

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংক শাখার টেলার রুবেল আহমেদ গ্রাহক ও এজেন্ট মালিকের মূলধনসহ প্রায় ২৮ লাখ টাকা এবং অন্যান্য অভিযোগে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে কানাডা পালিয়েছেন। টাকা আত্মসাতের বিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন এজেন্ট মালিক এম সাইফুর রহমান। অভিযুক্ত টেলার মোঃ রুবেল আহমদ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাট্টাই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া থানাধীন কর্মধা ইউনিয়নের বুধপাশা স্কুলবাজারের একটি বেসরকারি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংক শাখায় টেলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন করতেন রুবেল আহমদ। তিনি গ্রাহকের জমাকৃত টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ভুয়া জমা রশিদ সরবরাহ করতেন এবং গ্রাহকের অর্থ নিজের ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে আত্মসাৎ করে আসছিলেন।
গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এজেন্ট মালিক প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পান। এতে জানাযায় রুবেল আহমদ এজেন্ট ব্যাংকের মূলধনসহ গ্রাহকদের প্রায় ২৮ লাখ এবং আরো কতিপয় অভিযোগে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
ঘটনার পর এজেন্ট মালিক মোঃ সাইফুর রহমান বাদী হয়ে রুবেল আহমদ, তার পিতা সোনা মিয়া ও স্ত্রী সৈয়দা রাজনা বেগমকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে কুলাউড়া থানা পুলিশ মামলা রেকর্ড করে অভিযান চালিয়ে মামলার ৩নং আসামি সৈয়দা রাজনা বেগমকে গ্রেফতার করেছে।
এবিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত রুবেল আহমেদ ও তার বাবা সোনা মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায় নি। বিভিন্ন সূত্রে জানাযায় রুবেল আহমেদ কানাডা পালিয়ে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে সক্রিয় রয়েছেন এবং নানা মন্তব্য করছেন।
ব্যাংকের গ্রাহক সাদিকুর রহমান, সুলতানা বেগম ও নেহারুন বেগম জানন টাকা জমার ভুয়া রশিদ দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অভিযুক্ত রুবেল আহমেদ তাদের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট মালিক এম সাইফুর রহমান বলেন গ্রাহকদের জাল রশিদ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে আমার মুলধনসহ নিয়ে পালিয়ে গেছে রুবেল আহমেদ। এই অবস্থায় গ্রাহকদের চাপে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
এবিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং একজন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে এবং প্রধান আসামি রুবেল আহমদ ও তার বাবাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।