

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) :
হবিগঞ্জ ৩ সহ¯্রাধিক দর্শক শ্রোতাকে মাতিয়ে গেলেন, দেশের প্রখ্যাত টিভি শিল্পী কিরন চন্দ্র রায়,লালন কন্যা চন্দনা মজুমদার। হবিগঞ্জ জেলা শহরের কালীবাড়িতে একই মঞ্চে গান করেন বিখ্যাত এ শিল্পী যুগল। রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের পরিবেশনা চলে বিরতিহীন। প্রয়াত আব্দুল করিমের ‘ভাবিলে কী হবে গো, যা হবার তা হইয়া গেছে’ গানের মাধ্যমে শুরু করেন চন্দনা মজুমদার, শেষ করেন ‘মনপুরা’ সিনেমায় তার গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘সোনার পালঙ্কের ঘরে’ দিয়ে। চন্দনার প্রস্থানে মঞ্চে আসেন কিরণ চন্দ্র রায়। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তিনি চমৎকার পরিবেশনায় মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন। বিখ্যাত এ দুই শিল্পীর গান উপভোগ করতে হবিগঞ্জ জেলার ৯ উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তিন হাজারেরও বেশি দর্শক ভীড় করেন। অনুষ্ঠানে আরো গান হবিগঞ্জের সন্তান ‘চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ’ অশিকও।
হবীগঞ্জ জেলা সৎসঙ্গের উদ্যোগে যুগপুরুষোত্তম পরম প্রেমময় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনকুল চন্দ্রের ১৩২ তম উৎসব বিভিন্ন অনুষ্টানমালার মধ্য দিয়ে গত শুক্রবার রাতে হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় কালীবাড়ীতে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্টানমালার মধ্যে ছিল, গীতাপাঠ,যুব সম্মেলন,বস্ত্র বিতরন, ৫টি বিভাগে চিত্রাংকন প্রত্রিযোগীতা, সকালে ঠাকুরের প্রতকৃতিসহ মঙ্গল শোভাযাত্রা,দুপুর ২ টায় আনন্দবাজারে প্রসাদ বিতরন,সন্ধ্যা ৬টায় শ্রী শ্রী ঠাকুরের দৃষ্টিতে বিবাহনীতি বিষয়ের উপর ধর্ম সভা। বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ জেলা সৎসঙ্গের সভাপতি এডভোকেট পরিতোষ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং মৃদুল চন্দ্র গোপের পরিচালানায় এতে বক্তব্য রাখেন,নবীগঞ্জ উপজেলা সৎসঙ্গের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক উত্তম কুমার পাল হিমেল,মৃম্ময় কান্তি দাশ বিজন,হিমাংশু চন্দ্র দেব,মাধব চক্রবর্ত্তী,পরিমল চন্দ,দিলীপ কুমার ঘোষ,তরুন দেবরায়,বীরেন্দ্র দাশ,সন্ধ্যা রানী দাশ,আশিষ দেব প্রমূখ। পরে সনজিত দাশের পরিচালনায় সংগীতানুষ্টানে গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। সবশেষে গরীব দুঃস্থ শতাধিক মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরন করা হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিন, ,দুপুর ১২ টায় ঠাকুরের লীলাকীর্তন,কীর্তন পরিবেশন করেন সিলেটের লীলা কীর্তনীয়া শ্রী বিশ্বদেব ভট্টাচার্য,সন্ধ্যা ৬টায় শ্রী শ্রী ঠাকুরের দৃষ্টিতে বিবাহনীতি বিষয়ের উপর ধর্ম সভা। উৎসব কমিটির সভাপতি সুনীল চন্দ্র দাশের সভাপতিত্বে এবং উৎসব কমিটির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট লায়ন অর্জুন চন্দ্র রায়ের পরিচালনায় এতে প্রধাণ বক্তা ছিলেন,সাতক্ষিরার এসপিআর কালী চরন মন্ডল। এতে বক্তব্য রাখেন,এসপিআর সুকুমার দাস রঞ্জন,এসপিআর অমলেন্দু দেবরায় খোকন,এসপিআর অরবিন্দু চৌধুরী,এসপিআর শ্যামলাল মন্ডল,এসপিআর মনোরঞ্জন দাশ,এসপিআর সুকুমার দাশ,এসপিআর রতন দেব,এসপিআর নিশিকান্ত দাশ,হবিগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট স্বরাজ রঞ্জন বিশ্বাস,হবিগঞ্জ জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট নলীনী কান্ত রায় নীরু,সাধারন সম্পাদক শংখ শুভ্র রায় প্রমূখ।
প্রধান আলোচক এসপিআর কালী চরন মন্ডল বলেন,এ ধরাধামে মানব কল্যানের জন্য শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুল চন্দ্র আর্বিভুত হয়েছিলেন। তাই তাঁর বানী ও আদর্শ অনুসরন করে মানুষ পেয়েছে সঠিক পথের সন্ধ্যান। জীবের কল্যানের জন্য ঠাকুরের প্রতিষ্টিত মানুষ গড়ার সংগঠন সৎসঙ্গের নেতৃবৃন্দ সারা বিশ্বে আজ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সভাশেষে চিত্রাংকন প্রযোগীতায় বিজয় ১৫ জনকে ক্রেষ্ট এবং অংগ্রহনকারী বাকী ৩০ জনকে শুভেচ্ছা পুরস্কার প্রদান করা হয়। পরে ওস্তাদ সরোজ কান্তি ভট্টচার্য্যরে সঞ্চালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে সংগীত পরিবেশন করেন দেশের প্রখ্যাত টিভি শিল্পী কিরন চন্দ্র রায়,লালন কন্যা চন্দনা মজুমদার,হবিগঞ্জের গর্ব বাউল শিল্পী আশিক। অনুষ্টানে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও উৎসব কমিটির লোকজনসহ ৩ সহ¯্রাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।