

সম্পাদকীয়: গত এক দশকে পুরান ঢাকায় তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। নিমতলীর রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এখনো আমাদের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। সেই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১২৪ জন। ওই ঘটনার পর পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু স্থানান্তরিত হয়নি সেসব গুদাম অথবা কারখানা। এরই মধ্যে নিমতলী থেকে ১ কিলোমিটার দূরে চুড়িহাট্টায় ঘটে আরেকটি অগ্নিকাণ্ড, যে ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৭৮ জন। এ অগ্নিকাণ্ডও ঘটেছিল রাসায়নিক পদার্থ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল ও কেমিক্যালসংশ্লিষ্ট প্রায় ২ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ট্রেড লাইসেন্সও নেই। অর্থাৎ কেমিক্যাল ব্যবসা চলছে অবৈধভাবে।
এসব ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার কোনোটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তদন্ত কমিটি হয়। তদন্ত কমিটি কেমিক্যাল কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশও করে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে কেমিক্যাল কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার। কিন্তু আশ্চর্যই বলতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠানকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘ সময়েও নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। আর এ কারণেই পুরান ঢাকার কামালবাগ, ইসলামবাগ ও চকবাজার এলাকায় দেদার চলছে কেমিক্যাল বিক্রি ও এর ব্যবহার। গুদাম থেকে ট্রাকে করে বিভিন্ন কারখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেমিক্যাল। সোমবারের দুর্ঘটনার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবারও দেখা গেছে পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল বিক্রি ও পরিবহণ হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন হলো, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের গুদাম ও কারখানা কবে সরিয়ে নেওয়া হবে? ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম ও কেমিক্যালজাতীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নাকি শিল্প মন্ত্রণালয় কাজও করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।