যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত : বিশ্ববাসীর জন‍্য দোয়া

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

Manual6 Ad Code

মাহফুজ আদনান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে:যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৭ মে বুধবার উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম এ উৎসবটি পালন করা হয় । চমৎকার আবহাওয়া থাকায় অনেক মসজিদের ব্যবস্থাপনায় খোলা মাঠে ও মসজিদে ঈদ জামাতে মানুষের ঢল নেমেছিল। ত্যাগের মহিমা নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত মুসলমানগণ এদিন পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় ।

Manual4 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বত্রই ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার অধিকাংশ ঈদ জামায়াত সকাল ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০ টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাললাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণ।

নিউইয়র্কে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, ব্রংকসের বাংলাবাজার জামে মসজিদ, নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার, জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টার, জ্যাকসন হাইটস মোহাম্মদী সেন্টার, পার্কচেস্টার জামে মসজিদ, মসজিদ আল আমান, আল আমিন মসজিদ, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, আসসাফা ইসলামিক সেন্টার, বায়তুল জান্নাহ মসজিদ, ফুলতলী ইসলামিক সেন্টার এন্ড মসজিদ, সানিসাইড মসজিদ, মসজিদ আবু হুরায়রা, দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদ, আল ফোরকান জামে মসজিদ, আমেরিকান মুসলিম সেন্টার, শাহজালাল মসজিদ, গাউছিয়া মসজিদ, পার্কচেস্টার ইসলামিক সেন্টার, ব্রঙ্কস মুসলিম সেন্টার সহ অন্যান্য মসজিদের ব্যবস্থাপনায় ঈদের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয় ।

এদিকে বাংলাদেশীদের অন‍্যতম সটেট মিশিগানে ব‍্‍্যাপক পরিসরে ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়েছে । স্টেটের ওয়ারেন হলমিচ পার্ক, ডেট্রয়েট জেইন ফিল্ড, ওয়ারেনের মসজিদ দারুল কোরআন, আল ইহসান জামে মসজিদ, হেমট্রামেক আল ইসলাহ মসজিদ সহ বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাতে বিপুল সংখ‍্যক মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল । ডেট্রয়েট জেইন ফিল্ডে ঈদের জামাতে ইমামতি করেন হাফিজ মাওলানা আহমেদ কাসিম দা. বা. ।

নামাজ শেষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি আর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের মুহূর্তগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছিল দেশের ঈদের স্মৃতি।

​খুতবায় যেমন ছিল ত্যাগের মহিমা, তেমনই মোনাজাতে ছিল বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ ও নির্যাতিত ভাই-বোনদের জন্য আকুল প্রার্থনা।প্রবাসের মাটিতে আমাদের নতুন প্রজন্মের বুকে ইসলামের আলো আর নিজেদের ঐক্য টিকিয়ে রাখার এক সুন্দর বার্তা দিয়ে শেষ হলো ঈদের জামাতগুলো।

ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রবাসীদের অনেকে গরু ও খাশী কুরবানী দেন। কিন্তু দেশের মতো পশু কিনে নিজ বাড়িতে নিয়ে কুরবানী করার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ প্রবাসী অবশ্য আগে থেকেই স্থানীয় গ্রোসারী ও হালাল পল্ট্রি ফার্মে কুরবানীর অর্ডার দিয়ে রাখেন। সুবিধামত সময়ে গ্রোসারী ও পল্ট্রি ফার্ম থেকে প্রবাসীরা তাদের পশু কুরবানীর মাংস নিয়ে যান। বেশ কিছু গ্রোসারী ও পল্ট্রি ফার্ম কুরবানীর মাংস সরবরাহ করে ঈদের পরদিন। নামাজ শেষে অনেকে ছুটে যান পশু খামারে। দূরবর্তী স্থানের পশু খামারে গিয়ে পছন্দের গরু, খাশী অথবা ভেড়া কুরবানী দেন। অনেকে বাংলাদেশি গ্রোসারি/সুপার মার্কেট এর মাধ্যমে কুরবানী দেন।

ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, জর্জিয়ার বিভিন্ন স্থানে খোলা ময়দানে পশু কুরবানীর পর নারী-পুরুষ মিলে মাংস প্রসেসিং করেন বলে জানা গেছে।
বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি দেশে কুরবানী দিয়েছেন বলে জানা গেছে।অনেকে নামাজ শেষে কাজে যান। কেউ কেউ ঘনিষ্টজন আর বন্ধুদের বাসায় গিয়েও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নামাজ শেষে অনেকেই বাংলাদেশে স্বজনদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদের নামাজ আদায়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির ব্যবস্থাপনা এবং সিটি প্রশাসনের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল উল্লেখ করার মত। জামাতের আশপাশেই ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদের নামাজ আদায়ের স্থানগুলোর আশপাশের রাস্তায় ফ্রি গাড়ী পার্কিং থাকায় দূর দূরান্ত থেকে নির্বিঘ্নে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লী সপরিবারে ঈদের নামাজে শরীক হন।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code