

আল আমিনঃ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। আদালত তাকে জেল-জরিমানা দুটিই করেছেন। তিনি এখন কারাগারে আছেন। তিনি কবে নাগাদ জামিন পাবেন, তার জেলজীবন দীর্ঘ হবে কি না, তা নিয়ে নানামুখী আলাপ-আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা চলছে। আদালত কর্তৃক খালেদা জিয়া দন্ডিত হওয়ায় তার রাজনৈতিক জীবন এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পরিণতির দিকে যাবে সে আলোচনাও রাজনৈতিক মহলে আছে। রাজনৈতিক পন্ডিতেরা নানারকম ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। কেউ বলছেন, বিএনপি এক গভীর সংকটে পড়েছে, আবার কেউ বলছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় বিএনপির লাভ হয়েছে।
বিএনপির দাবি, তাদের নেত্রীকে জেলে নেয়ায় প্রতিদিন নাকি আওয়ামী লীগের ৩০ লাখ ভোট কমছে। এ হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, তা আমরা জানি না। যদি এ বক্তব্য সত্য বলে ধরে নেয়া হয়, তাহলে এক মাসের মধ্যে দেশে আওয়ামী লীগের আর কোনো ভোট থাকবে না, সব ভোট বিএনপির হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে বিএনপির তো উচিত খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দেয়া! খালেদা জিয়া জেলে থাকলে আওয়ামী লীগ শেষ।
সরকার তথা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এটা একাধিকবার স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সংলাপ হবে না। সরকার চাপে থাকলে বা বেকায়দায় থাকলে সাধারণত বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে। কিš‘, আমাদের দেশের সরকার কোনো চাপে নেই, ক্ষমতায় থাকতে তাদের সামনে বড় রকমের কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। কাজেই খালেদা জিয়ার যদি শাস্তি না-ও হতো, তাহলেও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতো বলে মনে হয় না।
খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পরও যেমন শান্ত-স্বাভাবিক থাকলো, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে cÖ¯‘wZ নিয়েছিল, সেভাবে তাদের শক্তি প্রয়োগ করতে না হওয়ায় সরকার নিশ্চয়ই স্বস্তি অনুভব করছে। বিএনপি এখন ধীরে ধীরে জনমত গঠন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে জোরদার করে তুলবে বলে যারা মনে করছেন, তাদের হিসাবেও ভুল আছে।
দেশে আর কোনো ইস্যুত বড় গণআন্দোলন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যায় না। আন্দোলনের বারোটা বাজিয়েছে বিএনপি। সরকারের প্রতি কিছু কিছু কারণে মানুষের ক্ষোভ-অভিমান আছে; wKš‘, সেজন্য বিএনপির প্রতি মানুষ ঝুঁকে পড়েছে তেমনটা মনে করারও কোনো কারণ নেই। মানুষ সরকারের সমালোচনা করছে বলেই যারা মনে করছেন বিএনপির জনসমর্থন বাড়ছে, তারা সঠিক ভাবে বুঝতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপির এ সরল হিসাব বোধহয় রাজনীতিতে আর চলবে না। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি জেলে গিয়েছেন। কোনো রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাগারে যেতে হয়নি। কাজেই তিনি জেলে গিয়েছেন বলেই তার প্রতি সহানুভূতি বাড়বে না। রাজনৈতিক কারণে জেলে গেলে সাধারণ মানুষের মনে যে সহানুভূতি তৈরি হয়, দুর্নীতির কারণে জেলে গেলে তা হওয়ার কথা নয়। বিএনপি যতই বলুক যে, সাজানো মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে, সেটা মানুষের কাছে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে মনে হয় না ।
খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর লন্ডনে বসবাসকারী তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়ে বিএনপি খুব রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মনে হয় না। তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হলেও তার সম্পর্কে পাবলিক পারসেপশন ভালো নয়।
তবে খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর কোনো ধরনের হঠকারী কর্মসূচি না দিয়ে বিএনপি একদিকে যেমন রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে। বিএনপি আশঙ্কা করছে, সরকার বিএনপি ভাঙার নীলনকশা করেছে। বিএনপি দুর্বল হোক সরকার সেটা চাইতেই পারে। সরকার বিএনপি ভাঙার জন্য নেপথ্যে কলকাঠি নাড়লে নাড়তেও পারে। প্রশ্ন হলো, বিএনপি সরকারের ফাঁদে পা দেবে কি না? বিএনপি যদি খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে বিএনপিতে ভাঙন দেখা দেয়া অনিবার্য হতে পারে। বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে দলটি ভয়াবহ সংকটে পড়বে। দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। কিছু নেতাকর্মী ধৈর্যচ্যুত হয়ে দলত্যাগ করতে পারেন। বিএনপি যদি নির্বাচনের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে রাজনীতিতে এককদম এগিয়ে থাকবে বিএনপি।