যুক্তরাজ্য সফরে মাখোঁ, বেয়ো ট্যাপেস্ট্রির উদ্বোধন, বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক বৃহস্পতিবার

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ দিন আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বুধবার ব্রিটেনে দুই দিনের সফর শুরু করছেন। সফরের প্রথম দিনে তিনি ঐতিহাসিক বেয়ো ট্যাপেস্ট্রির বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধনে অংশ নেবেন। বৃহস্পতিবার ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোনো নেতা হিসেবে তিনিই প্রথম বার্নহামের সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠক করতে যাচ্ছেন।মাখোঁর লন্ডন সফরে প্রতীকী গুরুত্বও রয়েছে। বুধবার বেয়ো ট্যাপেস্ট্রির প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে অংশ নেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার বার্নহামের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

প্রায় ৯৫০ বছরের পুরোনো এই ট্যাপেস্ট্রি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য ফ্রান্স থেকে ধার দেওয়ার উদ্যোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মাখোঁ। আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হবে।কূটনৈতিক দিক থেকে বার্নহাম ম্যাখোঁর সঙ্গে বৈঠক থেকে কিছু বাস্তব ফলাফল আশা করছেন। ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্য রয়েছে তার।

Manual1 Ad Code

জুলাইয়ে কিয়ার স্টারমারকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বার্নহাম মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। তবে তিনি ধীরগতির ব্রিটিশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের ঠেকাতে ফ্রান্সের সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় ধরনের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও নানা ভুল সিদ্ধান্ত, কেলেঙ্কারি ও নীতিতে বারবার পরিবর্তনের কারণে শেষ পর্যন্ত নিজের দল মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির কাছেই স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বার্নহাম এখন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নীতিতেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান তুলে ধরতে তিনি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের প্রতি লন্ডনের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।স্টারমার এ ক্ষেত্রে কিছুটা সফল হয়েছিলেন। তিনি মাখোঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন এবং মিত্র দেশগুলোর প্রশংসাও পেয়েছিলেন।

‘সমান গুরুত্বপূর্ণ’

Manual4 Ad Code

কিংস কলেজ লন্ডনের ইউরোপীয় রাজনীতি ও পররাষ্ট্রবিষয়ক অধ্যাপক আনন্দ মেনন সতর্ক করে বলেছেন, এই সফর ‘বিষয়বস্তুর চেয়ে বেশি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ’ হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইউক্রেন ইস্যুর মতো ইইউর বাইরের বিষয়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে মনে হলেও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।তিনি এএফপিকে বলেন, ‘বাস্তব বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর যেসব বিষয়ের প্রভাব রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতি এখনো খুবই জটিল।’

প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকার সময়ে বার্নহামের আগে দায়িত্ব পালন করা ব্রিটেনের পাঁচ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে স্টারমারের সঙ্গেই মাখোঁ সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর তথাকথিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সঙ্গে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।’

Manual8 Ad Code

বার্নহামের সঙ্গেও সমন্বয় ‘সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং নিয়মিত’ হবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।নেদারল্যান্ডস সফর শেষে ব্রিটেনে আসছেন মাখোঁ। তার বর্তমান মেয়াদের শেষ ছয় মাসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এই সফর তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

Manual8 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ইউরোপের নিজস্ব কৌশলগত সক্ষমতা ও স্বাধীনতার পক্ষে মাখোঁ দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন। ব্রেক্সিটের পরও এই পরিকল্পনায় ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code