পৃথিবীটাকে পাল্টে দিচ্ছে যে ৭ জন কিশোরী

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক :: যুগে যুগে মানুষের কল্যাণের জন্য নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন কিছু মানুষ। সমাজকে পরিবর্তনের জন্য তারা সব ধরণের বাঁধাকে অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে। পরিবর্তনকামী এসব মানুষের কাতারে আছেন শিশু-কিশোররাও। ক্ষুদিরামের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে আমাদের? মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিপ্লবী কর্মকান্ড শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁকে এসব কর্মকান্ডের জন্য ফাঁসির দড়িতেও ঝোলানো হয়। আমরা আজ পৃথিবীর এমন কিছু কিশোরীর সম্পর্কে জানবো যারা পৃথিবীকে পরিবর্তনের জন্য নিজেকে প্রানপনে বিলিয়ে দিচ্ছেন।

১। মালালা ইউসুফজাই
মালালা ইউসুফজাইকে বলা হয়ে থাকে বিশ্বের পরিবর্তনকামী মানুষদের মধ্যে একজন পথিকৃৎ। নারী শিক্ষার জন্য তাঁর জোরালো বক্তব্য বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ব্যাপকভাবে আলোচিত। তালেবান অধ্যুষিত পাকিস্তানের একটি এলাকায় ১১ বছর বয়সী স্কুল-শিক্ষার্থী ছিলেন মালালা ইউসুফজাইয়ের মাথায় গুলি করেছিল অস্ত্রধারী তালেবানরা। নারী হয়েও স্কুলে যাওয়ার অপরাধে মালালাকে এ শাস্তি দিয়েছিল তালেবানরা। তালেবানদের গুলির আঘাতে আক্রান্ত হয়ে আরও বেশি তেজোদ্দিপ্ত হয়ে উঠেন মালালা। বিশ্বের সব নারীদের প্রেরণার উৎসে রূপ নেয় মালালার সব কর্মকান্ড। সমাজের পরিবর্তনে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

২। জুলিয়া ব্লুম
অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুলিয়া ব্লুম “সেভেন্টিন ম্যাগাজিন” নামের একটি ম্যাগাজিনের বিরুদ্ধে অনলাইন পিটিশন গড়ে তোলেন। সেভেন্টিন ম্যাগাজিন মূলত ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোদের জন্য একটি ম্যাগাজিন। এটিই কিশোরীদের জন্য পৃথিবীর সর্বপপ্রথম ম্যাগাজিন। এই ম্যাগাজিনটিতে সাধারণত কিশোরী মডেলদেরকে উপস্থাপন করা হয়। এ ম্যাগাজিনের অপরাধটি ছিল তারা সুন্দরী কিশোরীদেরকেই শুধুমাত্র এখানে উপস্থাপিত করতো। যাদের মধ্যে ন্যূনতম ত্রুটি রয়েছে কর্তৃপক্ষ তাদের ছবিগুলো ফটোশপের মাধ্যমে পরিমার্জন করে তারপর প্রকাশ করতো। এ বিষয়টি শুধুমাত্র জুলিয়া ব্লুমের নজরে পড়েছে তা নয়। সারা বিশ্বের অনেক মানুষের কাছেই এ ব্যাপারটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। জুলিয়া ব্যতিক্রমী উপায়ে সেভেন্টিন ম্যাগাজিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। শুধুমাত্র অভিযোগের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে জুলিয়া ব্লুম ধীরে ধীরে কথা বলতে শুরু করেন ও অনলাইন পিটিশন তৈরি করেন। তিনি সেভেন্টিন ম্যাগাজিনকে বুঝিয়ে দিতে চান, এতে করে কিশোরীদের আত্মসম্মান কমানো হচ্ছে। তিনি সেভেন্টিন ম্যাগাজিনকে অপরিমার্জিত ও সত্যিকার ছবি উপস্থাপনের পরামর্শ দেন।

৩। ট্যাভি গেভিনসন

Manual1 Ad Code

ট্যাভি গেভিনসন অসম্ভব সফল একজন মানুষ। কারণ তিনি যা করতে চেয়েছেন তা তিনি সফলভাবেই করতে পেরেছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ফ্যাশন ব্লগার ট্যাভি গেভিনসন প্রতিষ্ঠা করেন “রুকি ম্যাগাজিন”। এ ম্যাগাজিনটি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য এবং মেয়েদের দ্বারা পরিচালিত। এই ম্যাগাজিনটিই সর্বপ্রথম নারীদের অবলা সব কথা ও সমস্যা সত্যনিষ্ঠভাবে, খোলাখুলি ও স্মার্টলি প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে। প্রথমে অনেক সমালোচকের কোপানলে পড়লেও পরবর্তীতে ঠিকই গ্রহনযোগ্য একটি অবস্থায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল ট্যাভি গেভিনসনের “রুকি ম্যাগাজিন”।

৪। জুলস স্পেক্টর

জুলস স্পেক্টর মাত্র ১৩ বছর বয়সে নারী অধিকার আন্দোলনের বলিষ্ঠ এক কন্ঠে পরিণত হোন। “টিন ফেমিনিস্ট” নামে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী এক ব্লগ প্রতিষ্ঠার পরই সবার নজরে আসেন জুলস স্পেক্টর। নারী অধিকার কেন্দ্রিক ইস্যুগুলোকে বর্ণীল এক আসন দিয়েছেন জুলস স্পেক্টর। উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে শিশু-পতিতাবৃত্তি দূরীভূত করার জন্য তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। নারী সমাজকে বিনির্মান করার জন্য জুলস স্পেক্টর যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

Manual8 Ad Code

৫। ঝ্যান হাইত

Manual7 Ad Code

মাত্র ১৫ বছর বয়সে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য বিশ্বব্যাপী খ্যাতি পান ঝ্যান হাইত। চীনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা “হুকো” নিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান ঝ্যান হাইত। “হুকো” চীনে প্রচলিত এমন একটি নিয়ম যেখানে হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিকের হাই স্কুল এন্ট্রেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কোন সুযোগ থাকছে না। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় অভিবাসী মানুষরা আর্থিক অস্বচ্ছলতা থেকে বের হতে পারছে না। সমাজের মানুষের নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও পিতা-মাতার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ঝ্যান হাইত এ নিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।

৬। অ্যালিসন অ্যালস্ট্রম
অ্যালিসন অ্যালস্ট্রম মাত্র ১৫ বছর বয়সী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার ও সমাজসেবী। অ্যালিসন অ্যালস্ট্রম গরীব কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নতুন ও বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড় দান করার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। “থ্রেডস ফর টিনস” নামে তাঁর সংগঠনটি বর্তমানে শত শত কিশোরীর বেঁচে থাকার ও অনুপ্রেরণার উৎস।

Manual3 Ad Code

৭। সারাহ গেইল
যুক্তরাষ্ট্রের বোকা রটন এর অধিবাসী ১৬ বছর বয়সী সারাহ গেইল একজন ত্রিভাষী। বছরের পর বছর ধরে পৃথিবীকে পরিবর্তনের জন্য কাজ করে চলেছেন সারাহ গেইল। তাঁর মায়ের জন্মভূমি কলম্বিয়ার কিশোর-কিশোরীদের দারিদ্রমুক্তির জন্য কাজ করে চলেছেন সারাহ গেইল। “গার্ল আপ” নামের একটি সংগঠনের তিনি একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এ সংগঠনটি জাতিসংঘের দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। উন্নয়নশীল দেশের তরুণ নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে এ সংগঠনটি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code