রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ: বড় এনজিওর খরচ বেশি, স্থানীয়দের কম

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual1 Ad Code

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

Manual8 Ad Code

বড় এনজিও এবং আইএনজিওগুলো প্রকল্প পরিচালনা করলে খরচ অনেক বেশি হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় এনজিওগুলো মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ তহবিল পায়। অথচ তারা বড় ধরনের প্রকল্প খুব কম খরচে চালাতে পারে। সুতরাং রোহিঙ্গাদের সহায়তা কার্যক্রমে স্থানীয় এনজিওগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের রোহিঙ্গা সম্মেলনের আগে ঢাকার প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার স্থানীয়করণ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন মোঃ শাহিনুর ইসলাম । সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় স্থানীয় এনজিওদের দ্বারা পরিচালিত স্বল্প খরচের রোহিঙ্গা কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব তা বিশ্ব নেতাদের জানানোর জন্য এই সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র গত বছর অনুদান দিয়েছিল ৩০০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু চলতি বছর ৭২ শতাংশ কমিয়ে অনুদান দিয়েছে ৮৫ মিলিয়ন। একইভাবে আগের বছরের তুলনায় যুক্তরাজ্যের অনুদান কমেছে ৪৮ শতাংশ।

রেজাউল করিম চৌধুরী গবেষণার ফলাফল উদ্ধৃত করে বলেন, জুন থেকে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শিবিরে মোট ৬৩টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং শুরু করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে যে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর অনুমোদিত প্রকল্পে সংখ্যা ৪৪.৪০%, যেখানে জাতীয় এনজিওগুলোর ৫০.৮০% এবং স্থানীয় এনজিওগুলোর অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা মাত্র ৪.৮%। এর বিপরীতে, আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর তহবিলের আকার ৬৩.৬%, জাতীয় এনজিওগুলোর ৩৩.৯% এবং স্থানীয় এনজিওগুলোর মাত্র ২.৫% তহবিল। যদিও জাতীয় এনজিওগুলোর সবচেয়ে বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলির ব্যবস্থাপনা ব্যয় প্রায় ৭০% যেখানে তাদের কর্মসূচির ব্যয় মাত্র ৩০%। তবে
স্থানীয় এনজিওগুলো কম খরচে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, আমাদের এই পদ্ধতিটি বিবেচনা করা উচিত।

Manual5 Ad Code

 

এই ঘাটতি পূরণে রোহিঙ্গা ও হোস্ট কমিনিউটিকে (বাংলাদেশ) বিশ্বব্যাংক থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে ঋণ হিসেবে। কোস্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন মোস্তফা কামাল আকন্দ এবং সভাপতিত্ব করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পচরচালক রেজাউল করিম চৌধুরী।

 

Manual1 Ad Code

কোস্ট ফাউন্ডেশন এবং কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম আয়োজিত সাশ্রয়ী রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনার জন্য চাই স্থানীয় এনজিওদের নেতৃত্ব শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা রোহিঙ্গা মানবিক কাজে সাশ্রয়ী খরচে কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। এ সময় জানানো হয়, এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যের অনুদান ৪৬ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে হয়েছে ২৪ মিলিয়ন।

এই ঘাটতি সামলাতে এক বছরে রোহিঙ্গা খাতে বাংলাদেশের ব্যয় বেড়েছে ২৬৩ শতাংশ। গত বছর বাংলাদেশ ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিলেও এ বছর দিয়েছে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার।

সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক শাহিনুর ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা শিবিরে মোট ৬৩টি প্রকল্প অনুমোদিত ও শুরু হয়েছে।

এ সময় কোস্ট ফাউন্ডশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,কক্সবাজার শহর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়া-আসা করতে অন্তত তিন ঘণ্টা সময় লাগে। সুতরাং কক্সবাজার শহরে বসে রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বড় এনজিও এবং আইএনজিওগুলো প্রকল্প পরিচালনা করলে খরচ অনেক বেশি হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় এনজিওগুলো মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ তহবিল পায়। অথচ তারা বড় ধরনের প্রকল্প খুব কম খরচে চালাতে পারে। সুতরাং রোহিঙ্গাদের সহায়তা কার্যক্রমে স্থানীয় এনজিওগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রোহিঙ্গাদের মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বানও জানান বক্তারা। ফাউন্ডেশনের যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক ইকবাল উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের শুধু মুখে তুলে খাওয়ানোর জন্য রাখা উচিত নয়। তাদের মানবসম্পদে রূপান্তর করা দরকার।’ আর ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ‘উখিয়া, টেকনাফে রোহিঙ্গারা ধীরে ধীরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিপরীতে স্থানীয়রা হচ্ছে সংখ্যালঘু। ফলে শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়ছে। এ জন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

‘রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার স্থানীয়করণ’ শিরোনামের গবেষণার জন্য চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পগুলোতে জরিপ চালানো হয়। এ ছাড়া, প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হয়েছে ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রতিবেদন থেকে।

মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এবং স্থানীয় সম্প্রদায় সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সেখানে উত্তেজনা বাড়ছে। আমাদের এই বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। মোঃ ইকবাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা

সম্প্রদায়কে শুধু মুখে তুলে খাওয়ানোর জন্য রাখা উচিত নয়; আমাদের তাদের মানবসম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত এবং তাদের বিশ্ব বাজারের সাথে সংযুক্ত করা উচিত। সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের নিখিল ভদ্র স্থানীয় এনজিওগুলির বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচালনা ব্যয় হ্রাস করে রোহিঙ্গাদের উন্নত এবং টেকসই জীবিকা নির্বাহের আহ্বান জানিয়েছেন। গবেষণার ফলাফলে রোহিঙ্গা প্রতিক্রিয়ার বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত পদক্ষেপ একটি আদর্শ এবং টেকসই সমাধান তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলোকে পর্যবেক্ষণ এবং
প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের ভূমিকায় থাকতে হবে, যেখানে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থাগুলো স্বল্প খরচের কার্যক্রম পরিকল্পনা করা এবং বাস্তবায়নের জন্য চালিকাশক্তি হিসেবে থাকবে।

Manual2 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক আমার দেশ থেকে মোঃ সালাউদ্দীন এবং ইমরান হোসেন, এইচআরআইডিএ বাংলাদেশ থেকে গোলাম মোর্শেদ এবং জাগোনিউজ২৪.কম থেকে মুসা আহমেদ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ: বড় এনজিওর খরচ বেশি
  • স্থানীয়দের কম
  • Manual1 Ad Code
    Manual3 Ad Code