হবে। তদন্ত কিন্তু শেষ হয়নি।

গত ১০ নভেম্বর দুপচাঁচিয়ায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন নিজ বাড়িতে খুন হন উম্মে সালমা নামে এক নারী। বাসার ডিপ ফ্রিজ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের জিনিসপত্র অগোছালো ছিল এবং স্টিলের আলমারিতে কুড়ালের কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। এলাকাবাসীর ধারণা ছিল দিনের বেলা ডাকাতি করতে এসে বাধা পেয়ে ডাকাতরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মৃতদেহ ফ্রিজে রেখে যায়।

তবে ঘটনার দুদিন পর র‌্যাব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানায়। উম্মে সালমা খাতুনের ছেলে সাদ বিন আজিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব জানায়, সাদ নিজেই তার মাকে হত্যা করে লাশ ফ্রিজে রাখেন এবং ডাকাতির নাটক সাজান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code