

নিউজ ডেস্কঃ
১৩ মে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকার মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে পুরুষদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একাধিক মসজিদে মহিলাদের জন্যও নামাজের ব্যবস্থা থাকছে। যারা মসজিদে নামাজ পড়তে যাবেন, তাদেরকে জায়নামাজ সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। অবশ্যই মাস্ক পরে যেতে হবে। মাস্ক ছাড়া মসজিদে প্রবেশ করা যাবে না। নামাজ পড়ার সময় মুসল্লিদের সিডিসির গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। প্রত্যেকের মধ্যে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব থাকতে হবে। যারা মাস্ক পরে যাবেন না, তাদের জন্য কোনো কোনো মসজিদে মাস্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
করোনার কারণে বড় পরিসরে মাঠে ঈদের নামাজ আয়োজন করা বেশির ভাগ মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। মসজিদেই হবে অধিকাংশ জামাত। আবহাওয়া ভালো থাকলে মসজিদের সামনের স্ট্রিটেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বেশির ভাগ মসিজেদ দুটি করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আগে যেসব মসজিদের আয়োজনে খোলা মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হতো, সেখানে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হতো। অনেক মসজিদেই তিনটি করে জামাত অনুষ্ঠিত হতো। এবার মসজিদের ভেতরেই জামাত হবে। দূরত্ব বজায় রাখার কারণে বেশি মুসল্লির স্থান সংকুলান করা সম্ভব হবে না।
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে ঈদের জামাত আয়োজনের চেষ্টা চলছে। সিটি অনুমতি দিলে টমাস এডিসন হাইস্কুলের মাঠে বড় পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। করোনার কারণে মাঠের অনুমতি না পেলে মসজিদের ভেতরে ও সামনে জামাত হবে। সিডিসির গাইডলাইন মেনে প্রত্যেক মুসল্লির মধ্যে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। মাঠে নামাজ হলে একটি জামাত হবে। মসজিদে হলে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মাঠ পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকায় এখনো জেএমসির তরফ থেকে ঈদের জামাতের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
নিউইয়র্কে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারেই ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পরিচালনা পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী জানান, ঈদের দিন বৃষ্টি হলে মসজিদের ভেতরেই একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মসজিদের ভেতরে এবং সামনে নামাজ হবে। অনুমতি পেলে টমাস এডিসন স্কুলের মাঠেও ঈদের জামাত হতে পারে। শিগগিরই নামাজের সময়সূচি চূড়ান্ত করে স্থান ও সময় ঘোষণা করা হবে। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের অফিস থেকেও একই তথ্য জানানো হয়েছে।
এস্টোরিয়ার আল আমিন মসজিদে ১২ বা ১৩ মে ঈদের চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঈদের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে মসজিদের ভেতরে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়। চতুর্থ জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। চতুর্থ জামাতে মহিলারা অংশ নিতে পারবেন। মসজিদের প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা করোনার কারণে মসজিদের ভেতরেই ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করছি। এবার বাইরে নামাজের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে না।
জ্যাকসন হাইটস মোহাম্মদী সেন্টারের উদ্যোগে প্রতিবছর দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এবার সেটি হবে না। এবার তারা অনলাইনে ফেসবুক লাইভে নামাজের ব্যবস্থা করছে। ফেসবুক লাইভে মানুষ ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারবেন। ইমাম কাজী কাইয়ূম বলেন, করোনার কারণে গত বছর অনলাইনে নামাজ পড়ানো হয়েছে। এবারও অনলাইনে ফেসবুক লাইভে নামাজের আয়োজন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা ফ্লায়ারের মাধ্যমে সবাইকে বিষয়টি জানাচ্ছি। এ ছাড়া অনলাইনে তারাবিহ ও জুমার নামাজও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি উম্মুল কোরা ক্যালেন্ডার ও মুনসাইটিংয়ের মাধ্যমে হিসাব করে দেখেছি, ঈদ ১২ মে হওয়ার সম্ভাবনা আছে ২৫ শতাংশ। আর ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা হচ্ছে ১৩ মে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ইস্ট এলমহার্স্ট জামে মসজিদ অ্যান্ড মুসলিম সেন্টার ইন্ক-এ মসজিদের ভেতরে দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল নয়টায় হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদ পরিচালনা পরিষদের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আবুল লেস বলেন, আমরা ঈদের জামাতের জন্য ওয়াক্ত নামাজের পর ফ্লায়ার দেব। এর পাশাপাশি ঈদের আগের দিন পর্যন্ত জুমার নামাজ ও তারাবিহর নামাজে ঈদের জামায়াতের ঘোষণা অব্যাহত রাখব।
ব্রঙ্কসের বায়তুল ইসলাম মসজিদ অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টার ইনক-এ এবার ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানকার ইমাম ও খতিব মাওলানা মোহম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে নামাজের সময়সূচি ঠিক করেছি। ইমাম মাওলানা ক্বারী মোহম্মদ রহমতউল্লাহ মজিদী বলেন, আমাদের মসজিদের ভেতরে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতটি আমি পড়াব। আর দ্বিতীয়টি পড়াবেন আমাদের আরো একজন ইমাম মাওলানা মোহম্মদ মাহবুবুর রহমান। মসজিদে দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ হবে। ২০০ মুসল্লি নামাজে অংশ নিতে পারবেন। আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই নামাজের ব্যবস্থা করব। মাস্কও থাকবে। যারা মাস্ক আনতে ভুলে যাবেন, তারা মসজিদ থেকে মাস্ক নিতে পারবেন। আমাদের প্রথম জামাত হবে সকাল আটটায়, পরবর্তী জামাত সকাল নয়টায়।
দারুস সালাম মসজিদ ইনক-এ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১২ কিংবা ১৩ মে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রথম জামাতে কেবল পুরুষেরা অংশ নিতে পারবেন। অন্যান্য জামাতে নারী-পুরুষ উভয়েই অংশ নিতে পারবেন। কাজী ইমাম মাওলানা আব্দুল মুকিত বলেন, দারুস সালাম মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে ৫টি। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল পৌনে আটটায়, তৃতীয় জামাত সকাল সাড়ে আটটায়, চতুর্থ জামাত সকাল সোয়া নয়টায় এবং পঞ্চম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল দশটায়। যারা নামাজে যাবেন তাদের প্রত্যেককে মাস্ক ও জায়নামাজ নিয়ে যেতে হবে।
দারুল উলম নিউইয়র্কে এখনো ঈদের জামাতের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রস্তুতি চলছে নামাজের সময়সূচি ঠিক করার। এ ব্যাপারে দারুল উলম অফিসের শরিফ রফিক জানান, এখনো ঈদের নামাজের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে দুই থেকে তিনটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নামাজের আয়োজন করা হবে। কোভিডের কারণে অন্যান্য বারের মতো বেশিসংখ্যক মানুষের জন্য জায়গার সংকুলান হবে না।
জানা গেছে, নিউইয়র্কের আরো কয়েকটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাবাজার জামে মসজিদ এবং ওজন পার্কের ফুলতলী ইসলামি সেন্টার।
এস্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টার এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পার্কচেস্টার জামে মসজিদের উদ্যোগেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
জ্যাকসন হাইটসের দারুল ফোরকান মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জ্যাকসন হাইটসের আন নূর মসজিদেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ব্রুকলিনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ব্রুকলিনের নিউকার্কের বেলাল মসজিদে ঈদের জামাত হবে। ব্রুকলিন ইসলামি সেন্টারের উদ্যোগেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ব্রুকলিনের বায়তুস শরফ জামে মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করেনি তারা। এ ব্যাপারে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি গোলাম হোসেন বলেন, আমরা এখনো সময় ঠিক করতে পারিনি। হাতে এখনো সময় আছে। দু-চার দিনের মধ্যেই ঈদ জামাতের সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।