হোয়াইট হাউসে স্বপ্নের বলরুম বানাচ্ছেন ট্রাম্প, ব্যয় ২০ কোটি ডলার

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুদিনের প্রত্যাশা অবশেষে বাস্তব হতে চলেছে। হোয়াইট হাউসে তৈরি হচ্ছে এক নতুন ও বিশাল বলরুম। প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুটের এই বলরুম নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। পুরো অর্থ অনুদান হিসেবে দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এবং আরও কয়েকজন এখনো নাম প্রকাশ না করা দাতা। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট গত বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নতুন বলরুমটি নির্মাণ হবে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের পাশে। এই ইস্ট উইংয়েই বর্তমানে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের অফিস রয়েছে। বলরুম তৈরির সময় এসব অফিস সাময়িকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।লেভিট বলেন, এই বলরুম হোয়াইট হাউসের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও দৃষ্টিনন্দন এক সংযোজন হতে যাচ্ছে। এর ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৬৫০ জন বসতে পারবেন। এটি ইস্ট রুমের তুলনায় অনেক বড়, যেখানে সর্বোচ্চ ২০০ জন বসতে পারেন।

Manual3 Ad Code

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব আরও বলেন, বড় অনুষ্ঠানগুলোর জন্য এখন যেভাবে অস্থায়ী তাঁবু খাটাতে হয়, নতুন বলরুম তৈরি হলে সে প্রয়োজন থাকবে না। ওই তাঁবুগুলো দেখতে যেমন বিশ্রী, তেমনি হোয়াইট হাউসের মর্যাদার সঙ্গেও মানানসই নয়।এর আগে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময়ও ট্রাম্প বলেছিলেন, হোয়াইট হাউসে একটি ‘অসাধারণ বলরুম’ নির্মাণে তিনি ১০ কোটি ডলার দিতে প্রস্তুত। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি ওবামা প্রশাসন। সে সময় হোয়াইট হাউসের তৎকালীন মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট বলেছিলেন, এটি কখনোই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি। তিনি আরও বলেছিলেন, হোয়াইট হাউসের কোনো অংশে চকচকে সোনালি রঙের ট্রাম্প সাইন লাগানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শোভন নয়।

নতুন বলরুমটির নকশা এরই মধ্যে প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। এতে দেখা যায়, এটি মূল হোয়াইট হাউসের স্থাপত্যের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হবে। ভেতরে থাকবে ঝাড়বাতি, অলংকারখচিত স্তম্ভ ও রাজকীয় সাজসজ্জা। বলরুম নির্মাণের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই দেশের কোনো প্রেসিডেন্ট বলরুম বানানোর ব্যাপারে দক্ষতা দেখায়নি। আমি পারি। আমি জিনিস বানাতে পারি। তাঁবুর নিচে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ—এটা কোনো দৃশ্যই নয়। এটা একেবারে বিশ্রী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ রিসোর্টে যে বলরুম আছে, চাইলে ওটা এখানেও বসিয়ে দিতে পারি। দেখতে অসাধারণ লাগবে।’

Manual8 Ad Code

ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শুরু হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে, শেষ হবে ২০২৯ সালের জানুয়ারির আগেই—ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের শেষের বহু আগেই। এই বলরুম শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টরাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানান ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই নতুন বলরুম নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে কাজ করা হবে। ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও আমেরিকার আগামী প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করবে। এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউস সংরক্ষণ কমিটির সদস্য লেসলি গ্রিন বোম্যান বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে প্রয়োজনে নতুন সংযোজনের নজির রয়েছে। তবে এই নতুন বলরুম তৈরির সময় অবশ্যই হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক দেয়াল ও কাঠামোর প্রতি যথাযথ সম্মান ও সংরক্ষণের মনোভাব রাখতে হবে। এই দেয়ালগুলো আমাদের গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস ধারণ করে আছে।’

Manual7 Ad Code

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অংশে সংস্কার ও পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—ওভাল অফিসে সোনালি অলংকার সংযোজন, দুটি বড় জাতীয় পতাকা টাঙানোর ফ্ল্যাগপোল বসানো এবং বিখ্যাত রোজ গার্ডেনের বড় অংশ কংক্রিট দিয়ে ঢেকে দেওয়া। হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনারই অংশ, যা এখন বাস্তবায়নের পথে। বিশাল ব্যয় ও বিতর্ক সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই বলরুম ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি স্থায়ী সমাধান হবে।

Desk: K
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code