ইরানের সঙ্গে চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে আলোচনায় যোগ দিতে যাচ্ছেন।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের আলোচনা এখন চুক্তি ও নতুন হামলার ‘সীমারেখায়’ অবস্থান করছে।

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আসিম মুনিরের ভূমিকা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।রুবিও বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল আজ তেহরান সফর করবে। আশা করা যায়, এটি আলোচনাকে আরো কিছুটা এগিয়ে নিয়ে নেবে।’

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি।সরাসরি সংঘাতের বদলে এখন চলছে বাক্যুদ্ধ। বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে অচলাবস্থার প্রভাব। বিনিয়োগকারী থেকে কৃষক— সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

Manual2 Ad Code

বৃহস্পতিবার ইরানের আইএসএনএ সংবাদ সংস্থা জানায়, মুনিরের সফরের উদ্দেশ্য হলো ইরান সরকারের সঙ্গে ‘আলোচনা ও পরামর্শ’ চালিয়ে যাওয়া। তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইরানের অন্যান্য গণমাধ্যমেও একই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গত এপ্রিলে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর সেটিই ছিল প্রথম আলোচনা। সেই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মুনির। তিনি দুই পক্ষের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও দেখান। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যর্থ হয়।

তেহরানের অভিযোগ ছিল, ওয়াশিংটন ‘অতিরিক্ত দাবি’ তুলেছে।এরপর থেকে দুই পক্ষ একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাও রয়ে গেছে।ট্রাম্প বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, বিষয়টি এখন একেবারে প্রান্তসীমায় রয়েছে। আমরা সঠিক উত্তর না পেলে খুব দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যাবে। আমরা সবাই প্রস্তুত।’

Manual7 Ad Code

তিনি আরো বলেন, সমঝোতা ‘খুব দ্রুত’ অথবা ‘কয়েক দিনের মধ্যে’ হতে পারে। তবে এজন্য তেহরানকে ‘শতভাগ সন্তোষজনক উত্তর’ দিতে হবে।ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় ন্যাটো মিত্রদেরও সমালোচনা করেন রুবিও। তিনি বলেন, ‘এতে আমরা খুবই অসন্তুষ্ট।’ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ বুধবার অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন আবার যুদ্ধ শুরু করতে চাইছে। ইরানের ওপর হামলা হলে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।

গালিবফ বলেন, ‘শত্রু প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা দেখাচ্ছে, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের পরও তারা সামরিক লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। তারা নতুন যুদ্ধ শুরু করতে চায়।’ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ওয়াশিংটনের পাঠানো প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

Manual1 Ad Code

জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতিতে সংঘাত বন্ধ হলেও হরমুজ প্রণালী এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়।হরমুজের ভবিষ্যৎ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে মজুত করা তেলের ভাণ্ডার কমে আসায় বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code