ট্রাম্প–জেলেনস্কি বিতর্কের পর ইউক্রেনে সিরিজ হামলা শুরু করেছে রাশিয়া, নিহত ২৫

লেখক:
প্রকাশ: ২ years ago

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

রাশিয়ার সিরিজ হামলায় ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন ২৫ জন। গত শুক্র ও শনিবার ইউক্রেনজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ সেনারা।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি, আল-জাজিরা জানিয়েছে, শুধু দোনেৎস্কেই প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১১ জনের, আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশত মানুষ, যাদের মধ্যে ৬টিই শিশু।

Manual2 Ad Code

এ ছাড়া, খারকিভ ও ওডেসাতেও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। বিধ্বস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

দোনেৎস্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, লোকালয়ে আঘাত হেনেছে কমপক্ষে দু’টি ব্যালিস্টিক মিসাইল। বিধ্বস্ত হয়েছে কমপক্ষে ৮টি আবাসিক ভবন এবং একটি শপিংমল।

এ ছাড়া, ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি ডিপোগুলো তো নিয়মিতই রাশিয়ার হামলার টার্গেট হচ্ছে। গত শুক্রবারও ওডেসায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, গত তিন সপ্তাহে এই নিয়ে ৭ম বারের মতো রুশ হামলার টার্গেট হলো অঞ্চলটির ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র।

Manual2 Ad Code

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন—ইচ্ছাকৃতভাবেই বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, ‘প্রথমে তো বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালিয়েছেই রাশিয়ার সেনারা।

পরবর্তীতে যখন হতাহতদের উদ্ধারকাজ চলছিল তখন উদ্ধারকর্মীদেরও টার্গেট করা হয়েছে। এই ধরনের হামলা থেকেই বোঝা যায়, রাশিয়ার উদ্দেশ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’

ইউরোপীয় নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এক্স হ্যান্ডলে কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

তিনি বলেছেন, ‘কেউ যখন বর্বরদের খুশি রাখতে চায়, তখন এমনই হয়। আরও বেশি বোমা, আরও বেশি আগ্রাসন আর আরও বেশি ভুক্তভোগী।’

ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই দেশটিতে বেড়েছে রাশিয়ার হামলা। এরপর ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা আরও উসকে দিয়েছে রাশিয়াকে।

Manual2 Ad Code

তবে, ইউক্রেনও চুপ করে বসে নেই। তারাও রাশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, গতকাল শনিবার রাতভর তারা অন্তত ৩১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এদিকে, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উভয় পক্ষকে রাজি করাতে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যতটা সহজ ভেবেছিলেন বাস্তবতা যে তার চেয়ে কঠিন তা কিছুটা আঁচ করতে পারছেন তিনি। সেটি তাঁর বক্তব্যেই বোঝা যাচ্ছে।

গত শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে রাশিয়ার চেয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতা বেশি কঠিন। আমরা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ভালো এগিয়েছি। তবে, কিয়েভের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন।’

মস্কো–কিয়েভ যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কারোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইউক্রেনকে সহায়তার শর্ত হিসেবে দেশটির বিরল খনিজ নিয়ে চুক্তিতে সম্মত হতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চুক্তি রাজিও হয়েছেন। তবে রাশিয়া–ইউক্রেন ইস্যুতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে ইউরোপ।

ইউরোপীয় নেতাদের অভিযোগ, ট্রাম্প রাশিয়ার পুতিনকে খুশি করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। পুতিনকে ছাড় দিয়ে তিনি পুরো ইউরোপকে নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছেন। এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় নেতারা দীর্ঘদিন পর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথা ভাবছেন।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code