কৌশলী কূটনৈতিক পদক্ষেপ কাম্য

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual4 Ad Code

সম্পাদকীয়: মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে
দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল যুদ্ধ চলছে। জানা যায়, মিয়ানমারে সামরিক জান্তার ক্ষমতা
দখলের তৃতীয় বার্ষিকী সামনে রেখে এমন সংঘাতে জড়িয়েছে আরাকান আর্মি।
অসমর্থিত সূত্রের খবর, এতে চলতি সপ্তাহে ১২ থেকে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ
পরিস্থিতিতে চীন মধ্যস্থতা করে রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধবিরতির বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারে গোলাগুলির শব্দে সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে জনমনে আতঙ্ক দেখা
দিয়েছে। অনেকে সীমান্ত এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এ অবস্থায় সীমান্ত
এলাকায় সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রোববার সীমান্ত
এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিজিবির মহাপরিচালক।

Manual1 Ad Code

রাখাইন রাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে।
যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করেছে বলে জানা যায়নি,
তবে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মিয়ানমারে ১৯৭৭-৭৮ সালের ড্রাগন কিং
(নাগা মিন) অভিযানের পর হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল; যদিও
পরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হয় এবং উত্তেজনার
সাময়িক প্রশমন হয়। যদিও সেবার প্রত্যাবাসনের নীতি প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়ন
মোটেও সহজ হয়নি। নব্বইয়ের দশকের প্রথমদিকে সীমান্ত পার হয়ে রোহিঙ্গাদের
বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের মতো সমস্যা আবারও দেখা দেয়। তবে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা
শরণার্থীর আগমন ঘটে ২০১৭ সালের আগস্টে। বাংলাদেশ তখন মানবিক কারণে
রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিলেও মিয়ানমার সরকারের অনাগ্রহের কারণে
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আটকে যায়। সে বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার
সরকার একটি প্রত্যাবর্তন চুক্তি স্বাক্ষর করলেও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কিংবা
কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার বিষয়ে দ্বিমত থেকেই যায়। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং
২০১৯ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়। রোহিঙ্গা
প্রত্যাবর্তনের জন্য তালিকা প্রণয়নের পরও আশাব্যঞ্জক কিছু হয়নি।

এদিকে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চীনের
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতির চেষ্টার পাশাপাশি

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশের আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে চীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে
চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে ঢাকায়
জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি লুইস গুয়েনও জানিয়েছেন, এখন উপযুক্ত সময় না
হলেও পরবর্তীকালে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি
তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code