গাড়ি আমদানি কমেছে ৪৬ শতাংশ

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual6 Ad Code

বড় ধরনের শুল্ক বৈষম্যের কারণে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি দিন দিন কমছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয় আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে বারভিডার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি আবদুল হক এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

Manual7 Ad Code

তিনি জানান, শুল্ক বৈষ্যমের কারণে কয়েক বছরের তুলনায় গাড়ি আমদানি কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। এর ফলে সরকার হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে।

Manual3 Ad Code

আবদুল হক বলেন, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ক্রমাগতভাবে কমার ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। সরকারের রাজস্ব আয়ও লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। রিকন্ডিশন্ড ও নতুন গাড়ির শুল্ক কাঠামো এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে, নতুন গাড়ির চেয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হচ্ছে। ফলে চাহিদা ও ক্রেতা কমেছে। এতে আমদানিও হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন গাড়ির কোনো কোনো উৎপাদক/ এসেম্বেলর জাপান থেকে আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়িগুলোকে ‘পরিবেশ দূষণকারী’ বলে অভিহিত করছেন, যা আসলে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেশে বছরে নতুন গাড়ির চাহিদা কত, সে বিষয়ে কোনো সমীক্ষা না করেই নতুন গাড়ি উৎপাদন ও সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখা দরকার।

Manual2 Ad Code

বারভিডার সভাপতি বলেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে ২৩ হাজার ৭৫টি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৫০২টি।  অর্থাৎ গাড়ি আমদানি কমেছে মোট ১০ হাজার ৫৭৩টি।  এর ফলে এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব কমেছে হাজার কোটি টাকার বেশি। আমদানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বর্তমান ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে আমদানি হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৪৩৮টি গাড়ি এবং রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৮৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

Manual7 Ad Code

উদাহরণ দিয়ে আবদুল হক বলেন, একটি পুরনো এম/আউটল্যানডার, ডিবিএ-জিএফ সেফেন ডব্লিউ ২ হাজার সিসির ২০১৪ সালের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আগের মূল্য ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভিত্তিতে শুল্ক-কর গ্রহণ না করে নতুন ইয়েলো বুক হিসেবে গাড়ির মূল্য ১৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ধরা হয়। অথচ ইয়েলো বুকের বছরওয়ারি পুরনো মূল্যে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কমূল্য নির্ধারিত হওয়াই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেটা না করায় ২১২.০৪ শতাংশ শুল্ক ধরার কথা বললেও বাস্তবে কর আরোপিত হয় ৩০৮.০৪ শতাংশ।  অন্যদিকে, একই মডেলের ২০১৯ সালের নতুন গাড়ির প্রকৃত ক্রয়মূল্য ১৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকার পরিবর্তে আমদানিকারক কর্তৃক ঘোষিত মূল্য ধরা হয় ১২ লাখ ৯ হাজার টাকা। এখানে ২১২.০৪ শতাংশ কর ধরা হলেও ক্রয়মূল্য কম ধরায় শুল্ক-কর বাস্তবে ১৭৭.০৪ শতাংশ পড়ে যায়। ফলে নতুন গাড়ির বাজারমূল্য পুরাতন গাড়ির চেয়ে কম হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code