বদলগাছীতে ইটভাটার গ্রাসে তিন ফসলি জমি

প্রকাশিত:সোমবার, ০৫ এপ্রি ২০২১ ০৩:০৪

বদলগাছীতে ইটভাটার গ্রাসে তিন ফসলি জমি

প্রতিনিধি বদলগাছী (নওগাঁ) ঃ
নওগাঁর বদলগাছীতে ইটভাটার গ্রাসে যত্রতত্র ভাবে ৩ ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর কাটার হিরিক। এসব ফসলি জমির উর্বর মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটায়। উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খননের নামে মাটি কেনা-বেচার কয়েকটি সিন্ডিকেটও তৈরি হয়েছে। কৃষি জমি সংরক্ষনে প্রশাসনের তেমন কোন ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভাটা মালিক ও এক শ্রেনীর মাটি ব্যবসায়ীরা মোটা অংকের অর্থের লোভ দেখিয়ে জমির মালিকদের বাধ্য করা হচ্ছে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খনন করতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের খাদাইল গ্রামের একটি মাঠে ড্রেজার মিশিন দিয়ে ট্রাক্ট্রর লাগিয়ে মাটি কাটার দৃশ্য। আর এই মাটি বহনকারী ট্রাকের বেপরোয়া ভাবে চলাচলের কারণে ধুলোবালি উড়ে জনস্বাস্থ্যও পড়েছে হুমকীর মূখে।
ব্যহত হচ্ছে পথচারীদের চলাচল। এলাকাবাসী বলেন, খাদাইল বাজারের পূর্ব পার্শ্বে সরকার ব্রিক্স সহ নতুন ৩ টি ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। মিঠাপুর বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে এন.আর.বি ব্রিক্স। এছাড়াও অন্যান্য ইটভাটার মাটি বহনকারী ট্রাক বেপরোয়া ভাবে চলাচল করছে।
প্রতিদিন একই রাস্তাদিয়ে শতশত মাটিবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ পাঁকা ও কাঁচা সড়কগুলো ভেঙ্গে এবং ধুলো-বালিতে পরিপূর্ন হয়ে পড়েছে।
পুকুরপাড় গ্রামের সোহেল, আলাল মন্ডল ও আনোয়ার বলেন, প্রতিদিন শতশত মাটিবাহী ট্রাকের ধুলায় রাস্তা-ঘাটে বের হওয়া যায় না। ঘরের জানালা খুলে রাখা যায় না। অস্বাস্থকর পরিবেশে আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে।
খাদাইল গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, আমার সামান্য জমি সেখানে আমি ফসল করি কিন্তু এবছর আমার জমির দুই পার্শ্বে পুকুর কাটা হয়েছে বাধ্য হয়ে আমাকে সেই জমি বিক্রয় করতে হলো। সেখানে পুকুর কেটে ভাটায় মাটি নিয়ে যাচ্ছে।
কসবা গ্রামের আব্দুস সালাম সহ স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা সবাইকে ম্যানেজ করে মাটির ব্যাবসা করি।
খাদাইল গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের মাটিবাহী বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় উজ্জল নামে এক ছেলে নিহত হয়। এসময় তারা উজালপুর গ্রামে অসিত মেম্বারের জমিতে মাটি কাটছিল। উজ্জল নিহতের ঘটনায় গ্রামের দুই যুবক খননযন্ত্র এসকেভেটর (ভিকু) মিশিন আটকে দিলে তাদেরকে মারপিট করে মাটি ব্যবসায়ী মিজানুর সেই ভিকু মিশিনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ১ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সুমন জিহাদী উজালপুর এলাকায় অবৈধ্যভাবে পুকুর খননস্থলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলে মাটি ব্যবসায়ী মিজানুর ও জমির মালিক অসিত মেম্বার পালিয়ে যায়। ঐদিন জগৎনগর গ্রামে অবৈধ্য পুকুর কাটার দায়ে চাঁনমিয়া নামের একজনের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত। সেই সাথে জরিমানা করেন খননযন্ত্র এসকেভেটর (ভিকু) ড্রাইভার ও শ্রমিকের।
এবিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী মিজানুরের সংগে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, এ পর্যন্ত আমি ৬ বিঘা জমিতে পুকুর কেটে মাটি বিক্রি করেছি। আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই মথুরপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ভাইয়ের পুকুর কেটে মাটি বিক্রি করব। আমি ইউএনও অফিসের পরামর্শ নিয়ে মাটি বিক্রি করি। কারো ক্ষমতা থাকলে এসে যেন ঠেকায়। যে ছেলে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছে তার জন্য আমি দায়ী না।
এবিষয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সুমন জিহাদী বলেন, অবৈধ ভাবে ফসলী জমি নষ্ট করে যারা পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •