উলিপুরে সাবেক এমপির নাম রাজাকারের তালিকায়

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) :
কুড়িগ্রামের উলিপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগের সাবেক এমপির নাম রাজাকারের তালিকায় থাকায় উপজেলা জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের নিয়োগকৃত মাইনকারচর উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ের পলিটিক্যাল সুপারভাইজার আমজাদ হোসেন তালুকদার মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় কর্তৃক ১৫ই ডিসেম্বর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় নিজের নাম দেখে হতবাক হয়েছেন। প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় নিজের নাম থাকায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
জানা গেছে, প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় ১৪৮ নং পৃষ্টায় ৩৭৭ নং ক্রমিকে আমজাদ হোসেন তালুকদার, পিতা-কাচু তালুকদার, সাং-ধামশ্রেনী উল্লেখ করা হয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় কর্তৃক তাকে দেয়া সাময়িক সনদপত্র নং-ম ১৯৮৪৯৭ ও বেসামরিক গেজেট নং-৩৯০১, আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন তালুকদার, পিতামৃত আবুল কাশেম তালুকদার উল্লেখ আছে। তিনি একজন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধা ও কুড়িগ্রাম-৩ আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি এবং যুদ্ধকালীন সময়ের থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন তালুকদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের নিয়োগকৃত মাইনকারচর উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ের পলিটিক্যাল সুপারভাইজার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে পরবর্তীতে ওই সরকারের অধিনে সহকারী কাস্টমস অফিসার হিসাবে রৌমারীতে চাকুরী করি। এ সময় উলিপুর, চিলমারী ও রৌমারী থানার শত-শত তরুন যুবককে কাকরীপাড়া ও রৌমারী ক্যাম্পে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য সহায়তা করি। শুধু তাই নয়, রৌমারী ক্যাম্পের মেজর হামিদুল্যাহ খাঁন সাহেবের সাথে পরামর্শ করে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল অপারেশনের জন্য উলিপুরে প্রেরন করা হয়। ওই দলটি উলিপুরের কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে অপারেশন চালিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার শুরু হলে ২০ নং মামলায় সরকার পক্ষের স্বাক্ষী হিসাবে শান্তি কমিটির সদস্য ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের বকিয়ত উল্যা ও গুনাইগাছ ইউনিয়নের খড়কুসহ ৮-১০জন রাজাকারের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী প্রদান করি। যেখানে স্বাক্ষীদাতা হিসাবে আমার নাম থাকার কথা, সেখানে রাজাকারের তালিকায় আমার নাম আসায় আমি হতবাক।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ২৫ বছর উলিপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭ কুড়িগ্রাম-৩ আসনের আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যে একমাত্র আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হই। বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও উলিপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে শেষ বয়সে এসে রাজাকারের তালিকায় আমার নাম থাকা খুবই দুঃখজনক।
উলিপুর উপজেলার ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারন সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ সরকার, মুক্তিযোদ্ধা ফুল মিয়া, আবুল হোসেন ভূঁইয়া, আব্দুল কাইয়ুম সরকার, আব্দুল বাতেন, ভবেশ চন্দ্র সরকার এবং সোহবার আলীসহ অনেকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রাজাকারের তালিকায় আসা খুবই দুঃখজনক। এটা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করার সামিল। এই তালিকা তৈরির পিছনে যাদের হাত রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code