নিউইয়র্কে মুসলিম শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসী বলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ১২ জানু ২০২১ ১১:০১

নিউইয়র্কে মুসলিম শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসী বলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

এক মুসলিম শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসী বলার কারণে শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটির একটি হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে এক মুসলিম শিক্ষার্থীকে হয়রানি করে আসছিলেন। সূত্র জানিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম দুহা এলখৌলি। ১৬ বছর বয়সী দুহা আপার ওয়েস্ট সাইডের লাগার্ডিয়া হাই স্কুলের একজন শিক্ষার্থী। দুহা স্কুলে তাকে হয়রানির প্রসঙ্গে বলেন, যতবার আমি ক্লাসে প্রবেশ করতাম আমি আমার নিজের জন্য, আমার ধর্মের জন্য আমার পরিচয়ের জন্য লজ্জিত হতাম।

ইসলাম ধর্মাবলম্বী দুহা জানান, ২০১৯ সাল থেকে ওই শিক্ষক তাকে ধর্মের কারণে হয়রানি করে আসছিলেন। ক্লাসে সবার সামনে দুহাকে তিনি সন্ত্রাসী বলে ডাকতে শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে দুহা বলেন, তিনি আমাকে বললেন, আমি ভেবেছিলাম তুমি তালা কীভাবে খুলতে হয় সেটা শিখতে অনুশীলন করছো। আমি তাকে বলি, আমি এমন কোনো কিছু অনুশীলন করছিনা আর কেনই বা আমাকে এটা করতে হবে? জবাবে তিনি সাথে সাথে আমাকে বলেন, কারন তুমি একজন সন্ত্রাসী।
দুহাকে সন্ত্রাসী বলার সাথে সাথে ক্লাসের অনেক বন্ধু প্রতিবাদ জানায়। দুহা বলেন, অনেকেই তখন আমার পক্ষে কথা বলে এবং ওই শিক্ষককে তার কথা ফিরিয়ে নিতে বলে। কারন, তিনি যেটা বলেছেন তা কখনোই কাম্য নয়।
মার্কিন শিক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র এই বিষয়ে বলেন, আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি এবং ইতোমধ্যে আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। সংবাদ মাধ্যম ওই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।
নাগরিক অধিকার সংস্থা সিএআইআরের আইন বিষয়ক পরিচালক আহমেদ মুহাম্মদ বলেন, আমরা যথাযথ ও নিরাপেক্ষ তদন্ত করতে চাইছি। এটা একটা ইসলামফোবিক ঘটনা। আমরা আশা করবো মার্কিন শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
দুহার বন্ধু আবিগালি রিভেরা বলেন, দুহার ঘটনাটাই একমাত্র ঘটনা নয়। এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদেরকে বর্ণবাদসহ নানা রকমের বৈষম্যের শিকার হতে হয়। কিন্তু দুহার জন্য ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা একটি গ্রুপ গঠন করেছে যার নাম দেওয়া হয়েছে ইয়াং আইডলিস্ট যাদের কাজ একে অন্যকে সহায়তা করা।
দুহার স্কুলের এক শিক্ষার্থী মেলানি লুইস বলেন, স্কুল এমন একটি স্থান যেখানে আমাদের শেখানো হয় কীভাবে আমরা একে অপরকে সম্মান করতে পারি এবং নিজেদেরকে ভালবাসতে পারি। কিন্তু এটা সত্যিই কঠিন হয়ে যায় যখন আমরা অন্য শিক্ষার্থী প্রশাসন বা স্টাফ সদস্যদের দ্বারা কোনো বৈষম্যের শিকার হই।
আমান্ডা রেনল্ড বলেন, এটা সত্যিই হতাশাজনক যে একজন শিক্ষক যখন পুরো ক্লাসের সামনে কোনো শিক্ষার্থীকে এই ধরণের কথা বলেন। এটা আড়ালেও হয়নি, সকলের সামনে হয়েছে। এটা সত্যিই লজ্জার। দারাহ ব্যারেনলটজ বলেন, তিনি অনেক শিক্ষার্থীকেই অপমান করেছেন। আমি সত্যিই মনে করিনা তিনি আর সম্মান আশা করতে পারেন আমাদের থেকে।
আর সব মিলিয়ে স্বস্তিবোধ করছেন না দুহা। তিনি বলেন, আমি প্রচন্ড লজ্জাবোধ করছিলাম আর মনে হচ্ছিলো ক্লাস ছেড়ে চলে যাই। আমি আর শেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। আমার পড়াশুনাতেও অনেক অসুবিধা হয়।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •