আজ আক্কেলপুর হানাদার মুক্ত দিবস

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

মওদুদ আহম্মেদ আক্কেলপুর (জয়পুরহাট):

Manual4 Ad Code

১৩ ডিসেম্বর জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বিজয়ের তিন দিন আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে আক্কেলপুর ছেড়ে চলে যায়।

Manual5 Ad Code

প্রতিবছর এ দিনটি ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে যোদ্ধারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আক্কেলপুরবাসী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতাকামীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

আক্কেলপুর উপজেলা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। পাকিস্তানি সেনা বাহিনী এবং এ দেশীয় দোসর রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা মিলিত ভাবে মার্চ মাসের শুরু থেকেই গ্রামে গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ নির্বিচার হত্যাকান্ড চালায়।

একাত্তরের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের কবল থেকে দেশমুক্ত করার জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এপ্রিলের প্রথম দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সান্তাহার হয়ে ট্রেনযোগে আক্কেলপুরে আসার পথে ভদ্রকালী গ্রামে নিরীহ মানুষের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেখানে একজন মানুষকে হত্যাও করে। পাকিস্তানী বাহিনী আক্কেলপুরে প্রবেশ করে। আর সে সময় পাকিস্তানিদের দোসর রাজাকার লোকজন যোগ দেয় মিলিটারিদের সঙ্গে। মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান পার্শ^বর্তী দেশ ভারতে।

Manual4 Ad Code

পাক জান্তারা আক্কেলপুর রেলস্টেশন, সিনিয়র মাদ্রাসাসহ কয়েক জায়গায় ক্যাম্প তৈরি করে। বগুড়ার জলশ^রীতলার মোজাম পাইকারের সন্তান আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগ নেতা খোকন পাইকার দেশ মাতৃকাকে হানাদার মুক্ত করার লক্ষে ভারত থেকে সামান্য রুনো প্রশিক্ষন গ্রহন করে কয়েক জন সহযোগীসহ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ১৯৭১ সালের ৬ জুনের এক সকালে পাশর্^বর্তী নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানা হয়ে দক্ষিন কানুপুর ও রোয়ার মাঠের মধ্যে দিয়ে বগুড়া অভিমুখে যাত্রাকালে রোয়ার মাঠে রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর হাতে ধৃত হন, ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! তাদের কাছে থাকা হ্যান্ড গ্রেনেডের সেপ্টি পিন খুলে ওদের দিকে নিক্ষেপ করলে কাদাতে পড়ে সেটি অবিস্ফরিত হয়। অন্য সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হলেও খোকন পাইকার ধরা পড়েন রাজাকার বাহিনীর হাতে। রাজাকারেরা তাকে বিভিন্ন ভাবে নিযার্তন করে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিলে তাকে ওই রাতে নির্মম ভাবে হত্যা করেন। তার নামেই তৈরি হয় বগুড়া শহীদ খোকন পার্ক। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে এখানে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন।
৯ মাসের যুদ্ধের পর ১৩ ডিসেম্বর সকালে হানাদার বাহিনী আক্কেলপুর থেকে জয়পুরহাট ও বগুড়ার অভিমুখে পালিয়ে যায়। দালাল, রাজাকাররা আত্মগোপন করে। এ দিন বিকেলে আক্কেলপুরে প্রবেশ করেন শত শত মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীন হয় আক্কেলপুর। উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code