

ডেস্ক রিপোর্ট : মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ ৫ মার্চ প্রাক-মোতায়েন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, রণতরীটি তার এসকর্ট জাহাজ ও এয়ার উইংসহ সেই সমন্বিত প্রশিক্ষণ মহড়া শেষ করেছে, যা জাতীয় পর্যায়ের মিশনে অংশ নেওয়ার আগে প্রতিটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সম্পন্ন করতে হয়।
বর্তমানে ইরানের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন রয়েছে। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মোতায়েন সময় বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ফোর্বস।
ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মার্কিন নৌবাহিনীর দশম ও সর্বশেষ নিমিটজ শ্রেণির বিমানবাহী রণতরী। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের নামে নামকরণ করা হয়েছে, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর বৈমানিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও বিমানচালক এই রণতরীতে অবস্থান করতে পারেন। ২০০৯ সালের মে মাসে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রায় ১,০৯২ ফুট দীর্ঘ এই জাহাজটির পূর্ণ বোঝাই অবস্থায় ওজন এক লাখ টনের বেশি। এতে দুটি পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে, যা চারটি স্টিম টারবাইন চালিয়ে জাহাজটিকে ঘণ্টায় ৩০ নটের বেশি গতিতে চলতে সক্ষম করে। এর ফ্লাইট ডেকের আয়তন প্রায় সাড়ে চার একর। এই রণতরীতে সর্বোচ্চ ৫৬টি ফিক্সড-উইং যুদ্ধবিমান—যেমন এফ/এ-১৮ হর্নেট ও সুপার হর্নেট—এবং প্রায় ১৫টি হেলিকপ্টার বহন করা যায়। প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে বিমান উড্ডয়ন করতে পারে। দীর্ঘ সময়ের উড্ডয়ন কার্যক্রম চালাতে জাহাজটিতে প্রায় ৮,৫০০ টন বিমান জ্বালানি মজুত থাকে।
২০১৭ সালে এটি ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এ অংশ নিয়ে সিরিয়া ও ইরাকে আইএসবিরোধী বিমান হামলায় সহায়তা করে। এছাড়া ২০২২–২৩ সালে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েনের সময় ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন মহড়ায় অংশ নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখে। সূত্র: এনডিটিভি