অতিমাত্রায় স্ক্রিনে তাকালে শিশুদের যেসব মারাত্মক ক্ষতি হয়

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

বর্তমানে অনেক বাচ্চাদেরই ডিজিটাল ডিভাইসের সামনে বসিয়ে দেন বাবা-মায়েরা। এতে আস্তে আস্তে শিশুরা মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের মতো ডিজিটাল স্ক্রিনে বেশি সময় কাটাতে চায়। এই করোনাকালীন সময়ে এই অভ্যাস বাচ্চাদের বেড়েছে। দিনের একটা লম্বা সময় তারা ডিজিটাল স্ক্রিনে কাটাচ্ছে। শিশুরা বেশি সময় ধরে ডিজিটাল স্ক্রিনে সময় কাটালে কয়েকটি মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। চলুন এসব ক্ষতি সম্পর্কে জেনে নিই-

Manual1 Ad Code

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক গবেষণায় জানিয়েছে, বেশি সময় স্ক্রিনে কাটালে বাইরে যাওয়া ও শারীরীক কসরত কমে যায়। শিশুরা বাইরে খেলাধুলা করা বা দৌড়াদৌড়ি করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যার কারণে শিশু-কিশোরদের ওজন বৃদ্ধি ও স্থুলতাজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

Manual7 Ad Code

দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া:

শিশু হোক বা বয়স্ক, ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে বেশি সময় কাটালে চোখের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দেয় শিশু ও কম বয়সীদের। তাদের মধ্যে মায়োপিয়া নামের এক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার ফলে, তারা দূরের জিনিস ঝাঁপসা দেখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল স্ক্রিনে মুখ গুঁজে থাকা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সূর্যের আলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে না তাকানোর কারণে এমনটি হয়ে থাকে।

শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশে বাধা:

যু্ক্তরাষ্ট্রে সাড়ে চার হাজার শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা দুই ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে সময় কাটায়, ৯-১১ ঘণ্টা ঘুমায় এবং এক ঘণ্টা অন্যান্য শারীরীক কসরত করে তারা যেসব শিশুরা এসব নিয়ম মানে না তাদের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকে। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা বলছেন, ১৮ মাস বয়স হওয়ার আগে শিশুদের স্ক্রিন দেখানো উচিত নয়। এই বয়সে শিশুরা বেশি সময় স্ক্রিনে কাটালে ভাষা শিখতে বা কথা বলতে দেরি হতে পারে এবং তারা মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারে না। এমনকি তাদের মস্তিষ্কের বিশাকের ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বাচ্চারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ডিজিটাল মুখি হয়ে পড়লে তাদের মধ্যে মনোযোগহীনতা, বিস্মৃতি এবং অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা দেখা দেয়।

বিষন্নতা ও উদ্বেগ:

যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বেশি পরিমাণে টেলিভিশন দেখার কারণে শিশু ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এর কারণে নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া, আত্মমর্যাদা কমে যাওয়া ও মন খারাপ হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এছাড়া যারা কম্পিউটার বা ভিডিও গেমে বেশি সময় কাটায় তাদের মধ্যে মানসিক সমস্যা, বিষন্নতা ও উদ্বেগ দেখা দেয়।

Manual2 Ad Code

বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা কমে যাওয়া:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের অধ্যাক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, মানুষ যখন বেশি সময় ধরে স্ক্রিনের সামনে থাকে তখন সে এক ধরনের পরোক্ষ গ্রহীতা হয়ে যায়। ফলে তার সামনে যদি এমন কোনো কন্টেন্ট আসে যা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না, সে যদি সেগুলো গ্রহণ করতে থাকে তাহলে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা কমে যায়। একসময় সে আর কঠিন কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

যা করা জরুরি:

এতক্ষণ যেসব শারীরীক এবং মানসিক সমস্যার কথা আমরা জানলাম। সেগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে। ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো পরিচালিত এক গবেষণা বলছে, মানুষ যদি প্রতিদিন স্ক্রিন টাইম দুই ঘণ্টা কমিয়ে দেয় তাহলে সাধারণ মৃত্যুহার ৫.৬২ এবং হৃদরোগে মৃত্যুহার ৭.৯৭ ভাগ কমিয়ে আনা যায়।

স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনতে হলে অবসর সময়ে কী করবেন সে বিষয়ে পরিকল্পনা করুন এবং লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন, গল্পের বই পড়া, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো বা ঘুরতে যাওয়া। নতুন কিছু শেখা বা কোনো শখ থাকলে সে সম্পর্কিত কাজও করতে পারেন। আর অবশ্যই বাড়ির শিশুদের এই কাজে যুক্ত করুন। সূত্র: বিবিসি

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code