বাতিল হতে যাচ্ছে শতাধিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: শিক্ষার্থী সঙ্কটে বাতিল হতে যাচ্ছে শতাধিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন। দেশে গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারেনি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী ৮৬টি প্রতিষ্ঠান। শর্তানুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করলে তার পাঠদানের অনুমোদন বাতিলযোগ্য। বর্তমানে সারাদেশে বেসরকারি শতাধিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী সঙ্কটে বেহাল দশায় রয়েছে। মাইকিং করেও প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী জোগাড় করতে পারছে না। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, টানা তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের ৮৬টি ডিপ্লোমা পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না তা জানতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে। তার আগে গত জুলাইয়ে টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ড দেশের ২৬টি কারিগরি এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছিল। সব মিলিয়ে ১১২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ওসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে বলে শোকজের চিঠিতে বলা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশজুড়ে অযোগ্য ও মানহীন বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছড়াছড়ি। সারাদেশে বেসরকারি পলিটেকনিকের ৪৬৭টি মধ্যে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৭০টি রয়েছে। যার অধিকাংশই মানহীন। আর ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। ওসব প্রতিষ্ঠানে যারা পড়ান তাদের যোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ। ওসব প্রতিষ্ঠানে শুধু ব্যবসার দিকে নজর থাকলেও মানের দিকে নজর নেই। ওসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের সাথে বোর্ড কর্মকর্তারা জড়িত। তাছাড়া শিক্ষা বোর্ডের কোনো কোনো কর্মকর্তা বিরুদ্ধে বেসরকারি পলিটেকনিক থেকে প্রতি মাসে টাকা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। দেশে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দেয়ার জন্য একটি নীতিমালা রয়েছে। বিগত ২০০৯ সালে প্রণীত ওই নীতিমালা ২০১২ সালে সংশোধন হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালার কী কী বাস্তবায়ন করছে তা বোর্ড কর্মকর্তারা জানেন না। বরং অভিযোগ রয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিয়েছে। বরং নীতিমালার ৫০-৬০ শতাংশ মানলেই প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়া হয়।

Manual4 Ad Code

সূত্র আরো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীশূন্য পঞ্চগড় সদরের নতুন বস্তি এলাকায় অবস্থিত মিনাল বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। কাগজ কলমে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫ জন শিক্ষক থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো প্রশিক্ষকই প্রতিষ্ঠানে আসে না কেউ। মাঝেমধ্যে প্রতিষ্ঠানে আসেন অধ্যক্ষ। গত পাঁচ বছর ধরে এ অবস্থা চলছি। যদিও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০-এর বিধি ৪.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমোদনের সময় আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারে। বর্তমানে ৩ বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। এদিকে এ প্রসঙ্গে একটি বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জামিনুল ইসলাম জানান, করোনার পর থেকেই কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী কমে যাওয়া শুরু হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা জেনারেল শিক্ষামুখী হওয়ায় গত ৪ বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি কারিগরি শিক্ষায় সরকারের সুনজর জরুরি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code