পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে আর বাধা নেই রাশিয়ার

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির সীমাবদ্ধতায় আর আবদ্ধ নয় বলে ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া মধ্যম ও স্বল্প-পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ সোমবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক বিবৃতিতে লেখেন, ন্যাটোর রুশবিরোধী নীতির ফলাফল হিসেবেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত। এখন আমাদের প্রতিপক্ষদের এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। আরও পদক্ষেপ আসছে। সম্প্রতি মেদভেদেভ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ চলছে। ট্রাম্প গত সপ্তাহে রাশিয়ার হুমকির জবাবে দুটি মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিন ‘উপযুক্ত অঞ্চলগুলোতে’ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। মেদভেদেভের হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে। এমন প্রেক্ষাপটে একতরফা নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার শর্ত আর বিদ্যমান নেই।

এর আগে, প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ২০২৩ সালেই আভাস দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক কর্মকা-ের জবাবে মস্কো ক্ষেপণাস্ত্র সীমাবদ্ধতা তুলে নিতে পারে। ল্যাভরভ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের বারবারের সতর্কতা উপেক্ষা করে বিভিন্ন অঞ্চলে এই শ্রেণির অস্ত্র মোতায়েন করেছে। প্রসঙ্গত, ১৯৮৭ সালে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গরবাচেভ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু মস্কো বলেছিল, ওয়াশিংটন না করলে তারা এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করবে না।

রুশ-মার্কিন সম্পর্কের জড়তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে : রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতিতে সময় লাগবে, কারণ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সম্পর্কের অভূতপূর্ব অবনতির জড়তা এখনও অনেক বেশি, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন। পেসকভ বাইডেনের আমলে মস্কো এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের ‘অভূতপূর্ব অবনতির’ দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ‘অবশ্যই, এই প্রক্রিয়ায় জড়তা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে আনার প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে সময় লাগবে,’ তিনি বলেন।

Manual6 Ad Code

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পের অভিষেকের পর থেকে ছয় মাস ১৬ দিন অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু এখনও তার এবং রাশিয়ান নেতার মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ হয়নি। এর আগে, পুতিন এবং ট্রাম্পের মধ্যে একটি বৈঠকের জন্যও দীর্ঘতম অপেক্ষা ছিল, যা আমেরিকান নেতার প্রথম মেয়াদে হয়েছিল। তারপর পাঁচ মাস ১৮ দিন সময় লেগেছিল। অন্যান্য বছরগুলিতে, রাশিয়া-মার্কিন শীর্ষ সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা গড়ে এক থেকে পাঁচ মাস স্থায়ী হয়েছিল। নির্বাচিত হওয়ার পর, ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নতুন আমেরিকান নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠকের সম্ভাবনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছিলেন, তবে ক্রেমলিন যেমন জোর দিয়ে বলেছিল, এই শীর্ষ সম্মেলনটি অনেক দ্বিপাক্ষিক কাজের ফলাফল হওয়া উচিত, তার আগে নয়। তবুও, নেতারা ক্রমাগত যোগাযোগে রয়েছেন এবং বছরের শুরু থেকে ছয়বার টেলিফোনে কথা বলেছেন।

ইউক্রেনের সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনার চেষ্টা করছি : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি তার দেশকে ইউক্রেনের সামরিক সংঘাত থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছেন। ‘এটি বাইডেনের যুদ্ধ, এটি আমার যুদ্ধ নয়। আমি আমাদের এখান থেকে বের করে আনার জন্য চেষ্টা করছি,’ তিনি সাংবাদিকদের বলেন।ভলোদিমির জেলেনস্কির ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে চাকরির সর্বোচ্চ বয়স বৃদ্ধির আইনে স্বাক্ষরের বিষয়ে মন্তব্য করতে বলা হলে, যা ৬০ বছরের বেশি বয়সী ইউক্রেনীয়দের চুক্তির অধীনে দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার অনুমতি দেবে, ট্রাম্প উত্তর দিয়েছিলেন: ‘আপনি যখন ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের সম্পর্কে বলেছিলেন তখন আমি শুনিনি, তবে এটি (জো) বাইডেনের যুদ্ধ, এবং আমরা আমাদের এখান থেকে বের করে আনার জন্য খুব কঠোর পরিশ্রম করছি।’ ‘গত পাঁচ মাসে আমি পাঁচটি যুদ্ধ বন্ধ করেছি, এবং আমি চাই এটি ষষ্ঠ হোক,’ তিনি যোগ করেন।

Manual7 Ad Code

মার্কিন করদাতাদের আর ইউক্রেনকে সাহায্যের বোঝা বহন করতে হবে না : ইউরোপীয় দেশগুলির মাধ্যমে ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি আমেরিকান করদাতাদের আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি দেবে, ন্যাটোতে নিযুক্ত মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধি ম্যাথিউ হুইটেকার বলেছেন। ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ব্যবস্থা ঘোষণা করেছেন যেখানে আমাদের ন্যাটো মিত্ররা আমেরিকান অস্ত্র ও গোলাবারুদ কিনবে এবং তারপর সেই মিত্ররা ইউক্রেনকে তা সরবরাহ করবে,’ নিউজম্যাক্স টিভি সম্প্রচারের সময় কূটনীতিক বলেন, ‘স্পষ্টতই, এটি আমেরিকান করদাতাদের সমীকরণ থেকে বের করে দেয়। আমেরিকান করদাতারা আর ইউক্রেনের যুদ্ধের বোঝা বহন করছেন না,’ তিনি ব্যাখ্যা করেন।

Manual2 Ad Code

হুইটেকার উল্লেখ করেন যে, নতুন ব্যবস্থা মার্কিন অবস্থানকে দুর্বল করে না বরং তাদের শক্তিশালী করে। ওয়াশিংটন মার্কিন কর্মীদের দ্বারা উৎপাদিত অস্ত্র বিক্রি করে, এইভাবে দেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে সমর্থন করে। কূটনীতিকের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের নিরাপত্তার দায়িত্ব সফলভাবে মহাদেশের দেশগুলির উপর স্থানান্তর করেছে। ১৪ জুলাই, ট্রাম্প ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাথে এক বৈঠকে ঘোষণা করেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলির ব্যয়ে ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। জোটটি সরবরাহের সমন্বয় করবে, যার মধ্যে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের মতো অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন যে, ন্যাটোর মাধ্যমে ইউক্রেনকে যে সামরিক সহায়তা সরবরাহ করা হবে তার পরিমাণ হবে বিলিয়ন ডলার।

Desk: K

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code