করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘ব্যাপক’ ক্ষতির আশঙ্কা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গেছে চীনের অর্থনীতি। ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যটন ক্ষেত্রে চীন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সে প্রভাব গিয়ে বিস্তৃত হচ্ছে বড়ো অর্থনীতির দেশসহ দেশের পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব এড়াতে পারছে না বাংলাদেশও।

করোনা ভাইরাসের ফলে বহুজাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ধস নেমেছে চীনের শেয়ারবাজারেও। এ ভাইরাস বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় চীন ভ্রমণে সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে ফ্লাইট, হোটেল বুকিং বাতিল করছে পর্যটকরা। এদিকে চীনের অর্থনীতির ১১ শতাংশ নির্ভর করে পর্যটন খাতের ওপর।

Manual5 Ad Code

চীনের অন্যতম জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ক্ষেত্র উহান শহর নিষিদ্ধ থাকায় জ্বালানি কেনা কমিয়ে দিয়েছে। আবার ফার্মাসিউটিক্যালস, আর্থিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায় অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসে চীনের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া চিকিত্সা খাতে চীনের বাড়তি ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার। ফলে এই ভাইরাস চীনের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়ো প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

 

করোনা ভাইরাসে চীনের পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির। বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। প্রতি বছর বাংলাদেশের মোট আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে চীন থেকে। তবে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে-সঙ্গেই বন্ধ রয়েছে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি।

চায়না বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার। ২০২১ সাল নাগাদ এটি ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতো। তবে এই সম্ভাবনায় করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। চীন থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই আমদানি করা হয় চীন থেকে।

Manual6 Ad Code

এর বাইরেও কাপড়, আদা, রসুন, বিভিন্ন প্রকারের খাদ্যসামগ্রী, মেশিনারি, খুচরা যন্ত্রাংশ, খেলনা, মোবাইল, বৈদ্যুতিক সামগ্রী মিলিয়ে শত শত আইটেমের পণ্য আমদানি করা হয় চীন থেকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চীনে যেসব পণ্য রফতানি করে এগুলো হলো : চামড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য, চা, তৈরি পোশাক ও মত্স্যজাতীয় পণ্য।

এদিকে বাংলাদেশের বৃহত্ রপ্তানি খাত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া ব্যবসা। চলতি অর্থ বছরের (২০১৯-২০) প্রথম পাঁচ মাসে কাঁকড়ার রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৫৮০ কোটি টাকায়। অপরদিকে চলতি অর্থ বছরের একই সময় কুঁচিয়া রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার। এর মধ্যে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানির শতকরা ৯০ ভাগই হয় চীনে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ফলে চীন বাংলাদেশ থেকে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে দাম কমে গেছে কাঁকড়া ও কুঁচিয়ার। ফলে প্রতিদিন ৪ কোটি টাকা লোকসান গুনছে বাংলাদেশ।

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশের আমদানিকৃত পণ্যদ্রব্যের মধ্যে অন্যতম হলো ওষুধ তৈরির কাঁচামাল। বাংলাদেশে ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উত্পাদন করা হলেও এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করে আনা হয়। এছাড়া বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে চীনা কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র্র্র, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা বাইপাস সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের নাগরিকরা বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত আছেন।

আবার এসব মেগা প্রকল্পে ৯০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চীন। এছাড়া প্রায় ৮ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। আর সব মিলিয়ে মোট ১০ হাজার চীনা নাগরিক এখানে রয়েছেন। তাদের প্রায় ১০ শতাংশ চীনা নববর্ষের ছুটিতে দেশে গেছেন। তারা এখনই ফিরতে পারছেন না। এ কারণে এসব প্রকল্প শেষ হতে দেরি হবে। বাংলাদেশের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দীর্ঘ হলে পদ্মা সেতুসহ দেশের মেগা প্রকল্পে তার প্রভাব পড়তে পারে।’ তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, এই ভাইরাস সার্স মহামারির চেয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়ো প্রভাব ফেলবে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code