দনবাস চান পুতিন—ন্যাটো তো নয়ই, পশ্চিমা সেনাও থাকবে না ইউক্রেনে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের প্রতি নতুন শর্ত দিয়েছেন। তিনজন ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার রাতে (২১ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পুতিন চাইছেন পূর্বাঞ্চলের দোনবাস অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিক ইউক্রেন। ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও ত্যাগ করতে হবে ইউক্রেনকে এবং দেশটিতে কোনো পশ্চিমা সেনাও মোতায়েন করা যাবে না।

Manual4 Ad Code

গত শুক্রবার আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠকে পুতিন মূলত ইউক্রেন ইস্যুতেই মনোযোগ দেন। চার বছরের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম রাশিয়া-আমেরিকা শীর্ষ সম্মেলন। বৈঠক শেষে পুতিন আশা প্রকাশ করেন, এই বৈঠক ইউক্রেনে শান্তির পথ খুলে দিতে পারে। তবে কোনো পক্ষই স্পষ্ট করে শর্ত প্রকাশ করেনি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, পুতিন আগের দাবির তুলনায় কিছুটা ছাড় দিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুনে তিনি চারটি প্রদেশ—দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া—সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ইউক্রেনকে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে তিনি শুধু দনবাস (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) থেকে ইউক্রেনের সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানো দাবি করেছেন। এর বিনিময়ে রাশিয়া খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়ায় বর্তমান যুদ্ধরেখা অতিক্রম করবে না। বর্তমানে রাশিয়া দোনবাসের প্রায় ৮৮ শতাংশ এবং খেরসন-জাপোরিঝঝিয়ার প্রায় ৭৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

তবে পুতিনের পুরোনো দাবিগুলো অপরিবর্তিতই আছে—ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেবে না, পশ্চিমা সামরিক জোট পূর্বদিকে আর বিস্তৃত হবে না এবং ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সীমিত থাকবে। এ ছাড়া কোনো পশ্চিমা সেনা শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে ইউক্রেনের মাটিতেও থাকতে পারবে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি একে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানো ইউক্রেনের জন্য দেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাঁর ভাষায়, ‘পূর্বাঞ্চল ছেড়ে দেওয়া মানে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা। এটি সম্ভব নয়।’ ন্যাটোতে যোগ দেওয়া ইউক্রেনের সংবিধানগত লক্ষ্য, যা কিয়েভ নিজেদের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা হিসেবে দেখে।

হোয়াইট হাউস ও ন্যাটো এখনো এই বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে পশ্চিমা রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দোনবাস থেকে সরে আসার শর্ত ইউক্রেনের জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আত্মসমর্পণের শামিল।

তবুও আলাস্কার বৈঠককে অনেকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শান্তির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। এক ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, পুতিন আপস করতে প্রস্তুত। এটাই ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে। তবে রাশিয়ার কাছে এখনো পরিষ্কার নয় ইউক্রেন দোনবাস ছাড়বে কি না, আর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া-অধিকৃত অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেবে কি না।

Manual6 Ad Code

ট্রাম্প নিজেকে শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলন করতে চান। ইতিপূর্বে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান।’

এদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা পুতিনের শান্তিচেষ্টা নিয়ে সন্দিহান। তাঁরা মনে করেন, রাশিয়া প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ শেষ করতে চাইছে না।

Manual3 Ad Code

তবে শান্তির সম্ভাব্য পথ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। একটি প্রস্তাব হলো—জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্বীকৃত ত্রিপক্ষীয় (রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র) চুক্তি। অন্য প্রস্তাবটি হলো—২০২২ সালের ইস্তাম্বুল আলোচনার ধাঁচে ইউক্রেন স্থায়ীভাবে নিরপেক্ষ থাকবে এবং নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য।

Manual6 Ad Code

ডেস্ক: এস

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code