সিরাজদিখানে ৩২ টি অবৈধ ইটভাটা বহাল তবিয়তে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসে ২০১৯ ০৬:১২

সিরাজদিখানে ৩২ টি অবৈধ ইটভাটা বহাল তবিয়তে

 

সালাহউদ্দিন সালমান, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)প্রতিনিধি ॥
পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশ অনুযায়ী শুধুমাত্র সিরাজদিখানে অর্ধশত ইটভাটার মধ্যে প্রশাসন অবৈধ ঘোষণা করেছে ৩৭ টা সেখানে মাত্র একদিন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ৫ টি ইটভাটা কে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিলো।বাকী ৩২টি অবৈধ ইটভাটার অবস্থান জানাতে স্থানীয় লোকমুখে চলছে কাণাঘোষা।জানায়ায় হাই কোর্টের নির্দেশের পর থেকে নড়েচড়ে বসে ছিলো মুন্সীগঞ্জের প্রশাসন,অধিকাংশ ইট ভাটার স্থান সিরাজদিখান উপজেলায় হওয়াতে সিরাজদিখান দিয়েই শুর হয়েছিলো উচ্ছেদ অভিযানের অভিযাত্রা।সিরাজদিখান উপজেলায় আবাসন এলাকার এক কিলোমিটারের ভিতরে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা এবং সনাতন উপায়ের চিমনি দিয়ে গড়া উঠা ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ অভিযানে খুব জোরেশোরে মাঠেও নেমেছিলো স্থানীয় প্রশাসন।মাত্র একদিনের উচ্ছেদ অভিযানে সিরাজদিখানে পাচটি ইটাভাটাকে উচ্ছেদ ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দিনব্যাপী বালুচর ইউনিয়নের মোল্লা কান্দি গ্রাম, বাসাইল ইউনিয়নের উত্তর গোয়াখালা গ্রাম এবং লতব্দি ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালিত করেন।পরিবেশ অধিদফতর থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মেসার্স মোল্লা ব্রিকসকে ৮লাখ টাকা, মেসার্স আকাশ ব্রিকসকে ৫লাখ টাকা, মেসার্স কেবিসি ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা ও মেসার্স মায়ের দোয়া ব্রিকসকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।কারণ হিসেবে জানাযায়, এসব ভাটাগুলো সনাতন পদ্ধতিতে ইট তৈরির মাধ্যমে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। মামা ভাগিনাকে ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বাকিগুলো জরিমানাসহ পানি ছিটিয়ে ইট, কাঁচামালসহ সব বিনষ্ট করে দেওয়া হয় । তবে গত বছর যেসমস্ত ইটভাটাকে পরিবেশ অধিদফতর ও স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ ঘোষণা করেছিলো এবং মোটা অংকের টাকা জরিমানা করেছিলো এখনো সে সমস্ত ইটভাটা গুলো দাপটে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।এবছর তালিকাভুক্ত ৩৭ টি অবৈধ ইটভাটায় তাদের নাম আছে কিনা তারা সেটাও জানেনা অথচ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় অন্যচিত্র জানায়ায় পরিবেশ অধিদফতরের সাথে যোগসাজশে তারা এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন। উপজেলার ১৪টি
ইউনিয়নের মধ্যে কেয়াইন,বাসাইল ও বালুচর ইউনিয়নে প্রায় ৫৫ টির বেশি ইটভাটা রয়েছে। অধিকাংশ ইটভাটায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইট পোড়ানোর কাজ।এছাড়া একেবারে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফসলি জমিতে স্কুল মাদ্রাসার পাশেই গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।

পরিবেশ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত বাকী আরও ৩২টি অবৈধ ইটভাটার অবস্থান জানাতে চাইলে ইটভাটা সমিতির সাধারন স¤পাদক আব্দুল মান্নান বলেন,বাকি ইটভাটা গুলোর স¤পর্কে এখনো আমরা সঠিক বলতে পারিনা কি হয়।আর পরিবেশ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত ৩৭টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ৯ টি ইটভাটা আগে থেকেই কার্যক্রম বন্ধ এবং ৫ টি কে জরিমানা করেছে।বাকিগুলোর কাগজপত্র কিছু রেডি হয়েছে দেখি সামনে কি হয়।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: নয়ন মিয়া জানান,হাই কোর্টের নির্দেশ মতে,অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান করে প্রথম দাপে সিরাজদিখান উপজেলায় ৫ টি কে জরিমানা করেছি তবে অতিশীঘ্রই আরও ৩ দফা অভিযান চালাবো।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •