যশোরের মাঠে শুরু হয়েছে বোরো আবাদ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual8 Ad Code

বেনাপোল (যশোর) :
যশোরে শুরু হয়েছে ইরি (বোরো) ধানের মৌসুম। ইতিমধ্যে যশোরে ইরি-বোরো আবাদে কৃষকরা শুরু করেছে জমি প্রস্তুতের কাজ। কোথাও কোথাও ধানের চারা রোপণও শুরু হয়েছে। চারা লাগানো জমির যতদূর চোখ যায় ধানের কচি পাতায় সবুজ আকৃতি।
উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলন ঘরে তুলবেন সে প্রত্যাশায় বোরো নিয়ে এত ব্যস্ততা এ অঞ্চলের কৃষকদের।

Manual8 Ad Code

মাঠে মাঠে চলছে বোরো রোপণের কর্মযজ্ঞ। এ বছর বৃষ্টির পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম থাকায় অনেক বিলেও বোরো রোপণ শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে তৈরিকৃত জমিতে চারা রোপণ করছেন। আবার কেউ জমিতে পানি আটকানোর জন্য জমির আইল (সীমানা প্রাচীর) শক্ত করে বাঁধছেন। ফলে তীব্র শীতেও ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকদের দম ফেলার সময় নেই।

Manual1 Ad Code

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে, পরিপূর্ণ শীতে মাঘ মাসের শুরুতেই যশোর অঞ্চলে ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয়। এবার আবহাওয়া ভালো হওয়ায় পৌষের মাঝামাঝি সময় থেকে কৃষকরা জমি তৈরি এবং ধানের চারা রোপণ করতে শুরু করেছেন। যশোর জেলার আট উপজেলায় এক লক্ষ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
তার মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬ হাজার হেক্টর, শার্শা উপজেলায় ২১ হাজার হেক্টর, ঝিকরগাছা উপজেলায় ১৯ হাজার হেক্টর, চৌগাছা উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টর, অভয়নগর উপজেলায় ১৪ হাজার হেক্টর, বাঘারপাড়া উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর, মণিরামপুর উপজেলায় ২৮ হাজার হেক্টর, কেশবপুর উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়া এলাকার কৃষক বাবলুর রহমান জানান, এবার রোপা আমনের ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাই লোকসান কাটিয়ে উঠার আশা নিয়ে এবারও বোরো চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

একই এলাকার কৃষক রুবেল হোসেন জানান, দুই বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছিলাম। জমি থেকে সরিষা কেটে নিয়ে ইরি-বোরো আবাদ করছি। ইতোমধ্যে জমি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এবার বিঘাপ্রতি চারারোপণ করতে ১৪ থেকে ১৫ শ’ টাকা খরচ হয়েছে। যা অন্যবারের চেয়ে তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা বেশি। তাছাড়া স্যালোইঞ্জিনে সেচ দিয়ে বোরো চারা রোপণ করার কারণে আবাদে খরচ বেশি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ইউরিয়ার পাশাপাশি নন-ইউরিয়া ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া এ বছর বোরো চারার তেমন কোনো সংকট থাকবে না। চলতি মৌসুমে সেচ সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনসহ অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাবাদী।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code