রেকর্ড গড়ে ইংলিশদের ঘায়েল করলেন ইংলিস

লেখক:
প্রকাশ: ২ years ago

Manual2 Ad Code

ক্রীড়া ডেস্ক:

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য প্রথমে শক্তিশালী দলই ঘোষণা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ইনজুরি-অবসর মিলিয়ে স্কোয়াড থেকে সরে দাঁড়ান নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্সসহ পাঁচ তারকা। তাই ফেবারিটের তালিকা থেকে তাদের নাম মুছে দেন অনেকেই। কিন্তু ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট বলে কথা, চাইলেই কি আর অস্ট্রেলিয়াকে হিসেবের বাইরে ফেলা যায়!

আসরের শুরুতে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারানোই বলে দেয় এই দলটা অস্ট্রেলিয়াই! লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ৩৫১ রানের রেকর্ড সংগ্রহ দাঁড় করায় ইংল্যান্ড। সেই রেকর্ড টিকল না একদিনই ৷ জশ ইংলিসের দাপুটে সেঞ্চুরিতে ১৫ বল হাতে রেখে উল্টো চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের (৩৫৬) রেকর্ড গড়ল অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এটি।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের। দলীয় ২৭ রানে হারায় ট্রাভিস হেড (৬) ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে (৫)। সেই চাপ সামলে তৃতীয় উইকেটে ৯৫ রানের জুটি গড়েন ম্যাথু শর্ট ও মারনাস লাবুশেন। সচল রাখেন রানের চাকা। ইংলিশ বোলারদের সামলাতে তেমন কোনো অসুবিধাই হচ্ছিল না।

কিন্তু দারুণ এই জুটিতে ছেদ পড়ে লাবুশেন রশিদের শিকার হলে। ৪৫ বলে ৫ চারে ৪৭ রানে বিদায় নেন এই ব্যাটার। শর্টও ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারবননি। ৬৬ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৬৩ রানে লিয়াম লিভিংস্টোনকে উইকেট দিয়ে আসেন তিনি।

Manual7 Ad Code

তখনো ম্যাচ দুই দিক থেকে সমান তালে ঝুলছিল। কিন্তু পঞ্চম উইকেট জুটিতে ক্রমশই জয়ের পথ সহজ করতে থাকেন অ্যালেক্স ক্যারি ও ইংলিস। ১১৬ বলে ১৪৬ রানের এই জুটি অজিদের কোনো দুশ্চিন্তাই করতে দেয়নি। ক্যারি অবশ্য শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেননি। ব্রাইডন কার্সের বলে জস বাটলারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। সাজঘরে ফেরেন ৬৩ বলে ৮ চারে ৬৯ রান নিয়ে।

বাকিটা পথ গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে পাড়ি দেন ইংলিস। ৭৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ব্যাটার। যা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে যৌথভাবে দ্রুততম। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সমান বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের বীরেন্দর শেবাগ।

Manual8 Ad Code

শেষ পর্যন্ত ৮৬ বলে ৮ চার ও ৬ ছক্কায় ১২০ রানে অপরাজিত থাকেন ইংলিস। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৪ রানের জুটিতে ম্যাক্সওয়েলের অবদান ১৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ রান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করা ইংলিশদের শুরুতেই ভিত কিছুটা নাড়িয়ে দিয়েছিলেন বেন ডারশুইস। দ্বিতীয় ওভারেই ফেরান তেতে ওঠা ফিল সল্টকে। প্রথম ওভারে ১টি করে ছক্কা ও চার মেরে ৬ বলে ১০ রানে আউট হন এই ওপেনার।

Manual8 Ad Code

ক্যারিয়ারের প্রথমবার ওয়ানডাউনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি জেমি স্মিথ (১৫)। দলীয় ৪৩ রানে তাঁকেও ফেরান ডারশুইস। তৃতীয় উইকেটেই গতিপথ বদলে যেন জো রুট ও ডাকেট। ১৫৫ বলে গড়েন ১৫৮ রানের অসাধারণ এক জুটি। দলের ২০১ রানে ফেরেন রুট। ৭৮ বলে খেলেছেন ৬৮ রানের কার্যকর এক ইনিংস। বিপরীত দাপুটে ব্যাটিংয়ে তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন ডাকেট।

Manual7 Ad Code

পরের ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন জস বাটলার (২৩) ও জফরা আর্চার (১০ বলে ২১)। ৪৮ তম ওভারে মার্নাস লাবুশেনের সোজাসুজি স্লোয়ার এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ডাকেট। ১৪৩ বলে ফিরেছেন ১৬৫ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে। মেরেছেন ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে এটাই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ার ডারশুইস ৩ টি, অ্যাডাম জাম্পা ও লাবুশেন ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code