

বাংলা নিউজ ইউ এস এ ডেস্ক ঃ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যাওয়া বিএনপির ত্রাণ বহরকে বাঁধা দিয়ে ২২টি ট্রাক কক্্রবাজারে আটকে দিয়েছে পুলিশ। বিএনপি অভিযোগ করেছে ট্রাকগুলোকে রাস্তায় আটিকয়ে পুলিশ চাবি নিয়ে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিনিধি দল ত্রান নিয়ে সেখানে পৌছুতে পারেননি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির ত্রাণ দলের নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ২২টি ট্রাক সহ ত্রান নিয়ে কক্্রবাজারে পৌছুলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এসময় মীর্জা আব্বাসের সঙ্গে পুলিশের বাক বিতন্ডাও হয় বলেও জানা গেছে। বাধার মুখে ত্রাণ বহর নিয়ে শরণার্থীদের অস্থায়ী ক্যাম্পে যেতে না পেরে বিএনপির প্রতিনিধি দলটি বিকাল ৩টার দিকে কক্্রবাজার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মীর্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপি এখানে রাজনীতি করতে আসেনি, ত্রাণ দিতে এসেছিল। সেই ত্রাণ বিতরণে বাধা দিয়ে সরকার অপরাধ করেছে।’ ত্রাণ বিতরণে বাধা দিয়ে ‘জঘন্য উদাহরণ সৃষ্টি করলো’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প গুলোতে যারা আছেন তাদের কোন গোসল নেই, পানি নেই, খাদ্য নেই, ওখানে মানবিক বিপর্যয় চলছে। ওখানে গেলে আমরা তা জেনে যাবো। তার জন্যই আমাদের সেখানে যেতে দেয়া হয়নি।’ মীর্জা আব্বাস জেলা প্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্বৃত করে সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিএনপির ত্রাণগুলো সরকারের কাছে (জেলা প্রশাসন) জমা দিতে হবে। তারাই সেটা বিতরণ করবে! তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ত্রাণ কখনোই সরকারের কাছে জমা দেবো না। বিএনপি তো ডিসি ও আওয়ামী লীগের কথা মতো চলবে না। আমাদের ত্রাণ আমরাই দেবো।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার ইচ্ছা করলে আমাদের ত্রাণ সিজ করতে পারে!’ তিনি পুলিশী বাধার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ত্রাণ দিতে যাওয়ার সময় দেখলাম, ট্রাক আর চলে না! পুলিশ চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে চালকদের সরিয়ে দেয়। পরে চালকদের খুঁজে আনলে চাবি ফিরিয়ে দেয়া হলেও গাড়িবহরের সামনে পুলিশের একটি পিকআপ দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে।’ বিএনপির ত্রাণ দলটি ৯ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কক্সবাজার এসেছিলেন। এগুলোর মধ্যে ৯ হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী ও সাড়ে ৩ হাজার পরিবারকে প্লাস্টিক সিট দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির খান জুয়েল প্রমূখ।