বিষাদময় হয়ে আছে মিঠাইপল্লি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ  পয়লা বৈশাখকে ঘিরে প্রতিবছর বগুড়া সদর উপজেলার হরিপুরের মিঠাইপল্লি সরগরম হয়ে ওঠে। ঘরে ঘরে কদমা, মুড়ি, মুড়কি, নিমকি, মোয়া, খাগড়াই, বাতাসা, জিলাপিসহ হরেক রকমের মিঠাই তৈরির কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। করোনাকালে বৈশাখ এলেও সে কর্মযজ্ঞ ফিরে আসেনি মিঠাইপল্লিতে। গত বছরের মতো এবারও তাই হতাশ কারিগরেরা।

Manual7 Ad Code

পয়লা বৈশাখের দিনই শুরু হতে যাচ্ছে কঠোর লকডাউন। তাই আয়োজন করে উদ্‌যাপিত হবে না বৈশাখ, বসবে না মেলা। তাই মিঠাইপল্লি এখন সুনসান।

হরিপুর গ্রামের অর্ধশত কারিগরের জীবন-জীবিকা বাঁধা পড়েছে মিঠাই তৈরির এ পেশায়। গ্রামীণ মেলা, দুর্গাপূজা, জলসায় মিঠাই তৈরি হলেও বৈশাখকে ঘিরে চলে অন্য রকম তৎপরতা। এ ছাড়া বছরের ৯ মাস তাঁরা মিঠাই বানিয়ে মেলা-উৎসবে বিক্রি করেন। বাকি তিন মাস ভ্যান চালিয়ে অথবা কারখানায় শ্রম দিয়ে সংসার চলে তাঁদের।

Manual3 Ad Code

গ্রামের ১৪ জন কারিগর একটি মিঠাই কারখানা দিয়েছেন। রণজিৎ চন্দ্র দাস নামে এক কারিগর বলেন, “বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে এক মাস আগে থেকেই প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ কেজি মিঠাই তৈরি করতেন তাঁরা। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মণ মিঠাই তৈরি হতো। এসব মিঠাই এলাকার বিভিন্ন মেলা ছাড়াও পাইকারদের হাত ধরে দেশের বিভিন্ন মেলায় বিক্রি হতো।”

হরিপুর গ্রামে প্রায় ৩০০ হিন্দু পরিবারের বসবাস। বেশির ভাগই হতদরিদ্র। ষাটের দশক থেকে হরিপুরের লোকজন বাড়িতে তৈরি মুড়িমুড়কি ও গুড়ের মিঠাই ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নব্বইয়ের দশকে হরিপুরের রণজিৎ চন্দ্র দাস জয়পুরহাটের বাগজানা বাজারের কারিগর কালিচরণ মোহান্ত ও কমল মোহান্তের কাছ থেকে পাইকারি দরে বিভিন্ন মিঠাই কিনে বগুড়ার বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করতেন।

Manual7 Ad Code

রণজিতের দেখানো পথ ধরেই গ্রামের আরও ২০–২৫ জন মিঠাই তৈরির পেশায় জড়িয়ে পড়েন। বংশপরম্পরায় গ্রামের অনেকেই এখন এ কাজ করেন। কিন্তু গত বছর থেকে কাজ বন্ধ থাকায় মিঠাই তৈরির গ্রামটি এখন যেন বিষাদের গ্রামে পরিণত হয়েছে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code